টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বঙ্গোপসাগরে সাগরে ৩ ব্লকে তেলগ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু

চট্টগ্রাম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: কনোকো-ফিলিপস ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে অনুসন্ধান কার্যক্রম মাঝপথে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আবার নতুন করে বঙ্গোসাগরে তেলগ্যাস অনুসন্ধানে নেমেছে বাংলাদেশ। জানা গেছে, সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে বঙ্গোপসাগরে একই সাথে তিনটি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স এবং অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি সান্তোসের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ুও সাগরে নামছে।

পেট্রোবাংলা মতে, সাগরের ১১, ১২ এবং ১৬ নম্বর ব্লকে কূপ খননের পাশাপাশি জরিপ কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। অপরদিকে ভারতীয় কোম্পানি ‘ওএনজিসি ভিদেশ লিমিটেড’ বঙ্গোপসাগরের অগভীর অঞ্চলে দ্বিমাত্রিক জরিপের কাজ শেষ করেছে। সবকিছু মিলে বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে বেশ তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

পেট্রোবাংলার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত এলাকায় তেল ও গ্যাসের পৃথক পৃথক ব্লক রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমার এবং ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর বাংলাদেশের অংশে সাগরের বিস্তৃত এলাকা অর্জিত হয়েছে। এরমধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রায় বিশ হাজার বর্গমাইল এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

দেশের গ্যাসব্লকগুলোর মধ্যে ৪ ও ৯ নম্বর ব্লক বঙ্গোপসাগরের অগভীর অঞ্চলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতের ওএনজিসি ভিদেশ লিমিটেড নামের একটি অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান এই দুটি ব্লকে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতিমধ্যে কোম্পানিটি তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের দ্বিমাত্রিক জরিপের প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। সাগরের ৪ নম্বর ব্লকের মোট আয়তন সাত হাজার ২৬৯ বর্গকিলোমিটার। এই ব্লকের দুই হাজার ২০০ কিলোমিটার এলাকায় ১০টি পয়েন্ট নির্দিষ্ট করে দ্বিমাত্রিক জরিপ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ৯ নম্বর ব্লকের আয়তন সাত হাজার ২৬ বর্গকিলোমিটার। এই ব্লকের দুই হাজার ৮৫০ কিলোমিটার এলাকায় সাতটি পয়েন্ট নির্দিষ্ট করে দ্বিমাত্রিক জরিপ করা হচ্ছে।

এদিকে সাগরের অগভীর অঞ্চলের ১১ নম্বর ব্লকে তেল, গ্যাস অনুসন্ধান করছে অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি সান্তোস। ১৬নং ব্লক বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া এলাকায়। এখানে মগনামায় পেট্রোবাংলার কোম্পানি বাপেক্স এবং অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি সান্তোস যৌথভাবে তেল গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে যাবতীয় চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে বলেও পেট্রোবাংলার পদস্থ একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মগনামা অঞ্চলে অনুসন্ধান কূপ-২ খনন করতে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ করতে হবে।

গভীর বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ১২ নম্বর ব্লক। এই ব্লকের বিস্তৃত এলাকায় তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ু কোম্পানির সাথে সরকারের চূড়ান্ত আলোচনা হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বর্গকিলোমিটারের ১২ নম্বর ব্লকে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে দাইয়ুর সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে চলতি বছরের মধ্যেই জরিপ শুরু করা যাবে বলেও পেট্রোবাংলার এ কর্মকর্তা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, অগভীর ১০ ও ১১ নম্বর ব্লক নিয়ে অনেক দিন ধরে আমেরিকান কোম্পানি কনোকো-ফিলিপস নানা ধরনের কার্যক্রম চালিয়েছিল। তারা পিএসসি (বণ্টন ও অংশীদারিত্ব) চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নানাভাবে দর কষাকষি করে। তাদের মনের মতো না হওয়ায় এক পর্যায়ে তারা ১০ ও ১১ নম্বর ব্লক ফেলে চলে যায়। এই দুটি ব্লকে সাত ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস আছে বলে তারা ঘোষণা দিয়েছিল। যা দেশের বর্তমান মজুদকৃত গ্যাসের অর্ধেকেরও বেশি।

মার্কিন কোম্পানি কনোকো-ফিলিপস সরে দাঁড়ানোর পর বঙ্গোপসাগরে তেলগ্যাস অনুসন্ধান কাজ থমকে দাঁড়িয়েছিল। পেট্রোবাংলার নানা উদ্যোগের ফলে আবার তা গতি পেতে যাচ্ছে বলেও সূত্র মন্তব্য করেছে। এই ব্যাপারে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘তেলগ্যাস অনুসন্ধানে আমরা নতুন করে তৎপরতা শুরু করছি। ইতিমধ্যে আমাদের বহু কাজ এগিয়ে রয়েছে। টুকটাক কিছু সমস্যা থাকলেও আমরা তা সমাধানে কাজ করছি।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত