টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে ভবন!

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ০৯ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::: জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের সিআরবিতে অবস্থিত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের দৃষ্টি নন্দন প্রাচীণ ভবনটি। এ ভবনের বিভিন্নস্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাটল। খসে পড়েছে দেয়ালের আস্তরণ ও ইট সুরকী।

লাল দগদগে ভবনটি ওপরে ফিটফাট হলেও ভেতরে সদরঘাট। বৃষ্টি বাইরে যত পড়ে না, ভবনটির ভেতরে তার চেয়ে বেশি ঢুকে পড়ে। সব মিলিয়ে এক নিদারুণ কষ্ঠে আছে ভবনের বাসিন্দা রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যারা সবসময় থাকেন ভবনটি ধসে পড়ার আতঙ্কে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, দেশ ভাগ হওয়ার আগে ব্রিটিশরা নির্মাণ করেছিল এ ভবনটি। ১৮৯৭-১৯৭২ সালের মধ্যে কয়েক দফায় এটি নির্মিত হয়। প্রায় ২০ একর জায়গা নিয়ে এ ভবনটির অবস্থান। চার লাখ বর্গফুট এ ভবনটির আয়তন।

ভবনটির একপাশ দোতলা সমান উঁচু, অন্য দিকটা চারতলার সমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সর্বশেষ সংস্কার হয় ১৯৭২ সালে। ভবনটিতে রয়েছে অনেকগুলো কক্ষ, হলঘর, প্যাঁচানো সিঁড়ি, গম্বুজ, গাড়িবারান্দা এবং চারদিকে বিশাল করিডর।

ভবনটি বিভক্ত কয়েকটি বøকে। যেখানে প্রশাসন, প্রকৌশল, এস্টেট, অডিট, জনসংযোগসহ একাধিক বিভাগের অফিস রয়েছে। রয়েছে সোনালী ব্যাংকের কার্যালয় এবং একটি পোস্ট অফিস।

সিআরবি ভবনে প্রবেশ করতেই মনে হবে যেন রাজবাড়ি। ভবনের দক্ষিণ বøকের কেন্দ্রে খিলান বিশিষ্ট একটি দ্বিতল গাড়িবারান্দা আছে। ভেতরে একটি হলঘর যার শীর্ষে আছে গোলাকার গম্বুজ। ভবনের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে একটি টাওয়ার আছে। আছে একটি প্যাঁচানো সিঁড়ি। সিঁড়ির ওপর মোগল স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত একটি ছোট গম্বুজ রয়েছে। মূল প্রবেশপথের সিঁড়িতে বিছানো থাকে লাল গালিচা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ভবনটির দেওয়ালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল। বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি ছুঁইয়ে পড়ে। ভবনের অনেক স্থানে লোহা ও বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে ছাদ ধসে না পড়ে। বিশেষ করে ভবনের চার তলার অবস্থা খুবই নাজুক। নিয়মিতভাবে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ায় সবসময় স্যাঁতস্যাঁতে থাকে ভবনের মেঝে।

ভবনটিতে কাজ করেন রেলের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকসহ প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। এর বাইরে ঠিকাদারসহ হাজার খানেক মানুষ বিভিন্ন কাজে এভবনে আসা-যাওয়া করেন। রেলের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাইরের রঙের প্রলেপ দেখে ভবনের বর্তমান অবস্থা বুঝা যাবে না। যারা উপরে বসেন তাদের তো সবসময় আতঙ্ক নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। অথচ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম প্রকৌশলী আবদুল হাই বলেন, ভবন নির্মাণে ২০১০ সালে ২৭ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রায় সাত বছর পার হতে চললেও অনুমোদন মেলেনি সেই ডিপিপির। এরই মধ্যে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এ ভবনটি। বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ টিম সিআরবিসহ রেলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। দুই সদস্যের এ বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা জরুরি ভিত্তিতে ডিপিপি বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, সিআরবি ভবন সংস্কার-মেরামতে নিজস্ব উদ্যোগও নিয়ে রাখছে রেলওয়ে। বর্তমান আকৃতি ও কারুকাজ বজায় রেখে কীভাবে ভবনটি টেকসই করা যায় সেজন্য একটি বেসরকারি প্রকৌশল সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়া গেলে রেলের নিজস্ব অর্থেই বড় ধরনের সংস্কার-মেরামত কাজ করা হবে।

রেলেওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সহকারী প্রকৌশল গোলাম মোস্তফা বলেন, সিআরবি ভবন অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ। সেজন্য ভবনটির আসল সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য বজায় রেখে এটিকে দৃঢ় ও মজবুত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে ডিপিপির জন্য অপেক্ষা না করে প্রয়োজনে রেলের নিজস্ব অর্থে এ কাজটি করা হবে।

# ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম। ৮ মার্চ’১৭ ইং, বুধবার #

মতামত