টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রোহিঙ্গাদের জন্য মালয়েশিয়ার জাহাজ বাংলাদেশে

চট্টগ্রাম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: মিয়ানমারে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য মালয়েশিয়ার ত্রাণবাহী জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২ হাজার ৭শ’ টন সামগ্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের ক্লাং বন্দর থেকে রওনা হয়ে সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে টেকনাফে পৌঁছায় ‘নটিক্যাল আলিয়া’ নামের জাহাজটি।

এ ত্রাণবহর থেকে খাবার ও ওষুধসহ ২ হাজার ২শ’ টন সাহায্য দেয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন‌্য। বাকি ৫০০ টন সামগ্রী মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সরবরাহ করার কথা রয়েছে। এছাড়াও ২০ জন চিকিৎসকসহ ২৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী রয়েছে জাহাজটিতে।

মালয়েশিয়ার মুসলিম সংগঠনগুলোর পাশাপাশি দেশীয় এবং বিদেশি ত্রাণ সংগঠনগুলো রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণবাহী এ জাহাজের আয়োজন করেছে। আর এই ত্রাণ পাঠানোর উদ্যোগ নেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। মুসলিম অধুষ্যিত মালয়েশিয়া থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য এ ত্রাণ আসাতেও ক্ষুব্ধ হয়েছে মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা।

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরব মালয়েশিয়া। দেশটি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া রাখাইনে মানবিক বিপর্যয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দিতে মিয়ানমারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু মিয়ানমার এতদিন সে দাবি উপেক্ষা করে আসছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতার পর মালয়েশিয়া ত্রাণবাহী জাহাজ পাঠিয়েছে।

গত বছর ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের পুলিশ ফাঁড়িতে হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চরম নিপীড়ন শুরু করে সেনাবাহিনী। হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়। ধর্ষণ করা হয় বহু নারীকে। ধ্বংস করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের স্কুল, মসজিদ, ক্ষেতের ফসল এবং গবাদি পশু। জীবন বাঁচাতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে গত ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি কক্সবাজারে যান জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের কমিশন। তারা কক্সবাজারে বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ঘুরে দেখেন। পরে ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটসহ ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এছাড়া ৯ ফেব্রুয়ারি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনাররা।

মতামত