টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে ১৬ হাজার যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী!

ইব্রাহিম খলিল 
প্রধান প্রতিবেদক,  সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ০৯ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): রাজধানীতে চলাচলের অনুপযোগী (ফিটনেসবিহীন) যানবাহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চললেও চলছে না চট্টগ্রামে। অথচ চট্টগ্রামেও চলছে ১৬ হাজার ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এ হিসাব সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)।

বিআরটিএ সূত্র বলছে, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের একটা বড় অংশ বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। এদের কোনো কোনোটি নিবন্ধনের পর আর কোনো দিন ফিটনেস সনদ নেয়নি। পাঁচ-সাত বছর ধরে ফিটনেস সনদ নেওয়া হয় না এমন যানবাহনও রয়েছে। ব্যক্তিগত কিছু গাড়ির মালিকেরাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিটনেস সনদ নেন না; যা ফিটনেসবিহীন যানবাহনের তালিকায় চলে যায়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একজন অধ্যাপক বলেন, যানবাহনে দিকনির্দেশক ইন্ডিকেটর লাইট দিয়ে এক চালক অন্য চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সে অনুযায়ী চালক ব্রেক কষে কিংবা হুইল ঘোরান। এর একটা ত্রæটিপূর্ণ হলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। সামান্য একটা ওয়েফার (গøাস মোছার সরঞ্জাম) না থাকার কারণেও গাড়ি বৃষ্টি বা কুয়াশায় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে। টায়ার ফেটে গিয়ে দুর্ঘটনা হয়। আকৃতি পরিবর্তন দুর্ঘটনার বড় কারণ। এর সবগুলোই ফিটনেসের সময় নিশ্চিত করার কথা। ফিটনেস না থাকা মানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা।

বিআরটিএর হিসাবে, চট্টগ্রামে নিবন্ধন নেওয়া যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। এর প্রায় অর্ধেক মোটরসাইকেল। তবে মোটরযান আইনে মোটরসাইকেলের জন্য ফিটনেস সনদ নেওয়ার নিয়ম নেই। বাকি সব যানের জন্য প্রতিবছর এই সনদ নিতে হয়। আর সনদ ছাড়াই চলছে ১৬ হাজার যানবাহন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির চট্টগ্রাম শাখার যুগ্ম সম্পাদক মো. মুছা এ প্রসঙ্গে বলেন, পরিসংখ্যান যা-ই বলুক না কেন, খালি চোখে দেখলেই মনে হয় চট্টগ্রাম মহানগরে চলাচলকারী গণপরিবহনের ৯৫ শতাংশ অনুপযুক্ত। ফিটনেস দেওয়ার পদ্ধতিতে গলদ আছে। সড়কে আইনের প্রয়োগও কম। গলদ সারতে সব স্থানে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু করতে হবে। আর আইনের প্রয়োগ জোরদার করতে হবে।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, ফিটনেসবিহীন যানের বড় অংশ চলছে চট্টগ্রাম মহানগর এবং এর আশপাশে। আর কিছু চলছে দূরের পথে। যেগুলোর একটিও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সাহায্যে ফিটনেস পরীক্ষা হয়নি। বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শকেরা চোখে দেখে ফিটনেস পরীক্ষা নেন।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজধানীর বিআরটিএর মিরপুর কার্যালয়ে স্বয়ংক্রিয় মেশিনে শুরু হয় যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা। গত অক্টোবর থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ বাস-ট্রাকের যন্ত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রথম দিকে অর্ধেকই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়। মোটরযান আইনে, মেয়াদোত্তীর্ণ না হলে ফিটনেস সনদ পরীক্ষায় ব্যর্থ যানবাহনকে ত্রæটি সারিয়ে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ভেহিকেল ইন্সপেকশন সেন্টার (ভিআইসি) নামের এই যন্ত্র ১৯৯৯ সালে প্রথম চালু করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ পাঁচটি বিভাগীয় কার্যালয়ে এসব যন্ত্র বসানোর পরপরই বিকল হয়ে যায়। এবার দক্ষিণ কোরিয়ার অনুদানে প্রায় ২২ কোটি টাকায় মিরপুরে পুনরায় যন্ত্র বসানো হয়েছে।

বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে লক্ষাধিক যানবাহনের ফিটনেস সনদ নেই যেমন সত্য, তেমনি যেসব যানের সনদ আছে, যন্ত্রে পরীক্ষা হলে সেগুলোর একটা বড় অংশই চলাচলের উপযুক্ততা হারাবে।

মোটরযান আইন বলছে, যানবাহনের ফিটনেস সনদ পাওয়ার মূল শর্ত হচ্ছে কারিগরি ও বাহ্যিকভাবে চলাচলের উপযোগী হতে হবে। এ ক্ষেত্রে যানবাহনের ৬০টির মতো কারিগরি ও বাহ্যিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এসব বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যানের ইঞ্জিনের পুরো কার্যকারিতা, আকৃতি ও নিবন্ধনের সময় উল্লেখ করা ওজন ঠিক আছে কি না। দেখতে হবে কালো ধোঁয়া বের হয় কি না এবং ব্রেক, লাইট ও বাহ্যিক অবয়ব ঠিক আছে কি না। এসব বিষয় নিশ্চিত হলেই ফিটনেস সনদ দেওয়ার নিয়ম।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলার পেছনে কতগুলো কারণ আছে। বিআরটিএর একশ্রেণির কর্মকর্তা ঘুষ নিয়ে অনেক সময় যানবাহন না দেখেই সনদ দিয়ে দেন। পুলিশ সড়কে কঠোর অবস্থান নিলে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল কমে যাবে।

জানতে চাইলে বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ পরিচালক মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন পরীক্ষা জন্য রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রামেও এ অভিযানের প্রক্রিয়া চলছে। যেনতেনভাবে লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন যাতে সনদ না পায়, সে জন্য স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বসানোর কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

মতামত