টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে না পড়েই দাখিল পরীক্ষা দিতে হবে ২৫ শিক্ষার্থীকে !

পরীক্ষার তিনদিন আগে জানলো দুই বছর ধরে ভুল বিষয় পড়েছে

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে


চট্টগ্রাম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: নবম-দশম শ্রেনীতে কখনো পড়ানো হয়নি বিষয়টি। এমনকি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও জানেন না তাদের সেই আবশ্যিক বিষয়টি রয়েছে। চুড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হলে রেজিষ্ট্রেশন কার্ড আর প্রবেশ পত্রে দেখতে পান বিষয় কোডটি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল বুঝতে পেরে তড়িগড়ি করে বিষয়টির পরীক্ষা শরু হওয়ার মাত্র তিনদিন আগে পরীক্ষার্থীদের কাছে বিতরণ করলেন সেই বিষয়ের বই। তবে, একদিনের জন্যও পাঠদান করা সম্ভব হয়নি বিষয়টির উপর। আবশ্যিক বিষয়টির উপর ক্লাশে না পড়েই চলমান দাখিল পরীক্ষা দিতে হবে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৫ জন শিক্ষার্থীকে। এমনি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভাধীন বারৈয়ারহাট নজিরিয়া আহমদিয়া হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসায়।

বিপাকে পড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়টি তাদেরকে দুই বছর যাবৎ কখনো পড়ানো হয়নি মাদ্রাসায়। সেখানে মূলত পড়ানো হয় শারিরীক শিক্ষা। কিন্তু পরীক্ষার প্রবেশপত্র হাতে পাওয়ার পর জানতে পারি আমাদের শারিরীক শিক্ষার কোন বিষয় পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত নেই। সেখানে আবশ্যিক বিষয় রয়েছে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়। কিন্তু আমাদেরকে এই বিষয়ে বই প্রদান কিংবা শিক্ষকরা কখনো পাঠদান করাননি। আগামী ৯ ফেব্র“য়ারী এ বিষয়ের উপর পরীক্ষা। আমরা প্রবেশপত্র নিয়ে মাদ্রাসায় গেলে তড়িগড়ি করে পরীক্ষার মাত্র তিনদিন আগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ের বই প্রদান করেন। দুই বছরের পড়া মাত্র তিন দিনে পড়ে কি করে পাস করব ?

শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগের সত্যতা জানতে সরেজমিনে মাদ্রাসায় গেলে তার প্রামাণ পাওয়া যায়। বিষয়টি স্বীকার করেন বারৈয়ারহাট নজিরিয়া আহমদিয়া হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার শহিদুল আলম।

তিনি বলেন, আমাদের মাদ্রাসার স্বীকৃতি না থাকায় ফটিকছড়ি পৌরসভাস্থ মনিরুল উলুম বারীয়া ইসলামিয়া (দাখিল) মাদ্রাসার আওতাধিন রেজিষ্ট্রেশন করে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তাদের পাঠানো প্রবেশপত্র ও রেজিষ্ট্রেশন কার্ডে বিষয়টি দেখে আমরা হতবাক হয়ে যায়। এই মুহুর্তে কিছু করার উপায় না পেয়ে ওই বিষয়ের বই বিতরণ করি।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় মনিরুল উলুম বারীয়া ইসলামিয়া (দাখিল) মাদ্রাসা সুপার ফখরুদ্দিনের সাথে।

তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীকে নবম শ্রেনী থেকে রেজিষ্ট্রেশন করে পরীক্ষার পূর্ব পর্যন্ত নানাভাবে স্বাক্ষর করে চুড়ান্ত পরীক্ষা দিতে হয়। আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে সব ধরণের কাগজপত্র সরবরাহ করেছিলাম। কিন্তু তাদের কামখেয়ালীপনায় ভুল বিষয়ে পাঠদান করানো হয়। এ ভুলের জন্য মাদ্রাসাটির সুপার ও শিক্ষকরা দায়ী।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র নাথ বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কোন পাঠদান অনুমতি নেই। কেন যে মানুষ এসব অনুমতিবিহীন প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকরা ছেলেদের পড়ায় বুঝতে পারি না। এভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন নিয়ে চিনিমিনি খেলা নিতান্ত দু:খজনক। এসব শিক্ষার্থীর দায়ভার মাদ্রাসা সুপারকে নিতে হবে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাং ৭-২-১৭

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত