টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে ‘দূরত্ব’ বেড়েছে বাবুলের

চট্টগ্রাম, ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):  পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেছেন। নতুন চাকরিতে যোগদান করার পর থেকেই শ্বশুর-শাশুড়িকেও এড়িয়ে চলছেন। স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার বাদী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রাখছেন না বলে অভিযোগ করেছে শ্বশুরের পরিবার। মগবাজারে বাসা নেওয়ার পর থেকে দুই সন্তানকেও নিয়ে সেখানেই থাকেন বাবুল আক্তার। অন্যদিকে মিতু নিহতের ৭ মাস পরও কীভাবে মিতুর নাম্বার আরেকজন চালু রেখেছে তা নিয়েও পুলিশের তদন্তের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করছেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন।

বাবুলের শ্বশুর ও শাশুড়ি গত ২৭ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর মিডিয়ার কাছে নানান ক্ষোভের কথা জানান।

শনিবার (২৯ জানু) মোশাররফ হোসেনের সাথে কথা হলে বলেন, আমরা আমাদের মেয়েকে হারিয়েছি। আমাদের জ্বালা আছে। সন্তানের মৃত্যুর শোক সারা জীবন থাকবে। কিন্তু বাবুল তার স্ত্রীকে হারিয়েছে। তারওতো কষ্ট থাকার কথা বেশী। মগবাজারে নতুন বাসায় যাওয়ার পর থেকে মোটামুটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্নই বলা যায়। বাবুল আমাদের সাথে খুব কমই যোগাযোগ করছে। আর মামলা নিয়ে এখনও কোন কিছুরই তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এক কথায় এড়িয়ে চলছে।

তাহলে সে কি চাইছে এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মিতুকে কে বা কারা হত্যা করেছে সেই বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে সার্বিক সহযোগীতাও করছে না। একবার শুধু তদন্ত কর্মকর্তার সাথে দেখা করেই দায়িত্ব শেষ করেছে বলে মনে করছেন তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন।

বাবুল আক্তারের শিশুদের সাথে দেখা হয় কিনা প্রসঙ্গে বাবুলের শ্বাশুড়ি বলেন, এখন কয়েকমাস ধরে খুব কমই দেখা হয়। ছুটির দিনে কিংবা স্কুলে আসলে দেখা করে, তাও মাঝেমধ্যে।

সিএমপিতে তদন্ত কমর্কর্তার সাথে সাক্ষাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাবুল মিতুকে নিয়ে এক সাথে থাকত। এখন মিতু ও তার পরিবার কিভাবে চলত তা যদি আমাদের কাছে জানতে চায় তদন্ত কর্মকর্তাকে আমরা কি জবাব দিব। তার জবাব বাবুল দিতে পারবে।

বাবুলের শ্বশুর বলেন, মিতুর নাম্বারটা এখনও সচল। তার নাম্বারটা কে চালাচ্ছে কেন পুলিশ সেটি উদ্ধার করতে পারেনি।

বাবুলের মাঝে যে সকল পরিবর্তন এখন দেখা যাচ্ছে তা কতদিন ধরে মনে হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে থেকেই সে কম কথা বলত। নতুন বাসায় উঠার পর থেকেই তাকে আরও রিজার্ভ মনে হচ্ছে। কোন কিছু জিজ্ঞাসা করলে তার সদোত্তর ইদানিং পাওয়া যায়না।

এ সব অভিযোগ নিয়ে বাবুলের সাথে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেনি। তবে বাবুলের ভাই হাবিবুর রহমান লাবু জানান, বাবুল তার নতুন কর্মস্থলে যাতায়াতের সুবিধার্থে অফিসের কাছে বাসা নিয়েছেন। তবে বাচ্চাদের শ্বশুরালয়ের কাছের স্কুলেই রেখেছেন। বাবুল শ্বশুরবাড়ির মানুষের সাথে কম যোগাযোগ রাখছে কেন এ নিয়ে তিনি বলেন, কর্ম ব্যস্ততার জন্য সবার সাথেই যোগাযোগ কম রাখছে। তারমানে এই নয় যে যোগাযোগ একেবারেই বিচ্ছিন্ন। সবার সাথে আগের মতো সুসম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে নিহত হন মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। এর পর গত বছর ২৪ জুন মধ্যরাতে ঢাকার বনশ্রী এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুল আক্তারকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আবার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। বাবুলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চাকরি থেকে অব্যাহতি পান বাবুল আক্তার।-পরিবর্তন

মতামত