টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এলজিইডি-সওজের গ্যাঁডাকলে বন্ধ মন্দাকিনি সেতুর নির্মাণ কাজ!

নাজিরহাট- কাজিরহাট সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

চট্টগ্রাম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): নাজিরহাট পৌরসভাধীন নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কের মন্দাকিনি খালের উপর স্থাপিত মন্দাকিনি বেইলি ব্রীজটি মাল বাহী ট্রাকসহ ভেঙ্গে যাওয়ার ২০ দিন পার হলেও এখনো মেরামত করে সড়ক যোগাযোগ সচল করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে কার্যত নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে এখনো। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই সড়কে চলাচলকারী সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি, ভুজপুর ইউনিয়নের প্রায় লাক্ষাধিক মানুষ।

দুর্ঘটনার কয়েকদিন পর তড়িগড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করলেও বিগত এক সপ্তাহ যাবৎ মেরামত কাজ সম্পূর্নভাবে বন্ধ রয়েছে।

সোমবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রীজটিকে সংস্কার কাজ করার সুবিধার্তে গাছের খুঁটি বসানো হয়েছে। ভেঙ্গে যাওয়া ব্রীজের পুরোনো লোহার পাটাতন কিছু অংশ সংস্কার করা ব্রিজের অংশের সাথে সংযোজন করা হয়েছে। বাকী অংশের জন্য যেসব মালামাল প্রয়োজন মূলত তার অভাবে আটকে গেছে নির্মাণ কাজ।

কথা হয় নির্মাণের দায়িত্বে থাকা শফিকুল ইসলাম নামক এক সেতু নির্মাণ শ্রমিকের সাথে। তিনি এ প্রতিবেদকে বলেন, আমরা ১০ জন মিস্ত্রী বিগত ৭ দিন ধরে বেকার বসে আছি। সেতু নির্মাণের মালামাল আজ আসবে, কাল আসবে বলে বলে আমাদের এখানে রেখে দেওয়া হয়েছে। ব্রীজ তৈরীর মালামালগুলো পেলে চারদিনেই এটিতে যান চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, যে বেইলি সেতুটি ভেঙ্গে গেছে এটি মূলত স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় (এলজিইডি) বিভাগের। বর্তমানে এলজিইডির আওতাধীন কোন বেইলি ব্রীজ নির্মাণ করা হয় না। যার কারণে বেইলি ব্রীজ নতুন করে নির্মাণ করতে হলে তাদের সরকারের অন্য বিভাগ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কাছ থেকে বেইলি ব্রীজের মালামাল সংগ্রহ করতে হয়। এটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে সওজের চট্টগ্রাম অফিসে ব্রীজটি নির্মাণের মালামাল চেয়ে আবেদন করা হয়। এমনকি মালামাল ছাড় পেতে সব ধরনের কাগজপত্র সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু যে দিন মালামাল নিয়ে আসা হবে, সেদিন সওজের চট্টগ্রামের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেুদুল আলম বদলি হয়ে গেলে নতুন দায়িত্বে আসা নির্বাহী প্রকৌশলী অদৃশ্য কারণে আটকে দেন ছাড়পত্র। এলজিইডি-সওজের গ্যাঁডাকলেই সেতুটির নির্মাণ কাজ এখন বন্ধ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নতুন দায়িত্বে আসা সওজের চট্টগ্রামের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, সড়ক ও ব্রীজটি এলজিইডির; সুতারাং এটি এলজিইডিরই সমস্যা। তারা যদি অলসভাবে বসে থাকে আমাদের করার কি আছে ? তাদের সমস্যা তারা নিজেরাই সমাধান করবে । মালামাল চেয়ে আমার কাছে এ ধরনের কোন কাগজপত্র আসেনি।

অপরদিকে উপজেলা প্রকৌশলী ম. বিল­াল হোসেন বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, এলজিইডির কাছে বেইলি ব্রীজের পাঠাতন না থাকায় সওজের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বিষয়টি শীঘ্রই সমাধান হয়ে ব্রীজ নির্মাণের মালামাল নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাগব করতে যত দ্রুত সম্ভব ওখানে বেইলী ব্রীজ নির্মাণের জন্য পক্রিয়া অব্যহত রেখেছি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত