টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চালেও মারাত্মক বিষ, বাড়ছে ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস

ইব্রাহিম খলিল 
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ০৫ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  চাল থেকে হয় ভাত। আর সেই ভাত খেয়ে নানারকম মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। যা জানা নেই অনেক সচেতন মহলেরও।

সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের এক গবেষক দলের তথ্য প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চালে মারাত্মক কীটনাশক রয়েছে। যা ভাত রান্না করে খাচ্ছে মানুষ। এতে ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে জনস্বাস্থ্য।

এমন তথ্য প্রতিবেদনের পর চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে নানা রকম চালের নমুনা সংগ্রহ করে বিএসটিআই। নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষার পর চালের এই ভয়াবহ তথ্য প্রতিবেদনের সত্যতা পান পরীক্ষকরা। সেই সাথে চালে নানাকরকম ভেজাল নিয়ে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক তথ্য।

বিএসটিআই চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক জামশেদ আলম জানান, বিএসটিআইয়ের ল্যাবের পরীক্ষায় ১১টি চালের নমুনায় পরীক্ষা করা হয়। প্রতিটি নমুনায় মারাতœক আকারের বিষ সনাক্ত করা হয়েছে। সেই সাথে এসব নমুনায় এক চালের সাথে অন্য চাল এবং পঁচা-বাসি চালের ভেজাল পাওয়া যায়। ইট-বালিসহ ওজন বৃদ্ধির নানা অখাদ্যের ভেজালও রয়েছে। যা ভাতের সাথে প্রতিনিয়ত গিলে খাচ্ছে মানুষ।

তিনি বলেন, চাল শুকনো হওয়ায় কীটনাশক থাকার বিষয়টি সাধারণের ধারণায়ও থাকার কথা নয়। ইট-বালি-কংক্রিট শরীরের যে মারাতœক ক্রিয়া সৃষ্টি করে তাও ধারণার অতীত। তবে মানুষের শরীরে জানা-অজানা জটিল সব রোগ সৃষ্টি হচ্ছে এ বিষে। এরমধ্যে প্রাণঘাতি ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস হচ্ছে অন্যতম।

গবেষকদের দাবি, এই বিষ রোধ করা একেবারেই সম্ভব নয়। তবে এর প্রভাব কমানো যাবে। তাই রান্না করার আগে সারা রাত চাল ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকেরা। সারা রাত চাল ভিজিয়ে রাখলে রাসায়নিক, টক্সিন এবং আর্সেনিকের মাত্রা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে।

চন্দ্রঘোনা রাইখালী কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষিবিদ সাইফুর রহমান বলেন, শিল্পের রাসায়নিক বর্জ্য এবং জমিতে দেওয়া কীটনাশক কয়েক দশক ধরে মাটিতে মিশে থাকে। আর এতে করে ওই জমিতে ধান চাষের ফলে দূষিত হয় চাল।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে আর্সেনিকের নিরাপদ মাত্রা স¤পর্কে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি মাত্রা বেঁধে দিয়েছে। যদিও শরীরের জন্য আর্সেনিকের নিরাপদ বা সহনীয় মাত্রা কত তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, দুষিত চালের ভাতে নানান সমস্যা তৈরি হয়। যেমন-স্বাস্থ্য সমস্যা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যানসার। গবেষকেরা পরীক্ষার পর সুপারিশ করেছেন যে, সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করা হলে প্রাকৃতিকভাবে বিষাক্ত দ্রব্যগুলো ভাতের সঙ্গে মিশবে না।

আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টের কুইন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যান্ডি মেহরাগ বিবিসির অনুষ্ঠান ট্রাস্ট মি, আই এম এ ডক্টরের ভাত রান্না করার তিনটি পরীক্ষিত পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন সাইফুর রহমান। এরমধ্যে প্রথমত, পাত্রে চালের দ্বিগুণ পরিমাণ পানি দিয়ে ভাত রান্না করতে হবে। এভাবে রান্নার সময় পানি বা®প আকারে উড়ে যাবে।

দ্বিতীয়ত, পাত্রে এক অংশ চাল হলে এর পাঁচ গুণ (অংশ) পানি দিয়ে ভাত রান্না করতে হবে। পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে (বাড়তি) চাল ধুলে আর্সেনিকের মাত্রা প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়। আর তৃতীয় পদ্ধতিতে, চাল রাতে জগে বা পাত্রে ভিজিয়ে রেখে পরদিন ধুয়ে ফেললে বিষের মাত্রা শতকরা ৮০ শতাংশ হ্রাস হবে।

এ ব্যাপারে কথা হয় নগরীর বহদ্দারহাট, রিয়াজউদ্দিন বাজার ও খাতুনগঞ্জের একাধিক চাল ব্যবসায়ীর সাথে। যাদের অনেকে চালের সাথে মারাত্মক কীটনাশক থাকার বিষয়ে অবগত নন। তবে ইট-বালি-কংক্রিট থাকার কথা স্বীকার করেন তারা।

এরমধ্যে বহদ্দারহাটের চাল ব্যবসায়ী ফজলুল করিম স্বীকার করে বলেন, আড়ত বা মিল থেকে বস্তাবন্দি করার সময় ওজন বাড়নোর জন্য ইট-বালি-কংক্রিট মিশিয়ে থাকে। এছাড়া বেশি লাভের আশায় দামি চালের সাথে কমদামি বা পঁচা-বাসি চালও মিশিয়ে থাকে। এতে আমাদের কোন হাত নেই।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি বলেন, বিএসটিআইয়ের ল্যাবে চাল পরীক্ষার বিষয়ে আমরা অবগত নয়। পরীক্ষা প্রতিবেদন পেলে চালের দুষণ ও ভেজালের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত