টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে পশুর চর্বি, রং আর ফ্ল্যাভারে তৈরী হচ্ছে সুম্বাদু ঘি

এস এম ইব্রাহিম
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ২৮  জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): স্বাভাবিক কিছু খেতে খেতে একটু আয়েশী খাবারের কথা যখন মনে পড়ে; তখন অনেকে ‘ঘি’এর ঢেকুরের কথা চিন্তা করে। বাজার থেকে ঘরে ফেরার পথে কিনে নিয়ে যান ঘি। ভাতের সাথে, না হয় ঘি এর তৈরী নানারকম পিটা পায়েশ খান।

এরপর ঘি এর ঢেকুর উঠে ঠিকই কিন্তু শান্তি নেই পেট রাজ্যের। নিত্য সঙ্গি হতে হয় বাথরুমের। না হয় অন্য কোন মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে। ডাক্তার বাবা যখন বলেন, ফুড পয়যন; ঠিক তখনই বুঝতে পারেন আসলে এটি ভেজাল ঘি।

ঠিক তাই বলেছেন বিএসটিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক হোসাইন তৌফিক। খোলাসা করে তিনি বলেন, ভেজাল ঘি তৈরীর লোমহর্ষক কাহিনী। যা বিএসটিআইয়ের ল্যাবের পরীক্ষায় ধরা পড়ে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম রং আর রাসায়নিকের ফ্ল্যাভারে তৈরী করা হচ্ছে অতি সুস্বাদু আয়েশী খাবার ‘ঘি’। আর এর মূল উপাদান হচ্ছে শুকরসহ নানারকম পশুর চর্বি। যা দুধের সর থেকে তৈরীর কথা বলে বিক্রী হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন দোকান ও হোটেলে।

২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে নগরীর বিভিন্ন মিষ্টান্ন, খাবার হোটেল ও মুদির দোকান থেকে জব্দ করা ভেজাল ঘি এর ৭টি নমুনা পরীক্ষা করে বিএসটিআই। যেখানের কোনটিতে দুধের সর বা মাখনের কোন অস্তিত্ব নেই বলে জানান সংস্থাটি।

সংস্থার পরীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, সবকটি নমুনায় পশুর চর্বি, রাসায়নিকের ফ্ল্যাভার ও কৃত্রিম রংয়ের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আর এসব ঘি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন পরিদর্শক হোসাইন তৌফিক।

চট্টগ্রাম মহানগরীর জামালখানস্থ মামস কেয়ারের চিকিৎসক তাপস চক্রবর্তি বলেন, শুকর বা গরু-ছাগলের চর্বি শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় তখনই যখন তা মাত্রাতিরিক্ত না হয়। কিন্তু অপরিস্কার-অপিরচ্ছন্ন এবং সংরক্ষনের ক্ষেত্রে অনভিজ্ঞতা এ চর্বি মানুষের মৃত্যু বয়ে আনতে পারে।

এছাড়া রাসায়নিকের ফ্ল্যাভার ও কৃত্রিম রং মানুষের শরীরের ক্যানসারসহ নানারকম জটিল রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এসব ক্ষতিকর উপাদান দিয়ে তৈরী ঘি খেয়ে মানুষ অসুস্থ হবেই। এ ব্যাপারে জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বিএসটিআই সূত্র জানায়, নগরীর বেকারী ও মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো মানবদেহের ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করে ভেজাল ঘি তৈরী করছে। যা সরাসরি বিক্রী সহ বেকারীপণ্য, হোটেলের খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি জুস, তরল দুধের মতো শিশু খাদ্যেও ব্যবহৃত হচ্ছে ভেজাল ঘি। যা খেয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল মানুষ ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিসসহ নানা রকম মারাতœক রোগে ভুগছে।

এসব খাদ্যপণ্য ও ভেজাল ঘি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সজাগ আছেন বলে জানিয়েছেন বিএসটিআইয়ের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক শওকত ওসমান।

তিনি বলেন, গত বছরের জুন থেকে এ পর্যন্ত নগরীর আগ্রাবাদ, বায়েজিদ, বাকলিয়া, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাজীর দেউরি, ঝাউতলা, রিয়াজ উদ্দিন বাজার, কর্ণফুলী, পাহাড়তলি, অক্সিজেন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক কোটি টাকারও বেশি জরিমানা ও বিপুল পরিমান ভেজাল ঘি জব্দ করা হয়েছে। ভেজাল ঘি উৎপাদনকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে সাব্বির রহমান সানি এ প্রসঙ্গে বলেন, ভেজাল ঘি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্টানগুলোকে চিহ্নিত করে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে মাঠে নামছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত