টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নগরজুড়ে চোরাই গর্ত ও উচু-নিচু স্ল্যাব , পথচলা দায় 

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস ডটকম 

চট্টগ্রাম, ০৪ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক জুড়ে চোরাই গর্ত ও উঁচু-নিচু স্ল্যাব পথচলা দায় মানুষের। এসব গর্তে পড়ে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মানুষ ও যানবাহন।

রাস্তা খোড়াখুড়ি নয়, অনিয়ম ও কারচুপির কারনেই নির্মিত স্ল্যাব ও সড়ক ভেঙে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত এক-দেড়বছর আগেই নির্মাণ করা হয়েছে এসব স্ল্যাব ও সড়ক। এমন অভিযোগ সড়কে চলাচলকারী স্থানীয় লোকজনের।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় সড়কের চোরাই গর্তে পড়ে সিমেন্টবাহী একটি মিনিট্রাক। এরপর গর্ত থেকে ট্রাকটি তুলতে সময় লেগে যায় দু‘দিন। আর এ দু‘দিনে ভোগান্তির শেষ ছিল না এলাকাবাসীর। যানবাহন চলাচলেও পোহাতে হয় দুর্ভোগ।

সবচেয়ে করুণ অবস্থা নগরীর বহদ্দারহাট এলাকার। বহদ্দারহাট মোড় থেকে টার্মিনাল, মুরাদপুর, চকবাজার, রাহাত্তারপুল যেদিকেই যাওয়া যাক না কেন, কয়েকগজ পর পর দেখা যায় চোরাই গর্ত, ¯ø্যাব আর নর্দমার ভাঙা ঢাকনা। বিশেষ করে বহদ্দারহাট মোড় থেকে টার্মিনাল যাওয়ার পথে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার পাশ ঘেঁষে নর্দমার উপর দেওয়া প্রতিটি ঢাকনা ভেঙে গেছে। গত বছর এই সময়ে শুধুমাত্র সিমেন্ট ও কংক্রিটের তৈরী পাতলা ঢাকনাগুলো বসানো হয়। এ অবস্থায় সড়কে চলাচলকারী মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

সিনেমা প্যালেস থেকে ডিসি হিলে আসতে তুলসীধামের মুখে চার কোণার স্ল্যাটি রাস্তার মূল কার্পেটিং থেকে তিন/ সাড়ে তিন ইঞ্চি নীচু। কোন গাড়িই এই স্ল্যাবের উপর দিয়ে চলাচল করতে পারে না। এ সড়কে পুলিশ বিট পার হলেই দেখা যায় দুটি স্ল্যাবের মাঝখানে ফাঁক। অনায়াসেই মোটর সাইকেল, রিক্সা বা বাই সাইকেলের চাকা আটকে যায় এই ফাঁকে।

একই চিত্র উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) পাঁচলাইশ কার্যালয়ের সামনেও। পাঁচলাইশ থেকে প্রবর্তকের দিকে অগ্রসর হলে মক্কী মসজিদের পাশে আছে আনুমানিক ৫ ইঞ্চি গভীর একটি গর্ত। একই সমান গর্ত রয়েছে সিএসসিআর হাসপাতালের সামনেও।

কাজির দেউড়ি থেকে জামালখান আসার পথে আসকর দিঘীর উত্তর পূর্ব কোণে ওয়াসার গোল স্ল্যাব রাস্তার কার্পেটিং থেকে দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি নীচু। নগর ভবন সংলগ্ন মোজাহার টাওয়ারের বিপরীতেও একই দৃশ্য বিদ্যমান। রহমতগঞ্জ থেকে গনি বেকারী আসার পথে কুসুমকুমারী স্কুল মোড়ে গতিনিয়ন্ত্রক সংলগ্ন স্ল্যাবের আরেক নাম ভোগান্তি।

এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের সীমানায় রাস্তায় যে কালভার্ট আছে তার একটু আগে রাস্তার মাঝামাঝি ওয়াসার আরেকটা ঢাকনা রাস্তার কার্পেটিং থেকে দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি উঁচু। এরকম চিত্র শুধু এই সড়কে নয়, আছে নগরজুড়েই।

বিআরটিসি মোড় থেকে কদমতলী মোড় যেতে রেলক্রসিংয়ের আগে ৫-৬ ফুটের ব্যবধানে দুটো গতিরোধক। প্রথমটা পার হলেই গাড়ি গিয়ে পড়ে একটি গর্তে। সেই গর্ত থেকে উঠে আরেকটি গতি রোধক। কদমতলী পার হয়ে দেওয়ান হাট ওভারব্রীজের আগে বেহিসেবি চোরা গর্ত।

নগরীর সংস্কৃতি প্রেমিসহ সব শ্রেণী পেশার নাগরিকের অন্যতম প্রিয়স্থান ডিসি হিল। ডিসি হিলের মূল ফটকের সামনেই আছে ওয়াসার চার কোণার একটা স্টিলের ঢাকনা। যেটি সতর্কতার সাথে সব যানবাহনই এড়িয়ে চলে। অসতর্ক থাকলে আছড়ে পড়তে হয়।

অক্সিজেন থেকে মুরাদপুর সড়ক। আমিন জুট মিলস গেটের আগে প্রথমে চতুর্পাশ উঁচু ঘেরা আর স্ল্যাবের অংশটি ধার থেকে ৪-৫ ইঞ্চি দেবে থাকা। কেউ দূর থেকে খেয়াল করার কোন সুযোগ নেই। এটি পার হয়ে ২০/২২ গজ অগ্রসর হলে ৬-৭ ইঞ্চির চোরা গর্ত। আমিন জুট মিলস গেট থেকে অগ্রসর হলে আতুরার ডিপোর একটু আগে রাস্তার মূল কার্পেটিং থেকে ওয়াসার স্ল্যাব তিন থেকে চার ইঞ্চি উঁচু।

এ ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রাম সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, স্ল্যাব উঁচু বা নিচু সমস্যা নয়। রাস্তা মেরামত করার সময় ঐ সব স্ল্যাবের সাথে সমান করে রাস্তা মেরামত করাই হচ্ছে আসল কথা। যা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ বসাক জানান- উঁচুনিচু স্ল্যাব ক্ষেত্রে আমাদের সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কিছুটা ঘাটতি আছে। সমন্বয় করলে এসব সমস্যা থাকত না। তবে চোরা গর্তগুলো নিয়মিত ঠিক করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ৫টি অঞ্চলে ভাগ করে ৫ জন প্রকৌশলী নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকী করা হচ্ছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত