টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এপ্রিলে চট্টগ্রামের শিকলবাহার ১৫০ মেগাওয়াট যাবে জাতীয় গ্রিডে

চট্টগ্রাম, ০৮ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চুক্তি মোতাবেক গত ফেব্রুয়ারি মাসেই উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রামের শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের। কিন্তু কারিগরি কারণে তা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ জানা গেছে, আগামী এপ্রিল মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পিডিবি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। মোট ২২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু হচ্ছে। অবশিষ্ট ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু হবে চলতি বছরের অক্টোবরে। পিডিবির প্রকল্প বিবরণী এবং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

পিডিবি সূত্র মতে, ২০১২ সালে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি একনেক অনুমোদন দেয় প্রকল্পটি। আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করলে ভারতীয় লারসেন এন্ড টাব্রু লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ পায়। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় কোম্পানিটির সাথে পিডিবির চুক্তি স্বাক্ষর হয় ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট এবং কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের ১৭ এপ্রিল।

প্রকল্প বিবরণী থেকে জানা যায়, ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সর্বমোট ব্যয় হচ্ছে দুই হাজার ২২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। প্রকল্পে সরকার সরাসরি অর্থায়ন করছে ৩৭১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দিচ্ছে ২৭৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। অবশিষ্ট অর্থ সৌদি আরবের ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি), কুয়েত ফান্ড, আবুধাবী ফান্ড ও ওপেক দিয়েছে। দাতারা চারটি দেশ প্রকল্পে এক হাজার ৩৭৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে।

প্রকল্পে পরামর্শকের কাজ করেছে ভারতের জেভিসিএ ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট, প্রাইভেট লিমিটেড, কুয়েতের সাইফ ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্ট এবং বাংলাদেশের কারিগরি পরামর্শ প্রতিষ্ঠান।

চুক্তি অনুযায়ী, মোট ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে প্রথম ধাপে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণ কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি বছরর অক্টোবরের ২ তারিখ। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও উৎপাদনে যেতে পারেনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রটি চালু করতে পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে পুরোদমে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়েছে। কেন্দ্রটি চালু করতে পরীক্ষামূলক কাজগুলো করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘চলতি মাসের ২৮ তারিখে উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে কারিগরি অন্যান্য কাজ শেষ করতে পারলে আগামী মাসের শুরুতে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।’

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, ডুয়েল ফুয়েল এবং কম্বাইন্ড সুবিধার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এ প্রকল্পে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এই ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানির সৃষ্ট তাপমাত্রা থেকে পরবর্তী ধাপের ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।

মতামত