টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

যাবজ্জীবন মানেই আমৃত্যু কারাবাস : আপিল বিভাগ

চট্টগ্রাম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  আপিল বিভাগের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে আমৃত্যু (ন্যাচারাল লাইফ) কারাবাস বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) একটি হত্যা মামলার মৌখিক রায়ের সময় প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘২০০১ সালে সাভারে জামান নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২০০৩ সালে দ্রুত বিচার আদালত তিন জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় বিচারিক আদালত। হাইকোর্টেও বিচারিক আদালতের দণ্ডাদেশ বহাল রাখে। এর বিরুদ্ধে আপিল করলে আজ আপিল বিভাগ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন। এ সময় মৌখিক এক আদেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু (ন্যাচারাল লাইফ) কারাবাস। তখন আমি এর প্রতিবাদ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছি দণ্ডবিধির ৫৭ ধরায় যাবজ্জীবন দণ্ড অর্থ সর্বোচ্চ ৩০ বছর। এছাড়া যাবজ্জীবনের আসামিরা কারাগারের রেয়াত পেয়ে দণ্ড আরও কমে আসে। যদি আমৃত্যুই হয়ে থাকে তাহলে এদের রেয়াতের কি হবে। আমি আরও বলেছি প্রধান বিচারপতির এ মন্তব্য যেন মূল রায়ে না থাকে। তবে এটা যদি থাকে তাহলে সব আসামির ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য হবে।’

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনি এটা বলা যাবে না যে, যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু। মূল রায় আসার পরে বুঝা যাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, সাভারের ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে আদেশে বলেছেন- যাবজ্জীবন মানে সর্বোচ্চ ৩০ বছর নয়, আমৃত্যু কারাদণ্ড। তখন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন পেনাল কোড অনুযায়ী যাবজ্জীবন মানে সর্বোচ্চ ৩০ বছর। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেছেন মূল রায়ে এর ব্যাখ্যা থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, দণ্ডের মেয়াদসমূহের ভগ্নাংশসমূহ হিসাব করার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাবাসকে ত্রিশ বছর মেয়াদী কারাবাসের সমতুল্য বলে গণ্য হবে।’

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘লাইফ ইমপ্রিজেন্টমেন্ট মানে আসলেই আমৃত্যু। কিন্তু এটাকে সময়ের বিবেচনা হিসেবে ধরা হয় ৩০ বছর।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত