টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘এই ক্ষতি অপূরণীয়’

চট্টগ্রাম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই নেতার অবদানের স্মৃতিচারণ করে দুই জনই বলেছেন, সুরঞ্জিতের মৃত্যুতে জাতির যে ক্ষতি হয়েছে তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।

রবিবার সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এই খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের ঝাঁকুনি লাগে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ছুটে যান হাসপাতালে। ছুটে যান তার বাড়িতেও। শোক জানান রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানও।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন ‘বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। তার মৃত্যুতে দেশ একজন দক্ষ রাজনীতিবিদকে হারালো; এই ক্ষতি অপূরণীয়।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত শুধু একজন রাজনীতিকই ছিলেন না, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও তিনি অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। সংসদীয় রাজনীতিতে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অতুলনীয়।’

সুরঞ্জিতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান আবদুল হামিদ।

ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ভোরে এই সংসদ সদস‌্যের মৃত‌্যু হয়। সত্তরোর্ধ্ব এই রাজনীতিবিদ হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতাজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শোকবর্তায় বলেন ,‘ তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে যা সহজে পূরণ হবার নয় । তাঁর মৃত্যুতে জাতি হারালো একজন দেশ প্রেমিক রাজনীতিবিদ , বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ হারালো একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, আর আমরা হারালাম সব প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামের একজন অগ্র সেনাকে ।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সত্তরের প্রাদেশিক পরিষদে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্য; স্বাধীন দেশে তিনি সংসদ সদস‌্য নির্বাচিত হয়েছেন সাতবার।

প্রথম জীবনে তিনি বামপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সত্তরের প্রাদেশিক নির্বাচনে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। স্বাধীন বাংলাদেশের দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম জাতীয় সংসদ- মোট সাতবার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর তিনি রেলমন্ত্রী হন। মৃত্যুর আগে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত