টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কালুরঘাট ব্রিজ নিয়ে ভিডিও বার্তায় নাগরিকের প্রশ্নের উত্তর দিলেন এমপি বাদল

চট্টগ্রাম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নির্বাচিত ৩শ’ এবং সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের এমপিদেরকে জনগণের মুখোমুখি করতে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ ‘আমার এমপি ডট কম’ নামের একটি সাইট। ওয়েবসাইটটি পরীক্ষামূলকভাবে চলছে গত এক বছর ধরে। এক অসাধারণ উদ্যোগে এগিয়ে যাচ্ছে এই ‘আমার এমপি ডট কম’। সেই প্রত্যয়ে এবার যোগ হলো এক সংসদ সদস্যের ভিডিও বার্তা। চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদল সেই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি ডিডিও বার্তায় উত্তর দিয়েছেন এক নাগরিকের করা প্রশ্নের।

আমার এমপি ডট কমের হয়ে কথা বলেছেন প্রায় দীর্ঘ প্রায় ১৫ মিনিট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো এমপি এই প্রথম ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভোটারের প্রশ্নের উত্তর দিলেন। নিজ এলাকা চান্দগাঁও উপজেলার মো: আরমান হোসেনের করা প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

আমার এমপি ডট কম ব্যবহার করে মো: আরমান হোসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদলের কাছে প্রশ্ন করেন কালুরঘাট বোয়ালখালী ব্রিজ কবে নির্মিত হবে। আর এই প্রশ্নের বিস্তর উত্তর দেন এই সংসদ সদস্য। প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করেন আমার এমপি ডট কমের চট্টগ্রাম-৮ প্রতিনিধি আসফাক হোসাইন খান।

দীর্ঘ কথোপথনে বিস্তর ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই সংসদ সদস্য বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্পন্ন করতে হলে অবশ্যই কালুরঘাট ব্রীজের কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। আর এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের একটি। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আরও বলেন, আগামী জুনের মধ্যে এই ব্রিজের টেন্ডার সম্পন্ন হবে।

ভিডিও বার্তায় সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদল বলেন, এমন একটি উদ্যোগের জন্য আমার এমপি ডট কমকে শুভেচ্ছা। কারণ গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশেষত জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা একটি অন্যতম বিষয়। আমার এমপি ডট কম সেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমার এমপি ডট কমের মাধ্যমে আমার এলাকার একটি প্রশ্ন পেয়েছি। বর্তমানে এলাকার নাগরিকদের প্রধান দাবি, কালুরঘাট সেতুটি কবে নির্মিত হবে। ৮ বছর তো অতিক্রম হয়েছে। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, নির্বাচনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা বাস্তবায়নে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এই কয়েক বছরে রাস্তা ঘাটের ব্যাপক সংস্কার করেছি। একই সড়কের উপর তিন থেকে চার বার সংস্কার হয়েছে। ৬০ ভাগ সড়কের উন্নয়ন মান বজায় রাখায় চেষ্টা করা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, পৌরসভার উন্নয়ন কাজগুলোর দায়িত্ব মেয়রের। এখানে আমিও পরিকল্পনার অভাব লক্ষ্য করছি। শহরাঞ্চলের রাস্তাঘাটের দায়িত্ব কিন্তু আমার কাধে পড়ে না। মজার ব্যাপার হলো যারা দায়িত্বে আছেন, কাজ করছেন কিংবা করছেন না; তার দায়িত্ব কিন্তু আমার কাধে পড়ছে।

তিনি বলেন, সেই পরিকল্পনার ব্যতয় ঘটছে। পাবলিক চিৎকার করছে। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারটি দেখার জন্যে আমি বারবার বলেছি।

এই সংসদ সদস্য তার এলাকার নাগরিকের করা প্রশ্নের উত্তরে আরও বলেন, ৩০০ মিটারের উজানে আরেকটি সেতু নির্মাণ হবে। সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি সেতু নির্মাণ সম্ভব হবে। বিদেশী ডোনাররা এপ্রোচ করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সম্মতি জানিয়েছে। তবে নকশা তাদের পছন্দ হয়নি। তারা নিজেদের মতো করে নকশা করছে। তাদের নকশা মতো এর খরচ পড়ে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচ বেড়ে যায়। আবার ডোয়াল গ্রেজের জন্য এই খরচ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৮০০ কোটি টাকা। এইসব কারণে সেতু নির্মাণ বিলম্বিত হচ্ছে। তবে আগামী জুনে এর টেন্ডার সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, এটি সরকারের একটি আগ্রাধিকার প্রকল্প। আশা করা যায় দ্রুত সময়ে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে।

মতামত