টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সেতু আছে, সড়ক নেই !

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে


চট্টগ্রাম, ১০ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): বিলের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে একটি পরিপাটি সেতু ! দু‘পাশে নেই কোন সংযোগ সড়ক। চলে না কোন গাড়ি, নেই কারো পদচারণা। সেতুটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও হয়ে গেছে। কিন্তু সড়ক না থাকায় সেতুটির কোন সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না গ্রামবাসী। সড়ক নির্মাণ হলেই প্রাণ পাবে সেতুটি। সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখো মেলে ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নের রোসাংগিরী বিলের উপর এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হযরত লাতু শাহ সড়কে।

গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারী হালদার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সড়ক বিলিন হয়ে যাওয়াতে বিকল্প সড়ক হিসেবে গ্রামবাসীর নিজ উদ্যোগে ধানী জমির মধ্য দিয়ে এক কি.মিটারের এ সড়কের নিশানা তৈরীর কাজ শেষ হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থভাবে তারা সড়কটি পরিপূর্ণ করে চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারেননি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম সোয়াইব আল ছালেহীনের উদ্যোগে ইতিপূর্বে এ সড়কে দু‘টি সেতু নির্মিত হয়। কৃষি মন্ত্রনালয়ের বিএডিসি এর অধীনে পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সেতু দু‘টি নির্মিত হয়। যা গত বছরের জুলাই মাসে স্থানীয় সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী উদ্বোধন করেন। এ সড়কে নির্মিত দু‘টি সেতুর মধ্যে একটিতে সড়ক সংযোগ থাকলেও নেই অপরটিতে।

বেলাল উদ্দিন আকাশ নামক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে সেতু নির্মাণ হলেও পরিপূর্ণ সড়কের অভাবে তার সুফল ভোগ করা যাচ্ছে না। সংযোগ সড়কটি নির্মিত হলে নদীভাঙ্গনের কবলে পড়া এখানকার কয়েক হাজার মানুষের যাথায়াতের অন্যতম সড়ক হবে এটি।’

সড়কটি নির্মাণে ভূমিদাতা ও অন্যতম উদ্যোক্তা আলতাফ মিয়া বলেন, ‘সড়কটি নির্মিত হলে ওখাড়া, পূর্ব ধলই, দক্ষিণ রোসাংগিরী ও ছাদেক নগর গ্রামের বাসিন্দারা সহযে রোসাংগিরী শীলেরহাটসহ উত্তর রোসাংগিরীর সাথে সড়ক যোগাযোগ ঘটাতে পারবেন।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম সোয়াইব আল ছালেহীনে বলেন, ‘হালদার পাড় ভেঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের চলাচলের সড়ক বিলিন হয়ে গেছে। গ্রামবাসীর দানকরা ভূমির উপর নতুন করে একটি সড়ক সৃষ্টি হয়েছে। এটি যেন পরিপূর্ণভাবে সড়কে পরিনত করা যায় সেই লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের চলি­শ দিনের মাটি কাটা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আশা করি শীঘ্রই এখানে পরিপূর্ণ সড়ক নির্মাণ করে চলাচলের উপযোগী করা হবে।’

মতামত