টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সুরঞ্জিতের মরদেহ যাবে ঢাকেশ্বরী ও সংসদ ভবনে

চট্টগ্রাম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): : আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মরহদে রবিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় তার ঢাকার বাসভবন জিগাতলায় নেয়া হয়। পরে বেলা ১২টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নেয়া হবে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে।

বিকাল ৩টায় মরদেহ নেয়া হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এরপর সংসদে ‘অবিচুয়ারি রেফারেন্স’ হবে। আগামীকাল সোমবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় মরদেহ যাবে সিলেটে। সকাল ১০টায় সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বেলা ১১টায় মরদেহ যাবে সুনামগঞ্জে। এরপর সেখান থেকে মরদেহ তার নির্বাচিত এলাকা দিরাই ও শাল্লাতে নেয়া হবে। পরে দিরাইয়ে বিকেল ৩টায় তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে রবিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা মারা যান সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গত শুক্রবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে শনিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের সিসিইউতে নেয়া হয়। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। দীর্ঘদিন যাবত তিনি রক্তে হিমোগ্লোবিন স্বল্পতাজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলে ব্রেকিংনিউজকে জানান তার ব্যক্তিগত সহকারী কামরুল হক।

গত বছর মে মাসে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সুরঞ্জিত। পরে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালেও চিকিৎসা নেন তিনি।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জন্ম ১৯৪৬ সালে সুনামগঞ্জের আনোয়ারাপুরে। সত্তরের প্রাদেশিক পরিষদে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্য। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ভিপি প্রার্থী হয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) পিকিং ও মস্কো ধারায় দুই টুকরা হলে মাওলানা ভাসানীকে ত্যাগ করে সুরঞ্জিত অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বাধীন অংশে যোগ দেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে ন্যাপ থেকে জয়ী হয়ে দেশবাসীকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। পরে ন্যাপের ভাঙনের পর গণতন্ত্রী পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। বামপন্থী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়া সুরঞ্জিত দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম এবং দশম জাতীয় সংসদসহ মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে এমপি হলেও ওয়ান-ইলেভেনের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্য চার জন সিনিয়র নেতার সঙ্গে সুরঞ্জিতও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর পদটি হারান। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান। পরে ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর রেলমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সুরঞ্জিত। তবে সহকারীর অর্থ কেলেঙ্কারির দায় মাথায় নিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন, তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দফতরবিহীন মন্ত্রী হিসাবে রেখে দেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত