টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘তামিমকে নিয়ে নব্য জেএমবি গড়ে তোলেন কাশেম’

চট্টগ্রাম, ০৩ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক আবুল কাশেমকে সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতার জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা বলছে পুলিশ। তিনি বলেন, গত ২৭ আগস্ট নিহত তামিম চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়েই তিনি নব্য জেএমবি গড়ে তুলেছিলেন বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।

শুক্রবার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষ শাখা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। গতকাল রাতে রাজধানীর পর্বতা সেনপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলন ডাকেন তিনি।

গত বছর ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২২ জন নিহত হন। এই হামলার পরই নব্য জেএমবির নাম আসে গণমাধ্যমে। জানা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদেশি, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের হত্যায় জড়িত এই সংগঠনটি।
আর্টিজান হামলার পর পর কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাতে হামলার চেষ্টা করে নব্য জেএমবির সদস্যরা। পুলিশ জীবন দিয়ে ঠেকায় সে হামলা চেষ্টা। এরপর পুলিশের পাল্টা অভিযানে ৩০ জনের বেশি জঙ্গি নেতা ও সদস্য নিহত হয়। এদের মধ্যে নব্য জেএমবির প্রধান হিসেবে চিহ্নিত তামিম চৌধুরী, সারোয়ার জাহান, প্রশিক্ষক হিসেবে চিহ্নিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, অন্যতম শীর্ষ নেতা নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরীও রয়েছেন।

আর পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলের কথিত প্রধান রাজীব গান্ধীও। আটক আরও কয়েক জনের কাছ থেকেই পুলিশ আবুল কাশেমের নাম জানতে পারে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে তামিম চৌধুরীর সঙ্গে নব্য জেএমবি গড়ে তোলেন আবুল কাশেম। তার পরিবারের লোকজন আগে থেকেই জেএমবির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কোরআন-হাদিসের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি দলের নেতাকর্মীদের আরও হিংস্র করে তোলেন। ২০০৯ সালে জেএমবির একাংশের আমির সাঈদুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি বিদ্রোহী হয়ে নব্য জেএমবির আমিরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান বলেন, নব্য জেএমবির প্রধান তামিম চৌধুরী, মারজান, হাতকাটা মাহফুজ, উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার রাজিব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীরসহ দলটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা তার অনুরক্ত ছিলেন। ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার কয়েকজন জঙ্গির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে অনেকদিন থেকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। অবশেষে গতকাল রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আবুল কাশেম দিনাজপুরের একটি মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তিনি মানুষকে জিহাদে উব্দুদ্ধ করতেন। গত দুই/তিন দিন আগে বড় মিজান গ্রেপ্তার হওয়ার পর আমরা তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারি। জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তিনি বড় হুজুর নামেই পরিচিত ছিলেন।’

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান বলেন, কোরআন-হাদিসের কথা বলে তিনি সহজে বেহেশতে যাওয়ার অপব্যাখ্যা করতেন। আজ আদালতে হাজির করে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- কাউন্টার টেরোরজিম ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম খান, স্পেশাল অ্যাকশনার প্রলয় কুমার জোয়ারদার ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী প্রমুখ।

মতামত