টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিশ্বব্যাংক ইস্যুতে হার্ডলাইনে সরকার

চট্টগ্রাম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: পদ্মাসেতু প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে দেশবাসী সোচ্চার হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটির বিপক্ষে কিছুটা কঠোর অবস্থান নিতে চাইছে সরকার। এখানেই শেষ নয়, ভবিষ্যতে কোনো প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থ ব্যবহার করা হবে কিনা তাও ভেবে দেখা হবে বলে বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতি কেলেঙ্কারি অভিযোগের জবাব দিতেই এ হার্ডলাইনে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়াবে না।

এ বিষয়ে ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ইতিমধ্যে এক বিলিয়ন ডলার (আট হাজার কোটি টাকা) জরিমানা দাবি করেছে বিশ্বব্যাংকের কাছে। এছাড়া পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হচ্ছে। কেন তারা সরকারের এবং পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করলো এ বিষয়টিও জানতে চায় ক্ষমতাসীন দল।

এরই মধ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের আনা ১৬টি গাড়ি নিয়ম বহির্ভূতভাবে হস্তান্তরের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ১৬টি গাড়িসহ পাসবুক ও অন্যান্য কাগজপত্র তলব করেছে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বিশ্বব্যাংক কেন আমাদের অপমান করল জাতি তার জবাব চায়। শেখ হাসিনা কেন অপমানিত হলেন, হেয় হলেন, তার জবাবও দিতে হবে। এসব প্রশ্নের জবাব বা সদুত্তর না পেলে ভবিষ্যতে আমাদের কোনো প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থ ব্যবহার করব কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।

পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে কানাডার আদালতে করা মামলায় গত শুক্রবার প্রকাশিত রায়ে বাংলাদেশের পক্ষে দুর্নীতির প্রমাণ না মেলায় ফের সমালোচনায় আসে বিশ্বব্যাংক। রায়ের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনির্ধারিত আলোচনায় বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে শুধু মন্ত্রী, সচিব বা অন্য কর্মকর্তারাই নন, আমার ছেলেমেয়েকেও হ্যারেজমেন্ট করা হয়েছে।’ পদ্মা সেতুর দুর্নীতি কেলেঙ্কারি প্রমাণিত না হওয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা গত কয়েকদিন সংসদসহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে যে দুর্নীতি হয়নি, এ বিষয়টি তারা বিভিন্ন ফোরামের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরবে।

বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা না গেলেও পদ্মা সেতুর দুর্নীতি কেলেঙ্কারি সৃষ্টিতে যারা উস্‌কানি দিয়েছে, যাদের কারণে একজন সচিবকে জেল খাটতে হয়েছে, সেই নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলেছে দলটি।

এদিকে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টিকারী কে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করার জন্য কমিশন গঠনের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশন গঠনের বিষয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মন্ত্রি পরিষদ সচিবকে একটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলেছেন আদালত। বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজা উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে এক আলোচনায় বলেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন নির্দোষ ব্যক্তি। অকারণে তার মন্ত্রিত্ব চলে গেছে। তার মন্ত্রিত্ব ফিরিয়ে দেয়া উচিত।

বিশ্বব্যাংক ‘চপেটাঘাত’ খেয়েছে বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বিশ্বব্যাংক উচিত শিক্ষা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সেতু বিভাগের সাবেক সচিব ও বর্তমান শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তবে এ ঘটনায় বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করা ঠিক হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, সংস্থাটি আমাদের উন্নয়ন অংশীদার। তাই সব ধরনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের আরও বেশি সুসম্পর্ক তৈরি হওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান সম্প্রতি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের যেসব দায়িত্বশীল ব্যক্তি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে এ গুজবে কান দিয়েছিলেন, তাদের উচিত হবে নিজেদের দোষ স্বীকার করে নেয়া। তবে বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের মামলা করা ঠিক হবে না। মামলাই শুধু একমাত্র পথ নয়। তবে এ ঘটনায় বাংলাদেশের অসন্তোষের কথা তাদের জানানো যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

পদ্মা সেতু প্রকল্প আদৌ আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে ২০১২ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামের এক জনসভায় সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছিলেন, বর্তমান সরকারের দুর্নীতির কারণেই পদ্মা সেতু হলো না। খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। সরকারের দুর্নীতির কারণেই পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি হলো না।

মতামত