টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়ি কলেজের শিক্ষা সফরের গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

‘ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় ঘটনার সূত্রপাত’

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে


চট্টগ্রাম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  ফটিকছড়ি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষা সফরের গাড়িতে চন্দনাইশের গাছ বাড়িয়া এলাকায় অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের কিছু অংশের প্রতিবাদ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান। তিনি প্রকৃত ঘটনার বিশদ বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, গত ১৫ ফেব্র“য়ারী কলেজের বার্ষিক শিক্ষা সফরে প্রায় চারশ শিক্ষার্থী নিয়ে বান্দরবান থেকে ফেরার পথে তিন মোটর সাইকেল আরোহী (গাড়িটির নং চট্টমেট্টো ১৩-৭১৯৯) কেরাণীহাট, সাতকানিয়া হতে হরণ দিয়ে সামনে পেছনে এসে গাড়ী চালককে বিরক্ত এবং মেয়েদের ইভটিজিং করতে থাকে। এ সময়ে গাড়ী চালকের সাথে মোটর সাইকেল আরোহী বখাটেদের বাক বিতন্ডা হলে তা সমাধান হয়ে গাড়ীবহর সামনের দিকে এগিয়ে চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া কলেজের সামনে গেলে শিক্ষা সফরের ৭টি বাসের মধ্যে ৬ টি বাসের পথরোধ করে মোটর সাইকেল আরোহী এবং তাদের ফোনে আসা বখাটেরা। তারা ছাত্র- ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এতে কলেজ শিক্ষকেরা বাধা দিলে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপর বকাটেরা চড়াও হয়। এসময় আত্মরক্ষার্থে অন্যান্য বাসের শিক্ষার্থীরা বাসের দরজা জানালা বন্ধ করে দিলে, বাস থেকে টেনে হেছড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের নামাতে চাইলে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

মূলত এইসব বখাটেরা বেশিরভাগ ছিল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত, তারা ঐসময় ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের সাথে থাকা মোবাইল, ভ্যানিটি ব্যাগ, টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। আর অন্যদিকে বাস থেকে টেনে হেছড়ে বেশকিছু ছাত্রকে মারধর করতে থাকে। এ সময় নিরুপায় হয়ে ছাত্ররা গাড়ী থেকে নেমে অনেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় দোকানপাট, পেট্রোল পাম্প, স্থানীয় বাড়ীঘরে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে দুষ্কৃতিকারীরা সেখানেও হামলা ও ভাংচুর করে। এতে দু-একটি দোকানেরও ক্ষতি হয়। হামলাকারীরা পিকনিকের দুটি গাড়ী ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি করে। অধ্যক্ষ পাশ্ববর্তি পটিয়া থানায় ফোন করে প্রশাসনিক আশ্রয় চান।

তবে ছাত্রদের বেশিরভাগ অভিযোগ করে, আত্মরক্ষার্থে পুলিশের গাড়ীতে আশ্রয় নেয়া ছাত্রদের হামলাকারীরা টেনে হেছড়ে বেধড়ক মারধর করে। প্রায় ৪০০ জন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে এ ঘটনায় শতাধিক আহত হয়। আহতদের মধ্যে মো: জামাল উদ্দিন, শাহী আরমান রিফাত, হৃদয়, রিন্টু, ঝিলু আকতার, মুক্তা আকতার, জয়নাল, সোহেল চাকমা, স¤্রাট, জিকু চৌধুরী, নজরুল, নাসির, তুহিন এবং শিক্ষক শেখ মো: আরাফাত, দিদারুল আলম, কুতুব উদ্দিনকে চন্দনাইশ বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল, পটিয়া মেডিকেল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে কিছু সংবাদপত্র ভুল তথ্য পরিবেশন করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ঐতিহ্য ও সুনাম ক্ষুন্ন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কলেজের প্রভাষক মো. আজাদ উদ্দিন, শেখ মো. আরাফাত, এন.এম রহমত উল্লাহ, মো. ফিরোজ আলম, প্রদর্শক দিদারুল আলম,উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক সাহেদুল আলম সাহেদ,পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সোয়াইব, সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন তুহিন, ফটিকছড়ি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাদে আলী সিকদার শুভ প্রমুখ ।

মতামত