টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আবদ্ধ গ্যাস থেকেই মাদ্রাসা ভবনের সেই বিস্ফোরণ: তদন্ত প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: রান্নাঘরের গ্যাসের চুলার পুঞ্জীভূত আবদ্ধ গ্যাস থেকেই চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার দেওয়ানবাজার নিরাপদ হাউজিং সোসাইটির ‘মাদ্রাসা ভবনে’ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে। ঘটনার ১০ দিন পর সোমবার বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থার আট কর্মকর্তার তৈরি করা এই প্রতিবেদনে ঘটনার কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও এটি যে নাশকতা নয় তার পেছনে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি এতে ছয়টি সুপারিশও করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত ২৭ জানুয়ারি ভোরে ‘মাদ্রাসা ভবনে’ বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে ছমুদা খাতুন (৭০) ও তার নাতনী তনিমা আফরিন ইফতি (১৬) মারা যায়। এ ঘটনায় আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন।

কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন রাতের বেলা খাওয়ার পানি ফুটানোর জন্য চুলার উপর পানির পাতিল ছিল এবং চুলাটি সচল অবস্থায় ছিল। একসময় অতিরিক্ত ফুটতে ফুটতে পানি পড়ে চুলাটিকে নিভিয়ে দেয়। ফলে চুলার আগুন নিভে গেলেও গ্যাস বের হতে থাকে। দীর্ঘসময় বের হওয়ার কারণে রান্নাঘর ও পাশের ঘর গ্যাসে সম্পূর্ণ হয়ে যায়। রান্নাঘর সহ আশপাশের বিভিন্ন কক্ষের জানালা খোলা না থাকায় গ্যাস আবদ্ধ হয়ে পড়ে। ভোর রাতে এ ঘটনায় মৃত ছমুদা খাতুনের ফজরের নামাজ পড়ার জন্য গরম পানির দরকার হলে তার নাতনি একই ঘটনায় মৃত তনিমা আফরিন ইফতি চুলার সামনে ম্যাচ জ্বালাতে গিয়ে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন ধরে যাওয়ায় ছমুদা খাতুন বের হওয়ার জন্য দরজা খোলেন। তখনই ঘরে একসঙ্গে প্রচুর বাতাস প্রবেশ করলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ভাষায় এটিকে ‘ব্যাকড্রাফট’ বলা হয়। পরিবারের সদস্যদের অসতর্কতা ও অসাবধানতা থেকেই এই বিচ্ছিন্ন ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে অগ্নিকান্ড প্রতিরোধে ছয়টি সুপারিশ করে বলা হয়, নিয়মিত বিশেষজ্ঞ দ্বারা ভবনসহ ভবনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চুলা ব্যবহারের পর আবশ্যিকভাবে সুইচ বন্ধ করা, রান্নাঘরের দরজা জানালা সবসময় আংশিকভাবে খোলা রাখা, ম্যানুয়েল চুলার পরিবর্তে অটোচুলা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমূহের অনুমতিপত্র গ্রহণ ও উন্নতমানের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা রেখে ভবন নির্মাণ করা যাতে দুর্ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থার যাতায়াত সহজ হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন বলেন, প্রতিবেদনটি আমি পেয়েছি। বিস্ফোরণের ঘটনাটি গ্যাস থেকেই হয়েছে বলে এতে উল্লেখ রয়েছে।

মতামত