টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে দুই থানার মাঝে হচ্ছে ‘বিশেষ থানা’

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম।

চট্টগ্রাম, ০৬ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  অপরাধ দমনে চট্টগ্রামে দুই থানার মাঝে হচ্ছে ‘বিশেষ থানা’। যেখানে চলবে শুধু গোয়েন্দা পুলিশের কার্যক্রম। অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য, রাজনৈতিক নেতাদের আপত্তিকর বক্তব্যসহ রাস্ট্রবিরোধী সকল তথ্য আগাম সংগ্রহই হবে এই গোয়েন্দা পুলিশের কাজ।

এমন কথাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার। তিনি জানান, নগরীর ১৬ থানাকে আটটি জোনে বিভক্ত করে নগরজুড়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ। এজন্য মাঠ পর্যায়ে স্থাপন করা হয়েছে ৮টি গোয়েন্দা কার্যালয়। প্রতিটি কার্যালয়ে দেয়া হয়েছে আলাদা জনবল।

তিনি বলেন, নগরীর দুইটি থানা মিলে একটি জোন করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের কার্যালয় করা হয়েছে দুই থানার মধবর্তী স্থানে। জোনগুলো হল- আকবরশাহ ও খুলশী থানা, পাহাড়তলী ও হালিশহর থানা, কোতোয়ালী ও সদরঘাট থানা, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামি থানা, চকবাজার ও চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও কর্ণফুলী, ডবলমুরিং ও বন্দর, পতেঙ্গা ও ইপিজেড থানা।

প্রত্যেক জোন অফিসে একজন পরিদর্শক, দুজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) এবং তিনজন কনস্টেবল দেয়া হয়েছে। আর একজন উপ-কমিশনারের নেতৃত্বে নিয়ন্ত্রক কক্ষ থাকছে সিএমপি সদর দপ্তরেই।

তিনি আরো বলেন, প্রশিক্ষণে থাকায় নগর পুলিশে এখনো কিছু অফিসার স্বল্পতা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা যোগ দিলে এ কার্যক্রম আরো জোরালো হবে।

ইকবাল বাহার বলেন, নগর পুলিশের বিশেষ শাখার মাধ্যমে যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হয় তার মধ্যে আছে, বিভিন্ন সভা সমিতিতে রাজনৈতিক নেতাদের দেওয়া বক্তব্য রেকর্ড করা। আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা। রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স¤পর্কে দৈনিক প্রতিবেদন ও সাপ্তাহিক গোপনীয় প্রতিবেদন তৈরি করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো।

এছাড়া, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কর্মকান্ড সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই করা এবং সেগুলো নথিবদ্ধ করা এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকারক কোন কর্মকান্ড ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এমন কর্মকান্ড স¤পর্কে সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য দ্রæত যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি প্রার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা। নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের আওতায় দেশী-বিদেশী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দেওয়া। কেপিআই ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের জরিপ, পরিদর্শন এবং সেগুলোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া। রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কার্যকলাপ ও গতিবিধির উপর নজর রাখা হবে গোয়েন্দা পুলিশের কাজ।

সূত্রমতে, অপরাধ দমনে গত জানুয়ারি মাসেই পুলিশের এই বিশেষ শাখাকে বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত নেন সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার। এ শাখাকে শক্তিশালী করতে নতুন জনবল কাঠামোর অনুমোদনও দিয়েছে সরকার। ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর নতুন ৪৩০টি পদ অনুমোদন দেওয়া হয়।

এরমধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ ৪টি, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ৬টি, পরিদর্শক ২০টি, উপ-পরিদর্শক (এসআই) ১০০টি ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ৩০০টি। সেইসঙ্গে ২০টি যানবাহনও যুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে জিপ ৩টি, পিকআপ দুইটি, মোটর সাইকেল ১৫টি।

মতামত