টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সবজিতে মশগুল সাতকানিয়ার চাষীরা

বাম্পার ফলনে বেজায় খুশি

শহীদ ইসলাম বাবর
বিশেষ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  শীতকালীন সবজিতে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছে চাষীরা। বেশ কয়েক বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা এবারে ভাল ফলন ও ভাল বাজার মূল্য পাওয়াির কারনে বেজায় খুশি তারা। একাধিক কৃষক ও সবজির বাজার পরির্দশণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়,দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। তার মধ্যে চরতী, আমিলাইশ, নলুয়া, খাগরিয়া,কাঞ্চনা, কেঁওচিয়া, ছদাহা ও সোনাকানিয়া, বাজালিয়া ও পুরানগড় ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ হয়ে বাকি। বাকি ইউনিয়ন সমূহে সবজি চাষ হলেও তা তুলনামূলক ভাবে কম।

সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহি উদ্দিন জানান,সাতকানিয়ায় ৬০ হেক্টর ফুলকপি, বাধাঁকপি ৬৫ হেক্টর, সীম ৩শ ৬০ হেক্টর, ফেলন ১ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর,সরিষা ৫০ হেক্টর, মরিচ ২শ হেক্টর, বেগুন ১শ ২০ হেক্টর, টমেটো ৫০ হেক্টর ও করলা ১শ ২০ হেক্টর সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে চরতী, আমিলাইশ, নলুয়া ও কালিয়াইশ ইউনিয়নে শঙ্খ নদীর চরে চাষ হয়েছে ব্যাপক সবজি।

সরেজমিন পরির্দশনে দেখা যায়, উপজেলার খাগরিয়ায় চাষ হয়েছে ব্যাপক আকারে আলু, চরতী আমিলাইশে ফুলকপি, বাধাঁকপি, ছদাহায় বেগুন, টমেটো ও আর মরিচ, পুরানগড়ে সীম। বাকি সবজি গুলো সবকটি ইউনিয়নে কম আর বেশি চাষ হয়েছে। তথ্যানুযায়ী জানা যায়, সাতকানিয়ার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে সবজি চাষ হলেও সব এলাকায় সবকটি প্রকারের সবজি চাষ হয়না। আলুর জন্য খাগরিয়া, ফুলকপি বাধা কপির জন্য চরতী, আমিলাইশ নলুয়া, বেগুন ও টমেটোর জন্য ছদাহা ইউনিয়নটি বিখ্যাত হিসেবে খ্যাত রয়েছে।

চরতীর এলাকার চাষী হারুনুর রশিদ বলেন, চরতীতে সবজি মৌসুমে ব্যাপক আকারে ফুলকপি, বাধাঁকপি ও মরিচের চাষ হয়। গত কয়েক বছর বৈরী আবহাওয়ার কারনে সবজির ভাল ফলন না হলেও চলতি মৌসুমে সবজির ভাল ফলন হয়েছে। বাজার মূল্যও ভাল থাকায় চাষীরা দারুন ভাবে খুশি।

জানা যায়, ক্ষেত থেকেই মৌসুমী সবজি ব্যবসায়ীরা সবজি ক্রয় করে বাজারে নিয়ে আসেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে একাধিক চাষী মিলেও নৌকা কিংবা গাড়িযোগে বাজারজাত করে থাকেন। এ অঞ্চলের একাধিক সবজির বাজার রয়েছে। তার মধ্যে দোহাজারী রেল স্টেশন, ছাদাহা শিশুতল বাজার, ও দস্তিদার হাট হচ্ছে সবজির জন্য বড় বাজার। প্রতিদিন সকাল বেলায় এ বাজারগুলো সবজি ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভীড়ে মূখর থাকে।সেখান থেকে সবজির পাইকাররা সবজি সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম শহরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছে। সবজির পাইকার চট্টগ্রাম শহর থেকে শিশুতল বাজারে আসা লোকমান হোসেন জানান, চট্টগ্রাম শহরে সাতকানিয়ায় উৎপাধিত সবজির আলাদা চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া এ অঞ্চল থেকে সংগৃহিত সবজি তাজা থাকায় এ সবজির চাহিদা বেশী। ফলে অনেকটা প্রতিদিনই আমি সহ আরো অনেক ব্যবসায়ী এখান থেকে সবজি সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। লাভের পরিমাণ কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাভের পরিমাণটা নির্দিষ্ট নয়, একেক সময় একেক রকম হয়। তবে সবজির ব্যবসা করে অর্জিত আয় দিয়ে পবিরার পরিজন নিয়ে ভালই আছি। সাতকানিয়ার সবজির আবাদ ও সবজি চাষীদের সমস্যা সম্ভাবনার কথা জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোয়েব মাহমুদ বলেন, এবারের শতি মৌসুমে সাতকানিয়ায় সবজি উৎপাধন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকরা লাভবান হওয়ার কারনে আগামীতে সবজি চাষ আরো বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ববনা রয়েছে।

মতামত