টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কনটেইনার পরিবহনের মহাপরিকল্পনা কাগজেই, ভোগান্তি বাড়ছে

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম বন্দরে বছরভেদে কনটেইনার পরিবহন বাড়ার হিসাব অনুযায়ী যন্ত্রপাতি সংযোজন ও নতুন টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শেষ করার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে কনটেইনার পরিবহনের হিসাব মেলেনি। সুপারিশও থেকে গেছে কাগজেই।

বন্দরের অর্থায়নে মহাপরিকল্পনাটি প্রণয়ন করে জার্মানির হামবুর্গ পোর্ট কনসালটিং নামের সংস্থা। সংস্থাটি ২০১৬ সালে তিন স্তরে কনটেইনার পরিবহনের হিসাব দেয়। এর আগে দুই বছরে কনটেইনার পরিবহনের হার ধারণার চেয়েও বাড়তে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, কনটেইনার পরিবহনের তুলনায় অবকাঠামো না থাকায় আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে সময় বেশি লাগছে। প্রয়োজনীয় জেটি না থাকায় এখন বন্দর জলসীমায় জাহাজ আসার পরও ব্যবসায়ীদের পণ্য হাতে পেতে তিন থেকে সাত দিন বাড়তি সময় লাগছে।

বন্দর সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের শেষ দিকে জার্মানির হামবুর্গ পোর্ট কনসালটিং বন্দরের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে। এতে বলা হয়, ২০১৬ সালে সর্বনিম্ম স্তরে ১৮ লাখ ২৬ হাজার, মধ্যম স্তরে ১৯ লাখ ৫৬ হাজার এবং সর্বোচ্চ স্তরে ২০ লাখ ৭৪ হাজার কনটেইনার পরিবহন হতে পারে।

এরমধ্যে সর্বোচ্চস্তরের চেয়েও গত বছর ২ লাখ ৭২ হাজার কনটেইনার বেশি পরিবহন হয়েছে এ বন্দরে। শুধু তাই নয়, মহাপরিকল্পনায় ২০১৭ সালে কনটেইনার পরিবহনের যে হিসাব দিয়েছে সংস্থাটি, তাও ছাড়িয়ে গেছে ২০১৬ সালে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নকারী হামবুর্গ পোর্ট কনসালটিংয়ের সহদলনেতা এ কে রশিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের সময় যে ধারণা দেওয়া হয়েছিল তার চেয়ে বেশি বেড়েছে কনটেইনার পরিবহনের ফলে বন্দরের ওপর চাপ বাড়ছে। এ জন্য মহাপরিকল্পনায় যেসব সুপারিশ করা হয়েছিল তা দ্রæত বাস্তবায়ন করা উচিত।

মহাপরিকল্পনায় বলা হয়, কনটেইনার পরিবহন বাড়তে থাকায় ২০১৭ সালের মধ্যে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার জন্য। এ ছাড়া ২০২০ সালের মধ্যে কর্ণফুলী কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করে চালু করা, ২০২৩ সালের মধ্যে বে কনটেইনার টার্মিনালের প্রথম ধাপের কাজ শেষ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে বন্দরের এসব প্রকল্পের অগ্রগতি হয়নি।

বন্দর সূত্র জানায়, বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর মূল যন্ত্র গ্যান্ট্রি ক্রেন কেনার দরপত্রই আহŸান করা হয়নি। অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়ায় চলছে ধীরগতি। আবার বন্দরের প্রস্তাবিত কোনো টার্মিনালের নির্মাণ কাজও শুরু হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেন, কনটেইনার পরিবহন দ্রæত বাড়তে থাকায় নিউমুরিং টার্মিনালের যন্ত্রপাতি দ্রæত সংযোজন করার প্রক্রিয়া চলছে। সীতাকুন্ডে খুব শিগগির নতুন টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।

সূত্র জানায়, গত বছর বন্দর দিয়ে ২৩ লাখ ৪৬ হাজারটি (প্রতিটি ২০ ফুট লম্বা কনটেইনার ধরে) কনটেইনার পরিবহন হয়। ২০১৫ সালের তুলনায় কনটেইনার পরিবহনের বাড়ার হার প্রায় ১৬ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে কনটেইনার পরিবহন বেড়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার। আবার ২০১৫ সালে কনটেইনার পরিবহন বেড়েছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। ২০১৬ সালে কনটেইনারে যত পণ্য আমদানি হয়েছে, তা হাতে পেতে গড়ে তিন দিনের বেশি সময় লেগেছে ব্যবসায়ীদের।

চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, আমদানি-রপ্তানি বাড়তে থাকায় এ বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবহনও বাড়তে থাকবে, এটা স্বাভাবিক। তবে কনটেইনার পরিবহন বাড়লেও সামাল দেওয়ার মতো অবস্থা বন্দরের নেই। নতুন অবকাঠামো না হলে ২০১৬ সালে ব্যবসায়ীদের যে ভোগান্তি হয়েছে, তা ক্রমেই বাড়বে।

কনটেইনারে আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পোশাক শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি, সিরামিক ও ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, বাণিজ্যিক পণ্য ইত্যাদি। আবার কনটেইনারে সিংহভাগ রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও হিমায়িত মাছ।

মতামত