টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মুরাদপুর-লালখান বাজার উড়াল সড়ক চালু এপ্রিলে

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ২২  ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):চট্টগ্রামের বহুল কাঙ্খিত মুরাদপুর-লালখান বাজার উড়াল সড়ক চালু হচ্ছে এপ্রিলেই। যানজট কমাতে নির্ধারিত সময়ের তিন মাসে আগেই শেষ করা হচ্ছে এই উড়াল সড়কের নির্মাণ কাজ।

উড়াল সড়কের শেষ পর্যায়ে বর্তমানে নগরীর দামপাড়া ওয়াসা মোড়ের অংশে চলছে গার্ডার বসানোর কাজ। এরপর লালখান বাজার ও মুরাদপুর সংযোগমুখের কাজ সম্পন্ন হলে যানবাহন উঠানামা করতে পারবে উড়াল সড়কে।

এরপরও বাকী থাকছে র্যাম ও লুপ তৈরীর কাজ। যা উড়াল সড়ক চালুর পর নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান মো. আবদুচ ছালাম।

আবদুচ ছালাম জানান, চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরীর নামে রাখা এই উড়াল সড়ক চলতি সনের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নগরীর যানজট আর জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে এপ্রিলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে।

তিনি বলেন, উড়াল সড়কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। গার্ডার বসানো, সংযোগমুখ নির্মাণ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে। এরপর উড়াল সড়ক চালু করে দিলে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমে আসবে। এরপর র্যাম ও লুপ তৈরীর কাজ করতে সহজ হবে। তবে নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম মোড় ষোলশহর ও জিইসি এলাকার লুপ নির্মাণ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করা হবে।

আবদুচ ছালাম বলেন, উড়ল সড়কের সুফল পেতে নগরীর বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক ছয় লেনে, বহদ্দারহাট মোড়ে উড়াল সড়কের লুপ তৈরি, লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পগুলো শেষ করতে হবে। অন্যথায় শতভাগ সুফল আসবে না।

নির্মাণাধীন উড়াল সড়ক ঘুরে দেখা যায়, উড়াল সড়কের বেশিরভাগ অংশে গার্ডারের উপর পিচ ঢালাই হয়ে গেছে। লালখান বাজার ও মুরাদপুর অংশে ফ্লাইওভার নেমে যাওয়ার কাজও চলছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-রেনিকিন জেবি উড়াল সড়কের নির্মাণ কাজ করছে।

প্রকল্প পরিচালক ও চউকের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, বর্তমানে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তা চায়না উৎসবে যোগ দিয়েছে। আজ-কালের মধ্যে তারা এসে পড়বে। চলতি মাসের মধ্যেই অসমাপ্ত গার্ডার ও গাড়ি চলাচলের উপযোগী কার্পেটিং কাজ শেষ করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এপ্রিলে গাড়ি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া সম্ভব হবে উড়াল সড়কটি।

তিনি বলেন, প্রায় ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫৪ ফুট চওড়া উড়াল সড়কটিতে মুরাদপুর এন মোহাম্মদ কনভেনশন সেন্টারের সামনে থেকে উঠে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের পশ্চিম গেটের সামনে এসে নামবে।

জিইসি মোড়ে হবে চারটি র্যাম। ওয়াসা থেকে জিইসি মোড়ের দিকের গাড়িগুলো জিইসি কনভেনশনের সামনে এবং মুরাদপুরের দিকে যাওয়া গাড়িগুলো ইফকো কমপ্লেক্সের সামনে থেকে উঠার সুযোগ পাবে। মুরাদপুর থেকে জিইসি মোড়ের দিকে আসা গাড়িগুলো মেরিডিয়ানের সামনে নামার সুযোগ পাবে। ওয়াসার দিকে যাওয়া গাড়িগুলো বøসম গার্ডেনের সামনে থেকে উঠতে পারবে।

এছাড়া ষোলশহর দুইনম্বর গেটে বায়েজীদ বোস্তামী রোডের দিকে দুটি লুপ থাকবে। একটি লুপ দিয়ে গাড়ি যেতে পারবে। অপরটি দিয়ে গাড়ি আসতে পারবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর যানজট অনেকাংশে কমে যাবে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান।

প্রসঙ্গত, উড়াল সড়কটি মুরাদপুর থেকে টানা বিমান বন্দর পর্যন্ত যাবে কি না তা নিয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল অনেকদিন। কয়েক দফা বেঠক শেষে সর্বশেষ গত বছর অক্টোবরে তা ওয়াসা মোড়ে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আওতায় লালখান বাজার থেকে বিমান বন্দর পর্যন্ত পৃথক প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত