টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

গণতন্ত্র উৎখাতে চট্টগ্রামে সক্রিয় ইসলামি সমাজ

চট্টগ্রাম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): ইসলামি খেলাফত কায়েমের মাধ্যমে গণতন্ত্র উৎখাতের লক্ষ্যে আবার সংগঠিত হচ্ছে ইসলামি সমাজ নামের সংগঠন। চট্টগ্রামে এক গোপন বৈঠকে আটক ইসলামি সমাজের ২৪ জনের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

আজ শনিবার দুপুরে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নগরীর পাহাড়তলি এলাকার একটি ভবনে গোপন বৈঠককালে ওই ২৪ জনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

পরিতোষ ঘোষ বলেন, দুই দশক আগে জামায়াত নেতা মুফতি আব্দুল জব্বারের গড়ে তোলা সংগঠন ইসলামি সমাজ এখন চট্টগ্রামে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা সৈয়দ হুমায়ুন কবির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কালো তালিকাভুক্ত এই সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশ এবং স্পেশাল ট্রাস্কফোর্স গ্রুপের (এসটিজি) যৌথ অভিযানে আটকদের মধ্যে ইসলামি সমাজের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান দায়িত্বশীল নেতা মো. রহুল আমিন (৪৫) এবং টঙ্গী অঞ্চলের প্রধান দায়িত্বশীল নেতা মো. ইউছুফ আলীও (৪৬) রয়েছেন।

ইসলামি সমাজের কর্মীদের ব্যাপারে উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা কয়েক বছর ধরে সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত। অনেকে আবার একেবারে নতুন। সাধারণ কমশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, নিম্নআয়ের লোকজনই তাদের টার্গেট। কারণ এদের ধর্মের কথা বলে সহজে বিশ্বাস করানো যায়।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘ইসলামি সমাজ চট্টগ্রামে কার্যক্রম শুরু করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর তারা পুরাতন রেলস্টেশনে দোয়া মাহফিল করে। এর বাইরে চট্টগ্রামে তাদের কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

তবে ইসলামি সমাজ গণতন্ত্রের বিরোধী এবং এরা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায় উল্লেখ করে পরিতোষ ঘোষ বলেন, তারা এখন মানুষকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করার পর্যায়ে আছে। ইসলামের নাম দিয়ে তারা সাধারণ লোকজনকে উগ্রবাদে জড়াচ্ছে।

আটক ২৪ জনের কাছ থেকে পাওয়া ইসলামি সমাজের প্রচারপত্রেও উল্লেখ আছে, ‘সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব এবং মানবরচিত ব্যবস্থা গণতন্ত্র পরিত্যাগ করে…সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত চেষ্টা করা অত্যাবশ্যক। ’

১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৮ সালে ইসলামি সমাজ গণমাধ্যমে আলোচনা আসে বলে জানান পরিতোষ ঘোষ। এর মধ্যে তারা কুমিল্লার পাশাপাশি বান্দরবান, জামালপুর জেলায় তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করে।

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যখন রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল তখন ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট বান্দরবান ও জামালপুরে প্রকাশ্যে প্রচারপত্র বিলি করতে গিয়ে ধরা পড়েন ইসলামি সমাজের ১৫ জন নেতাকর্মী। এর মধ্যে বান্দরবান জেলা জজ আদালতের সামনে থেকে আটজন এবং জামালপুর থেকে সাতজনকে আটক করা হয়। ওই সময় ইসলামি সমাজকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

নগর পুলিশের উপকমিশনার বলেন, জামালপুরে আটকের পর ইসলামি সমাজের কোনো নেতাকর্মী আর কোথাও আটক হয়নি। তারা মাঝে মাঝে প্রকাশ্যে আসে। অনেক সময় গোপনেই কাজ করে। তবে গণমাধ্যমে মাঝে মাঝে তারা তাদের কর্মসূচির বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। অনেকটা হিযবুত তাহরীরের মতো চলে তারা।

ইসলামি সমাজের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে নগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সংগঠন চারটি স্তরে বিভক্ত। এর মধ্যে একজন কেন্দ্রীয় আমির। এর পরের ধাপ হলো মামুর বা অঞ্চলপ্রধান। তৃতীয় ধাপে রয়েছে দারা অর্থাৎ যারা দাওয়াত দিয়ে সংগঠনে আনে। সর্বশেষ ধাপ হলো দাওয়াতি অর্থাৎ যারা দাওয়াত গ্রহণ করে এবং সংগঠনের কাজে সক্রিয় হয়।

পূর্ব পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের একজন ছিলেন মুফতি আব্দুল জব্বার। আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন নিয়ে কাজ করেন তিনি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরে জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব নেয়ার পর বিরোধ সৃষ্টি হয় আব্দুল জব্বারের সঙ্গে।

সেই বিরোধের জেরে ১৯৯৭ সালের ১৭ মে ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন মুফতি আব্দুল জব্বার। নব্বইয়ের দশকের ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতা কুমিল্লার সৈয়দ হুমায়ুন কবির এখন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আমির হিসেবে দায়িত্বে আছেন। কুমিল্লার রায়পুর উপজেলার কুশিয়ারা গ্রামে সংগঠনের সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন মুফতি আব্দুল জব্বার। সেটি এখনো বহাল আছে।

জামায়াত নেতা মুফতি আব্দুল জব্বার জঙ্গি সংগঠনগুলোর আদলেই ইসলামি সমাজ গড়ে তুলেছিলেন। জেএমবি, হিযবুত তাহরীরসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের আদর্শ এবং আহ্বানের সঙ্গে ইসলামি সমাজের পুরোপুরি মিল আছে। ইসলামি সমাজের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ধরনও হিযবুত তাহরীরের মতোই।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত