টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

স্টেশনে গাড়ি, পথে যাত্রীদের ভোগান্তি

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রামের সবগুলো স্টেশনে বাস-মিনিবাসের সারি। কাছে অবস্থান করছে বাস-মিনিবাস শ্রমিক ও চালকরা। কিন্তু পথে পথে হাঁটছে যাত্রীরা। যাদের ভোগান্তির শেষ নেই।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর এ চিত্র চট্টগ্রাম মহানগরীর। প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও খবর আসছে যাত্রী ভোগান্তির। যাদের অনেকে জানে না কেন বাস-মিনিবাস চলছে না। পরে জানাজানি হলেও নিরুপায়। বাধ্য হয়ে গন্তব্যে পৌছতে হচ্ছে অনেক যাত্রীর।

সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক-মিশুক মৃত্যুর মামলায় বাসচালক জমিরের সাজার রায়ের প্রতিবাদ এবং নিংশর্ত মুক্তির দাবিতে সর্বশেষ খুলনা বিভাগে পরিবহণ ধর্মঘট সম্পর্কে জানেন অনেক যাত্রী। কিন্তু হঠাৎ এ ধর্মঘট সারাদেশে শুরু হয়েছে তা জানেন না অধিকাংশ যাত্রীই।

আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন যাত্রীরা। চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষীকা প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে যেতে এসে হতভম্ব। তিনি বলেন, খুনি জমিরের সাজা বদলাতে সারাদেশে পরিবহণ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে এটা বিস্ময়ের। বাংলাদেশ বলেই সম্ভব।

যাই হোক এটা বুঝা দায়িত্ব সরকারে। কিন্তু কোন খবর ছাড়াই কেন পরিবহণ ধর্মঘট। গতকাল সোমবার রাতে ঘুমানোর আগে শুনলাম খুলনার ধর্মঘটও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাহলে গভীর রাতে কেউ না জানে মতো সারাদেশে ধর্মঘট, এটা কি কোন অপরাধ নই। দেশ যেন মগের মুল্লুক।

এ পথের যাত্রী রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, বোয়ালখালী উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-শিক্ষক-শিক্ষীকা ও ব্যবসায়ীদের অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে এদের কেউ কেউ সিএনজি অটোরিকশায় দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে ছুটে। আবার কেউ কেউ বাসত্থানে ফিরে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাস-মিনিবাস বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর, জিইসির মোড়, লালখানবাজার, আগ্রাবাদ, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, নিউমার্কেট, কোটবিল্ডিং, স্টেশন রোড, কাজীর দেউরি, সদরঘাট, পতেঙ্গাসহ সব সড়কের পথে পথে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে ছুটছে মানুষ। এসব সড়কের মোড়েও দেখা গেছে প্রচন্ড ভীড়। যারা রিকশা-অটোরিকশা ধরার চেস্টা করছে। সুযোগ বুঝে দ্বিগুণ টাকা হতিয়ে নিচ্ছে রিকশা-অটোরিকশা চালকরাও।

নগরীর স্টেশন রোড, গরিবুল্লাহ শাহ মাজার, সিনেমা প্যালেস, কদমতলি বাস স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে সারি সারি সব বাস-মিনিবাস। নগরীতে যেমন সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে এসব বাস; তেমনি নগর থেকে ঢাকা-খুলনা-রাজশাহী-কুমিল্লা-চাঁদপুর-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবান-কক্সবাজারসহ দুরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। কোন বাস আসেওনি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আন্ত:জেলা বাস মালিক সমিতি চট্টগ্রামের সাধারণ স¤পাদক কফিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে আন্ত;জেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরে কোন বাস চলাচল করছে না। উপজেলা থেকেও কোন বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। ধর্মঘটের কারণে জেলার সঙ্গে জেলার, উপজেলার সব যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

রাঙামাটি সড়কের চলাচলকারী পাহাড়িকা সার্ভিসের বাসচালক নাছির উদ্দিন বলেন, বাসচালক জমিরকে অযৌক্তিকভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। কোন চালক ইচ্ছা কারে কাউকে মারে না। সড়ক দূর্ঘটনার জন্য চালকদের ফাঁসি দিলে গাড়ি চালানো সম্ভব হবে না। এ সাজা বাতিল ও জমিরের নি:শর্ত মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মাহনগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, সকালের দিকে শহরের মধ্যে হিউম্যান হলারসহ কয়েকটি মিনিবাস চলাচল করলেও স্টেশনগুলোতে অবস্থানরত শ্রমিকরা তাতে বাঁধা দেয়। তবে এ ব্যাপারে শ্রমিক নেতাদের আমরা বলেছি তাদের সামলাতে। অন্যথায় আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেব। এরপরও দেখা যাচ্ছে বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এতে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, নগর ও জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, পোশাক শ্রমিকসহ চাকুরিজীবিদেও কর্মস্থলে যেতে সমস্যা হয়েছে। অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা ফিরে যাওয়ায় সরকারি-বেসরকারি প্রায় অফিস ফাঁকা হয়ে পড়েছে।

মতামত