টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম কাস্টমসে শুল্কফাঁকি ঠেকাবে ‘ডাটা অ্যানালাইসিস’

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে শুল্কফাঁকি ও অনিয়ম ঠেকাতে চালু হচ্ছে ‘ডাটা অ্যানালাইসিস ফর ইফেক্টিভ বর্ডার ম্যানেজমেন্ট’ সিস্টেম। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ সিস্টেম চালু করছে। গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসে এ সংক্রান্ত একটি সেমিনারও আয়োজন করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মুহাম্মদ রইচ উদ্দিন খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ডাটা অ্যানালাইসিস ফর বর্ডার ম্যানেজমেন্ট বাস্তবায়ন হলে জালিয়াতির ঘটনা কমবে। মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য আমদানী বা রপ্তানীর সুযোগ আর থাকবে না।

তিনি বলেন, যে দেশ থেকে পণ্য আসবে এবং যে দেশে পণ্য যাবে দুটো ক্ষেত্রেই ডাটা সংরক্ষণ পদ্ধতি শক্তিশালী করা হবে। তাতে মনিটরিং সহজ হবে। তাই কাস্টমসকে ঘিরে জালিয়াতি ও কারসাজির দিন শেষ হয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডাটা সংরক্ষণ পদ্ধতি মজবুত ও আন্তর্জাতিকভাবে শেয়ারিং পদ্ধতি মজবুত না হওয়ায় মিথ্যা ঘোষনায় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কফাঁকি ও নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত ১২টি অবৈধ চালানের বিপরীতে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা ধরা পড়ে।

আমদানি ছাড়াও রপ্তানি চালানের ক্ষেত্রেও ডকুমেন্ট জালিয়াতি ও মিথ্যা ঘোষণার অপকৌশল ধরা পড়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে। বিশেষ করে শিল্পের যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্যপণ্য ইত্যাদি আমদানির ক্ষেত্রে ঘোষণা বহির্ভ‚ত অন্য মালামাল আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়েই ফাঁকি দেয়া হচ্ছে বিপুল অংকের রাজস্ব।

আর এ সমস্যা দূর করতে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসে ‘ডাটা অ্যানালাইসিস ফর ইফেক্টিভ বর্ডার ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক এক সেমিনার আয়োজন করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত বিভাগ। যার মধ্য দিয়ে জালিয়াতি ও কারসাজির অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত কর্মকর্তারা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, উচ্চহারের শুল্কায়ন যোগ্য পণ্যসামগ্রীকে কম শুল্ক হারের, নিম্মতম স্তরের এমনকি নামমাত্র বা শূন্য শুল্কহারের পণ্য হিসেবে আমদানির আনুষঙ্গিক ডকুমেন্টে ঘোষণা দেয়া হয়ে থাকে। তাছাড়া ডকুমেন্টে এক পণ্যের নামে আরেক ধরনের পণ্যের ঘোষণা দেয়া হয়।

গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত এমন ১২টি অবৈধ চালানের বিপরীতে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টার ঘটনা ধরা পড়ে। ২৯ ডিসেম্বর বিপি শিট আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয় ২২টি কন্টেইনার বোঝাই চীনামাটি।

ক্যাপ ট্রেডিং নামে ঢাকার একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নামে আসা দুটি চালানে এসব পণ্য পাওয়া গেছে। বন্দরের এনসিটি ইয়ার্ডে খালাসের প্রাক্কালে বিষয়টি ধরা পড়ে বন্দর নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এসে কন্টেইনারগুলো খুলে ঘোষণা বহির্ভ‚ত পণ্য আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিকৃত দুই কন্টেইনার কসমেটিক্স সামগ্রী আটক করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, আনীত চালানে আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা করা হয়।

এর আগে ২ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর থেকে গার্মেন্ট শিল্পের কাঁচামাল (হ্যাংগার, বোতাম ও সুতা) ঘোষণায় আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ ও প্রসাধনী পণ্য নিয়ে আসে কুমিল্লা ইপিজেড এলাকার প্রতিষ্ঠান ক্যাট গার্মেন্টস লিমিটেড। চালানের আগামপত্র (বিল অব এন্ট্রি-২৩২৯৪৮) জমা দেয় খালাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান খলিল ট্রেডার্স। রফতানি পণ্যের কাঁচামাল আমদানির ঘোষণা থাকায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য দ্রæত খালাসের ছাড়পত্র পায় প্রতিষ্ঠানটি।

কিন্তু গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানের ছাড়করণ সাময়িকভাবে স্থগিত করে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা চালায় চট্টগ্রাম কাস্টমসের এআইআর শাখা। এতে দেখা যায়, প্রায় সাড়ে তিন হাজার কেজি ওজনের ২৮ ধরনের আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ ও ৩ হাজার ৪৭৩ কেজি প্রসাধনী পণ্য নিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসের এক কর্মকর্তা জানান, তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয় না। আমদানিকারকদের দেয়া হয় চালান দ্রæত ছাড়করণের সুবিধা। এসব কাঁচামালে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানি হয় বলে এগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত আমদানি ছাড়াও অন্যান্য বাড়তি সুবিধা দেয়া হয়। তাই বাড়তি শুল্কযুক্ত পণ্য বা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের কায়িক পরীক্ষা এড়ানোর জন্যই গার্মেন্টসের কাঁচামাল আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দেয় কিছু প্রতিষ্ঠান। এছাড়া শুল্ক ফাঁকি দিতেও এ ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছেন তারা।

কয়েকটি মামলার নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গার্মেন্টসের কাঁচামাল ঘোষণায় আমদানিতে রাজস্ব ফাঁকি দিতে চার ধরনের মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন আমদানিকারকরা। এগুলো হলো আমদানি পণ্যের পরিচিতি তালিকা (এইচএস কোড) পরিবর্তন, ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য আমদানি, সিপিসি (কাস্টমস প্রসিডিউর কোড) পরিবর্তন ও নথি জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে এইচএস কোড পরিবর্তন বা ঘোষণা বহির্ভ‚ত পণ্য আমদানির ঘটনায়। মামলা হলেও তদন্ত চলছে ধীরগতিতে। অনেক তদন্ত প্রতিবেদন থেকে যাচ্ছে অন্ধকারে। ফলে শাস্তিও হচ্ছে কম।

# ইব্রাহিম খলিল। ৩১.১.১৭ ইং #

মতামত