টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তরল দুধের নামে বিষ খাওয়ানো হচ্ছে চট্টগ্রামের শিশুদের!

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: পুষ্টির অন্যতম যোগানদাতা তরল দুধের নামে ভেজাল ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিষ খাওয়ানো হচ্ছে শিশুদের। বিশেষ করে প্যাকেটজাত তরল দুধ খেয়ে শিশুরা অকালে পেটের নানারকম পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কয়েকজন পুষ্ঠিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা জানান, বাজারে কমপক্ষে ১২টি প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত তরল দুধ পাওয়া যায়। যেগুলো প্রকৃতপক্ষে দুধই নয়। রাসায়নিকের মিশ্রণ আর ফ্ল্যাভারে তৈরী এসব দুধ। এসব দুধে; দুধের গন্ধ থাকলেও তা সম্পুর্ণ ভেজাল।

দুধগুলো হচ্ছে, আড়ং দুধ, ফ্রেশ দুধ, প্রাণ দুধ, আফতাব ডেইরি ফার্ম দুধ, ইউনাইটেড ডেইরি ফার্ম দুধ, জীবন ডেইরি ফার্ম দুধ, আবুল খায়ের গ্রুপের তরল দুধ, একমি দুধ, রিয়েল দুধ, প্রাইম দুধ, ফিউর আল্ট্রা দুধ ও ডেইরি ফ্রেশ দুধ। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় সম্পূর্ণ বেনামে সাদা প্যাকেটে মোড়ানো তরল দুধ বিক্রি হচ্ছে অবাধে।

এসব দুধ সম্পূর্ণ ভেজাল, নকল এবং নিন্মানের। এমনটাই বলেছেন চট্টগ্রাম বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক ওসমান গনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এসব দুধের উপাদানে রাসায়নিক ও ফ্ল্যাভার ছাড়া আর কোন কিছুই পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজার থেকে নামকরা কোম্পানীর প্যাকেটজাত এসব তরল দুধ সংগ্রহ করে বিএসটিআইয়ের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনে অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি বলেন, বাজারে ভেজাল, নকল ও নিন্মানের প্যাকেটজাত তরল দুধ বিক্রী ও চট্টগ্রাম শহরের আশেপাশে ভেজাল দুধ উৎপাদনের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। শীঘ্রই ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে ভেজাল তরল দুধ বিক্রীর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে বনদরনগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরকারি দুগ্ধ প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটার উৎপাদিত প্যাকেট জাত তরল দুধের মতো অন্য ১২টি বেসরকারি প্রতিষ্টানের দুধ অবৈধ ভাবে উৎপাদন ও বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বেসরকারি এসব প্রতিষ্টানের উৎপাদিত প্যাকেটজাত তরল দুধ মিল্ক ভিটার মতো ঠিক একই রকম প্যাকেট, লগো, পলিথিন মলাট প্যাকেটের রং প্রভৃতি দেখতে হুবহু একই রকম। তাই সহজেই ক্রেতাদের ঠকানো, দাম বেশী নেয়ার সুযোগ থাকে।

বাস্তবে মেয়াদোত্তীর্ণ গুড়াদুধ থেকেই এসব প্যাকেটজাত তরল দুধ তৈরী করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়;একই সাথে ভেজিটেবল ফ্যট, সয়াবিন তেল, যানবাহনে ব্যবহত মবিল, ক্ষতিকর ফ্রিজারভেটিভ, ফরমালিন, কষ্টিক সোডা মিশিয়েও প্যাকেটজাত তরল দুধ তেরী ও বাজারজাত এবং বিক্রি হচ্ছে অবাধে।

এ নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন হাসপাতালের শিশু বিশেজ্ঞ ডা. রেজাউল করিম বলেন, এসব ভেজাল দুধ পান করে শিশুর পুষ্ঠির চাহিদা পূরণের পরিবর্তে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন শিশুদের বেশীর ভাগ চোখের রোগ, চোখ জ্বালা পোড়া, পেটের পীড়া, গ্যাস্টিক, আলসার, পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে।

তিনি বলেন, বাজারে যেসব প্যাকেট জাত তরল দুধ বিক্রি হচ্ছে তার নব্বই ভাগই ভেজাল এবং ফ্রিজারভেটিভ, ফরমালিন, সয়াবিন দিয়ে তেরী। তাই এ দুধ মূলত: দুধ নয় টাটকা বিষ।

নগরীর বেসরকারি দুগ্ধ উৎপাদন কারি প্রতিষ্ঠানে এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করে বলেন, ব্যবসায় লাভ বেশী করতে বিদেশ থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ পাউডার দুধ আমদানি করে তা দিয়েই তৈরী করা হয় প্যাকেট জাত তরল দুধ। তিনি বলেন, এতে লাভ বেশী, খরচ কম।

এ ব্যাপারে মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু বলেন, বিদেশ থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ আমদানি করে এনে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করছে বিভিন্ন কো¤পানি। এভাবে অনেক লাভ করে থাকে তারা। মিল্ক ভিটা নিজস্ব খামারীদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে।

তিনি বলেন, মিল্ক ভিটা শিশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই মিল্ক ভিটার দুধ জীবানুমুক্ত। তবে জীবানুমুক্ত করে বাজারজাতকরণের মেশিন মিল্ক ভিটা ছাড়াও আর দু‘একটি কো¤পানির আছে। কিন্তু অধিকাংশ কো¤পানির কাছে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার মতো মেশিন নেই। ফলে তাদের দুধও জীবাণুমুক্ত নয়।

মতামত