টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রামগড়ে ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে তামাক চাষ

করিম শাহ
রামগড় (খগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২৭ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):খাগড়াছড়ির জেলার অন্যান্য উপজেলার মত ক্ষতিকর তামাক চাষ গিলে খাচ্ছে রামগড়ের ফসলি আবাদী জমি। প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকায় সম্প্রসারণ হচ্ছে এর চাষ। সরকারের সংশিষ্ট বিভাগের উদাসীনতা ও তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা প্রণাদনামূলক প্যাকেজের ছদ্মাবরণে কৃষকেরা প্রলুব্ধ হচ্ছে এ ক্ষতিকর চাষে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার রামগড় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে তামাক চাষ হচ্ছে। আগে যে জমিতে ধান ও অন্যান্য ফসলের চাষ হতো সে জমিতে এখন হয় তামাক চাষ। কয়েকটি গিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কৃষকদের অগ্রিম অর্থসহ নানা সুযোগ সুবিধা দিয়ে তামাক চাষ করানোয় এ উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে অন্যান্য ফসলি জমি মারাত্মক ভাবে হ্রাস পাচ্ছে। তামাক চাষে আয় বেশি হওয়ায় কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিবছর তামাকের খেত সম্পসারণ করছেন।

সরে জমিনে দেখা গেছে, রামগড় ১নং ইউনিয়নের দাতারাম পাড়া, বৈধ্যপাড়া, লাছারীপাড়া, লক্ষীছড়া, হাজাছড়া, ওয়াছুমৌজা, ধনীরামপাড়া, মুসলিমপাড়া, নাকাপা, পাতাছড়া, বড় পিলাক, ছোট পিলাক, অভ্যা মৌজা, সোনাই আগা, নলুয়াছড়ার দুর্গম বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ফসলের পরিবর্তে তামাক চাষ হচ্ছে। এখানে তামাক পাতা পরিপূণ হলেই খেতের পাশে শুকাতে বড় বড় চুল্লি স্থাপন করা হয়। কৃষক চেরু মিয়া ও থইলাপ্রু মারমা জানান, প্রতিটি চুল্লিতে প্রতিবারে দুইশ কেজি কাঁচা পাতা শুকাতে প্রায় একশত মত কাঠ প্রয়োজন হয়। পাহাড়ে টিলা ভূমি থেকে সংগৃহিত এসব কাঠ প্রতিমণ ৭০ টাকায় তারা ক্রয় করে পাতা শুকান।

তামাক চাষিদের মধ্যে মিলন মোল্লা, তৈমং মারমা ও মংপ্রুচাই ত্রিপুরা জানান, সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকা টোব্যাকো কোম্পানী, আকিজ বিড়ি কোম্পানী, ঢাকা টোব্যাকো ও আবুল খায়ের গ্রুপের স্থানীয় প্রতিনিধিরা সার বীজ কিটনাশকসহ সকল বিষয়ে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করেন। অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হওয়ায় কৃষকরা প্রতিবছর নতুন করে তামাক চাষে ঝুকছেন। তাঁরা জানান, প্রতিকানি জমি বাবদ (৪০ শতাংশ) ৫ হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে।

রামগড় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সদস্য নাচির উদ্দিন চৌধুরী তামাক চাষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তামাকের আগ্রাসন বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি করছে। কৃষকরা এর অপকারীতা সম্পর্কে ভালভাবে অবগত নন। তামাক চাষে মাটির উর্ভরভাগের শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। পরপর কয়েকবার তামাক চাষ হয় এ রকম জমিতে অন্য ফসল ভাল হয় না। কতিপয় অসাধু লোক নিরীহ কৃষকদের মোটা অংকের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ধানের জমিতে তামাক চাষ করাচ্ছে। ক্ষতিকর আবাদ থেকে কৃষকেরা যেন মূল চাষে ফিরে আসে সে চেষ্ঠা চালানো হচ্ছে।

রামগড় পাহাঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. জুলফিকার আলী ফিরোজ বলেন, তামাকের জমিতে ভবিষ্যতে স্বাভাবিক উৎপাদন হয়না। কৃষক যদি এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতো কখনই এ সর্বনাশা কাজ করতো না। পাহাড়ের দুর্গম ফসলি জমিতে তামাকের চাষ বেশি হওয়ায় স্থানিয় উপজাতী নেতৃবৃন্দগের সহযোগীতায় এটি বন্ধে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

রামগড়ের পরিবেশ বাদী ডাঃ আবদুল জলিল বলেন, ক্ষতিকর তামাক চাষে লাভ বেশি হওয়াতে কৃষকদের এ কাজ থেকে ফেরাতে সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন বলে তিতি মন্তব্য করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. বিজয় মজুমদার জানান, তামাকের চাষ থেকে শুরু করে পাতা শুকানো পর্যন্ত নিয়োজিত শ্রমিকেরা মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকে। তামাক চুল্লিতে কাজ করে এমন শিশু ও নারীরা শ^াসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তামাকের ক্ষতিকর নিকোটিনের বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত