টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সিইসির দৌড়ে এগিয়ে যারা

চট্টগ্রাম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য এখন নতুন নির্বাচন কমিশনের দিকে। কে হচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই প্রশ্নে এখন পাড়াগাঁয়ের চায়ের দোকানেও ঝড় বইছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন গঠনে গঠিত সার্চ কমিটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছে ২০ জনের। এই নাম প্রকাশ করেনি তারা। এর আগে ২৬টি দল পাঁচটি করে নাম জমা দিয়েছে কমিটির কাছে। এসব নামের কোনেটিও প্রকাশ হয়নি। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের জানার আগ্রহ ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নাম নিয়েই।

সার্চ কমিটির মতো দেশের শীর্ষ দুই দলও তাদের জমা দেয়া তালিকা প্রকাশ করেনি। তবে নানা সূত্র থেকে বিভিন্ন নাম প্রকাশ হয়েছে। আর নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে আলোচনায় আছে বেশ কিছু নাম।

বৃহস্পতিবার সার্চ কমিটির সব শেষ বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, সংক্ষিপ্ত নামের তালিকা নিয়ে তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার বদলে নানা সূত্র থেকে তথ্য যোগাড়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন বেশ কয়েকজন। এদের মধ্যে রয়েছেন মনজুর হোসেন। ব্যক্তি হিসেবে মিষ্টভাষী ও সদালাপী। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে নেত্রকোণা জেলার প্রশাসক ছিলেন তিনি। ছিলেন ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা ডেসার সদস্য। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ছিলেন তিনি। পরে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার সচিব হন। এছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র, কৃষি মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব পদেও দায়িত্ব পালন করেন। শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হিসেবে অবসরে যান মনজুর হোসেন। এখন তিনি রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংক রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের পরিবারের সদস্য মনজুর হোসেনের ভাই মালিক খসরু ৭৩ ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি অবসর নেন।

নূর মোহাম্মদ। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বা আইজিপি। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ছিলেন তিনি। ওই সরকারের আমলে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির নেতা বাংলা ভাই ও শায়েখ আবদুর রহমান যখন দেশের উত্তরাঞ্চলে দোর্দ- প্রতাপের সঙ্গে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তখন নূর মোহাম্মদ তখন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির দায়িত্বে ছিলেন। ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় আইজিপি হন নূর মোহাম্মদ। আইজিপি থেকে অবসরে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের গত আমলে যুব ও ক্রীড়া সচিব পদে নিয়োগ পান। পরে তাকে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

সালেহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বিএনপির তালিকায় আছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এই অর্থনীতিবিদ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন। দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নিয়োগ বরাবরই সরকারের ইচ্ছেয় হয়ে থাকে এবং সরকারের নীতি ও আদর্শেও প্রতি অনুগতরাই এই পদে নিয়োগ পান বলে ধারণা কার হয়। এছাড়া তিনি পল্লী ক্ষুদ্রঋণ অর্থায়নকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আসাফ উদ-দ্দৌলাহ। তার নামও বিএনপির তালিকায় আছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে। তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। অবসরের পর রাজনীতিতে এসে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদ সদস্যও ছিলেন। পরে ফরিদপুর সদর আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু পাননি। তবে তাকে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়। পরে তিনি ওই পদ ছেড়ে দেন এবং আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে এসে বিএনপি ঘরনার সংগঠনের নানা কর্মসূচিতে অংশ নিতে থাকেন। গত কয়েক বছর ধরেই আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচকদের একজন আসাফ উদ্দৌলাহ। ফরিদপুরে তার পরিবারিকভাবে আওয়ামী লীগ বিরোধী বলে পরিচিত।

শাহদীন মালিক। আইনজ্ঞ হিসেবে পরিচিত এই বিশেষজ্ঞ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গণমাধ্যমে পরিচিতি পান। তিনি ওই সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ছিলেন। ওই সময় যারা দুই নেত্রীকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়াসহ বিরাজনীতিকরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের সঙ্গেও শাহদীন মালিকের সখ্য ছিল। শাহদীন মালিকও আওয়ামী লীগের সমালোচকদের একজন। তার পরিবারও আওয়ামী লীগবিরোধী হিসেবে পরিচিত। তার ভাই মোহাম্মদ জহির বিএনপির ঘরাণার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাকে বিএনপি থেকে প্রার্থী করার ব্যাপারে জোর গুঞ্জন ছিল।

মতামত