টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে ছয় হাজার শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গ্রামীণফোন

চট্টগ্রাম, ১০ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): বছর জুড়ে বইপড়া কর্মসূচিতে নিজের উৎকর্ষতার পরিচয় দেয়ার জন্য চট্টগ্রামে ছয় হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গ্রামীণফোন।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় নগরীর সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম সিটি কর্রোরেশনের সম্মানিত মেয়র জনাব আ.জ.ম নাছির উদ্দীন ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এবং গ্রামীণফোনের হেড অব চট্টগ্রাম সার্কেল জনাব শাওন আজাদ আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন ।

উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ও সেকায়েপ এর প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ মাহামুদ-উল-হক; চট্টগ্রাম বিভাগের সম্মানিত ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার বেগম সারওয়ার জাহান; চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান; লেখক ও সাংবাদিক জনাব আবুল মোমেন; জনপ্রিয় লেখক, নাট্যকার ও দৈনিক প্রথম আলো’র যুগ্ম-সম্পাদক জনাব আনিসুল হক; চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ আবুল হোসেন; চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. গোলাম ফারুক; গ্রামীণফোনের হেড অব সার্কেল, চট্টগ্রাম জনাব শাওন আজাদ; চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজিয়া আখতার; বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক জনাব শরিফ মোঃ মাসুদ এবং চট্টগ্রাম মহানগরের সংগঠক ও সহযোগি অধ্যাপক আলেক্স আলীম।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮১টি স্কুলের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে মূল্যায়নপর্বে যারা কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে, তাদেরকে পুরস্কার প্রদানের জন্য গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় দুইদিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথিদের গল্প শুনে তাঁদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে ছাত্রছাত্রীরা বইপড়ার বিষয়ে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত মেয়র জনাব আ.জ.ম নাছির উদ্দীন পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ছাত্রছাত্রীদের শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে একজন সার্টিফিকেট ধারী শিক্ষিত না হয়ে তাদেরকে বই পড়ার মাধ্যমে মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন একজন মানুষ হতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে এব্যাপারে অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ শুরুতেই অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান এই বইপড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের সহযোগিতা করার জন্য। তারপর তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানুষকে যদি মর্যাদা অর্জন করতে হয় তাহলে অনেক কিছু করতে হবে। তিনি আলাউদ্দিনের দৈত্যের গল্পের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের ভেতর আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্যের মতো একজন অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ বন্দী অবস্থায় আছে । তাকে জাগানোই হল আসল কাজ, যা বইপড়ার মাধ্যমে করা যায়। তোমরা যদি সেই কাজটা করতে পারো, তবে বাংলাদেশ একদিন সত্যি সত্যিই শ্রেষ্ঠ দেশ হিসেবে পরিচিত হবে।

গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে শাওন আজাদ বলেন, “আমাদের চলার পথ কখনোও মসৃণ নয়। তবে জ্ঞান আমাদের চলার পথকে মসৃণ করে। আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। সারাদেশে বইপড়া কর্মসূচি এভাবে বাড়তে থাকলে দেশে আর অন্ধকার থাকবে না, আলোয় ভরে যাবে। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন তোমরা বেশি বেশি করে বই পড়বে। আরো জানান http://www.alorpathshala.org ওয়েব সাইটে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই অনলাইনে পড়ার সুযোগ আছে যা ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল ছাত্রছাত্রীসহ উপস্থিত সকলকে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

জনপ্রিয় লেখক, নাট্যকার ও দৈনিক প্রথম আলো’র যুগ্ম-সম্পাদক জনাব আনিসুল হক বলেন, জীবনে সব কিছু করতে হবে। খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমও করতে হবে। জীবনে বড় কিছু করতে হলে বই পড়তে হবে। তিনি বিল গেটস এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন বিল গেটস প্রচুর বই পড়তেন। প্রচুর বই পড়ার কারণেই তিনি বিল গেটস হতে পেরেছিলেন।

লেখক ও সাংবাদিক জনাব আবুল মোমেন প্রথমেই পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি অন্যান্য প্রাণীর সাথে মানুষের তুলনা করে বলেন মানুষকে মানুষ হওয়ার জন্য সংগ্রাম করতে হয় কিন্তু অন্যান্য প্রাণীদের তা করতে হয় না। প্রকৃত মানুষ হতে হলে শিক্ষাকে ধারণ করতে হয়। বই থেকে আসে শিক্ষা ও আলো। তাই তিনি সবাইকে বেশি বেশি বই পড়ার আহবান জানান ।

চট্টগ্রাম মহানগরের সংগঠক ও সহযোগী অধ্যাপক আলেক্স আলীম তার বক্তব্যে উপস্থিত সকলকে ছড়ায় ছড়ায় অভিনন্দন জানান এবং শিক্ষার্থীদের বই পড়ে সুন্দর স্বপ্ন দেখার এবং সবুজ শহর গড়ার প্রেরণা দেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মোঃ মাসুদ স্বাগত বক্তব্যে পুরো বছর জুড়ে বইপড়া কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনায় সহায়তা করায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানান। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এই পথ চলায় সকলের সহযোগিতা উত্তরোত্তর আরো প্রসারিত হবে এবং আগামী বছর এই বইপড়া কর্মসূচির সদস্য সংখ্যা আরো উন্নীত হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মহানগরীর বইপড়া কর্মসূচির এই পুরস্কার বিতরণ উৎসবে আজ ৮১টি স্কুলের ছয় হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে চার হাজার ২৮৬ জনকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল তৃতীয় পর্বে দুই হাজার ২৭ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় সারাদেশে প্রায় দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইপড়া কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা মহানগরীর স্কুলসমূহের বিজয়ী ছাত্রছাত্রীকে বর্ণাঢ্য উৎসব মুখর পরিবেশে পুরস্কার প্রদান করা হয়। আগামী ২৪ মার্চ খুলনা মহানগরীর মোট তিন হাজার ৫৪৩ জন ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কার প্রদান করা হবে। পাঁচটি মহানগরীর বাইরে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজয়ী ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কার স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক আয়োজনের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

মতামত