টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে বিএসটিআই ল্যাব থাকলেও পণ্য পরীক্ষা হচ্ছে ঢাকায়!

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামে বিএসটিআই ল্যাব থাকলেও পণ্য পরীক্ষা মিলছে না। শুধুমাত্র জনবলের অভাবে অধিকাংশ পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ছুটোছুটি করতে হয় ঢাকায়।

প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামে বিএসটিআইয়ের ল্যাব গত বছরের আগষ্ট মাসে চালু হলেও অধিকাংশ পণ্যের পরীক্ষা হয় না। শুধুমাত্র মিনারেল ওয়াটার, আইসক্রিম ও কোল্ড ড্রিংকসসহ মাত্র ৫৪টি পণ্যের নমুনা পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে চট্টগ্রামে বিএসটিআই ল্যাবে।

সূত্র জানায়, দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম দিয়ে প্রায় ১৫৪টি পণ্য আমদানি-রপ্তানী হয়। কিন্তু এসব পণ্যের সবকটির গুণগত মান এতোদিন ঢাকা থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো। চট্টগ্রামে ল্যাব বসানোর পরও এতে মাত্র ৬০টি পণ্যের মান যাচাইয়ের সুবিধা রাখা হয়। কিন্তু তাও হচ্ছে না।

এর মূল কারন-ল্যাব বসালেও প্রয়োজনীয় জনবল নেই। পণ্যের মান যাচাইয়ে ল্যাবে সংশ্লিষ্ট পণ্যের পরীক্ষক না থাকায় এই অঞ্চলের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিএসটিআই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শওকত ওসমান বলেন, চট্টগ্রামে অতি প্রয়োজনীয় অনেক ভোগ্যপণ্য উৎপাদন হয়। ফলে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ ল্যাবের প্রয়োজন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ল্যাব স্থাপনের পর নতুন নতুন অনেক পণ্যের মান পরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে এখনো চট্টগ্রামে ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা সম্ভব এ ধরনের অনেক পণ্য ঢাকা থেকে মান যাচাই করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে যে সুবিধা রয়েছে তা দিয়ে আইসক্রিম, মিনারেল ওয়াটার, চাটনি, টমেটো পেস্ট, ড্রিংকিং ওয়াটার, কোল্ড ড্রিংকস, দই, এডিবল জেল, পাস্তুরাইজড ফ্লেভার মিল্ক প্রভৃতি পণ্য পরীক্ষা করে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব। শুধুমাত্র প্রয়োজন কিছু জনবল বাড়ানো।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিএসটিআই ল্যাবের কার্যক্রম পরিচালনায় বর্তমানে শুধুমাত্র একজন সিনিয়র পরীক্ষক রয়েছেন। মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবের জন্য আরো একজন পরীক্ষক, একজন সহকারী পরীক্ষক ও একজন কর্মচারীর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রামে হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক আমদানি করা পণ্য বন্দরে খালাস হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। এসব পণ্য তৈরির লাইসেন্স ও মান যাচাইয়ের রিপোর্ট বিএসটিআই থেকে নিতে হয়। অথচ ১৫৪টি পণ্যের মধ্যে মাত্র ৬০টি পণ্যের মান নির্ণয়ের ল্যাব সুবিধা রয়েছে চট্টগ্রামে। জনবলের অভাবে তাও হচ্ছে না।

ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন যাবত চট্টগ্রামের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের পণ্যের মান নির্ণয়ের রিপোর্ট নিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। এতে একদিকে কালক্ষেপন অন্যদিকে এই রিপোর্ট নিতে বিপুল অর্থ খরচ করেও নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

তবে বিএসটিআই কর্মকর্তারা জানান, এই ল্যাবে অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। এই ল্যাব চালু হওয়ার পর নতুন করে ১০টি পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। এসব পণ্য আগে ঢাকায় অথবা বিসিএসআইআর পরীক্ষাগারে পাঠানো হতো।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত