টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অশ্লীল ভিডিও কি মিথিলার আত্মহত্যা কারণ !

চট্টগ্রাম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  ইউটিউবে দেয়া কয়েকটি অশ্লীল ভিডিওর কারণে কথিত বৈবাহিক সম্পর্ক হুমকীর মুখে পড়ায় জ্যাকুলিন মিথিলা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। একই সাথে এই ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কী না এবং জ্যাকুলিন মিথিলার সাথে কার কার যোগাযোগ ছিলো সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে । এছাড়া নিহতের বাবা স্বপন শীল পেশায় একজন নাপিত হওয়া সত্তেও নগরীর গোসাইল ডাঙ্গা এলাকায় বিলাস বহুল ফ্লাট বাড়িতে ভাড়া থাকার বিষয়টি নিয়েও ভাবছে পুলিশ ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ( সিএমপি) বন্দর থানা সূত্রে এ বিষয় গুলো জানা গেছে।

বন্দর থানার সেকেন্ড অফিসার মো. হানিফ জানান, ইউটিউবে মিথিলার বেশ কয়েকটি অশ্লিল ভিডিও রয়েছে । মূলত এই ভিডিও গুলোর কারনেই দাম্পত্য অশান্তিতে পড়েছিলো। তিনি বলেন, জ্যাকুলিন মিথিলার প্রকৃত নাম জয়া শীল । বাবা নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় কর্মরত নরসুন্দর (নাপিত) স্বপন শীল ।

নাম প্রকাশ না করার সূত্রে বন্দর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জ্যাকুলিন মিথিলা (জয়া শীল) যে বাসায় মারা গেছেন সেটি একটি ফ্লাট বাড়ির সপ্তম তলা । স্বপন শীল পেশায় একজন নাপিত হয়েও বিলাসবহুল এমন ফ্লাট বাড়িতে কি ভাবে ভাড়া থাকতেন সে বিষটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।

সূত্র আরও জানান, বাবার দেয়া তথ্য মতে মিথিলা ঢাকায় একটি বেসরকারী কলেজে অধ্যয়ন করতো । পাশাপাশি মডেলিং করতো বলেও পুলিশকে জানান স্বপন শীল । মূলত মিথিলার আয়ের টাকা দিয়েই ফ্লাট বাড়িতে বিলাস বহুল জীবন যাপন করতেন তারা ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান. আমরা ইতোমধ্যে মিথিলার ইউটিউব চ্যানেল ও ফেইসবুক পেইজ ভিজিট করেছি। তিনি বলেন, মিথিলা মডেলিং ছাড়া অন্য কোনো কিছু করতো কী না এবং তার সাথে কারা কারা আছে, কাদের যোগাযোগ ছিলো সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইউটিউবে দেয়া অশ্লীল ভিডিও গুলো জাক্যুলিন মিথিলা নিজে আপলোড করেছেন বলেও প্রাথমিক ধারণা পুলিশের ।

সুত্র জানায়,মিথিলার আয়ের টাকা দিয়েই বাবা স্বপন শীলসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিলাসী জীবনযাপন করতো । তবে মিথিলা কী ভাবে এতো টাকা রোজগার করতো সে বিষয়ে পুলিশের কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি স্বপন শীল ।

উল্লেখ্য, ফেইসবুকে আগাম ঘোষণা দিয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাত টা থেকে ৯ টার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ বারিক বিল্ডিংস্থ বাবার বাসায় নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন সমালোচিত আইটেম গার্ল জাক্যুলিন মিথিলা । পরে দুপুর একটার দিকে পুলিশ গিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙ্গে লাশ উদ্ধার করে।

একই দিন ময়নাতদন্ত শেষে নিহত জাক্যুলিনের বাবা স্বপন শীল মেয়ের কথিত স্বামী উৎপল রায়সহ ৮জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন।

ফেইসবুকে ঘোষণা দিয়ে আত্মহত্যা এবং থানায় মামলা দায়েরের পরও প্রায় তিনদিন বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করেন মিথিলার পরিবার।

৩ ফেব্রুয়ারি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলেও ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিষয়টি গোপন ছিলো সংবাদমাধ্যমের কাছে- বিষয়টি রহস্যজনক কি না জানতে চাইলে এসআই বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং মামলা তদন্ত কর্মকর্তা মো মইন উদ্দীন জানান লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি মিডিয়াতে আনতে চাইনি মিথিলার পরিবার ।

তিনি আরও বলেন, গলায় ফাশ দেয়ার আগে মিথিলা স্বামীসহ আরও কয়েকজনেক অভিযুক্ত করে একটি চিটি লিখে গেছে।

বিয়ের পর মিথিলাকে ঘরে তুলে না নেয়া এবং উৎপল (স্বামী) যোগাযোগ কমিয়ে দেয়ার কারনে মানুষিক অশান্তিতে মিথিলা আত্মহত্যা করেছেন বলেও জানান তিনি ।

সুত্র জানায়, উৎপল রায়ের সাথে মিথিলার বিয়ে হয়েছে এই মর্মে পুলিশের কাছে একটি স্টাম্প জমা দেয় মিথিলার বাবা স্বপন শীল । তবে ঐ স্টাম্পে দুই জনের ( মিথিলা ও উৎপল) স্বাক্ষর থাকলেও সে স্টাম্পে নোটারী পাবলিক (উকিল) এর কোন সীল-স্বাক্ষর নেই ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মো মইন উদ্দীন বলেন, মিথিলা বাবা বিয়ের যে কাগজ পত্র থানায় জমা দিয়েছেন সেটি রোটারি পাবলিক (আইনজীবী) থেকে অনুমোদিত নয়।
তিনি বলেন, মিথিলা ঢাকার একটি বেসরকারী কলেজে অধ্যয়নরত বাবা স্বপন শীল এমন দাবি করলেও অধ্যয়নের কোন প্রমানপত্র দিতে পারেন নি তিনি।

মতামত