টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কক্সবাজারে আট সড়ক ও সেতুর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ

চট্টগ্রাম, ০৩ মার্চ ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: কক্সবাজারে স্বাধীনতাবিরোধী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে পরিচিত সাতটি সড়ক ও একটি সেতুর নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনামতে গত ১৬ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. আবদুর রউফ মিয়া স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, মেয়র ও কক্সবাজার পৌরসভা বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

এই নির্দেশনা মতে তদন্তপূর্বক সাতটি সড়ক ও একটি সেতুর নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম নির্বাচনের জন্য কক্সবাজার সদর ও মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজী মোহাম্মদ আবদুর রহমান।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সূত্র ও সমন্বয় কাউন্সিল শাখা সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত পত্রের ছায়ালিপিতে উল্লেখ রয়েছে দেশের ৩২ সড়কের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বাধীনতাবিরোধী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে নামকরণকৃত সড়ক এবং অন্য কোনো স্থাপনার নাম থাকলে তা পরিবর্তন করার। এসব সড়কের নাম পরিবর্তন করে দেশপ্রেমিক, কবি, সাহিত্যিক, স্থানীয় শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশপ্রেমিক গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদদের নামে নামকরণের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণের জন্য নির্দেশ প্রদান করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

উল্লেখিত ৩২ সড়ক ও সেতুর মধ্যে কক্সবাজারের রয়েছে আটটি। সেগুলো হলো শহরের প্রাণকেন্দ্র বাহারছড়ার এম এ ছালাম রোড, একই এলাকার সিরাজ আহমদ নাজির সড়ক ও এম এ জলিল সাওদাগর সড়ক। এ ছাড়া পূর্ব বাজারঘাটার অ্যাডভোকেট সালামত উল্লাহ সড়ক, একই এলাকার (এবিসি রোড) আবু বক্কর ছিদ্দিক সড়ক, সদর উপজেলা খরুলিয়ার মাওলানা মোস্তাফা আহমদ সড়ক, একই এলাকার একই নামে মাওলানা মোস্তাফা আহমদ সড়ক ও মহেশখালীর উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ঠাকুরতলা রোডের রশিদ মিয়ার ব্রিজ রয়েছে তালিকায়।

কক্সবাজার পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চিঠি পাওয়ার পরপর ওই সড়কগুলোর নাম পরিবর্তনের জন্য কাজ শুরু করে কক্সবাজার পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি কিছু নামও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে তা স্পষ্ট করতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজী মোহাম্মদ আবদুর রহমান জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই দ্রুত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়নের জন্য কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম শেষে তালিকাও অনেকটা চূড়ান্তের পথে। তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজ করছেন বলে জানান ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, তদন্তের কাজ প্রায় শেষের পথে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন নাম নির্বাচনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত