টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘কক্সবাজার সৈকতের সীমানা নির্ধারণে খুঁটি স্থাপন করা হবে’

চট্টগ্রাম, ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):সমুদ্রসৈকতের ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ। তিনি জানান, সমুদ্রসৈকতের সীমানা নির্ধারণের জন্য খুব শিগগির খুঁটি স্থাপন করা হবে। আর সমুদ্রসৈকতের ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ কিংবা অন্য কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ সোমবার কক্সবাজার শহরের বিএমএ ভবনে কউকের অস্থায়ী কার্যালয় প্রাঙ্গণে ‘ইমারত নির্মাণ ও ভূমি উন্নয়ন অনুমোদন’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

কউক চেয়ারম্যান বলেন, সমুদ্রসৈকত এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করে পরিস্থিতি জটিল করা হয়েছে। এতে সৈকতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতোদিন পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উন্নয়নে সরকারি আইন ও বিধিনিষেধ মানা হয়নি। এখন থেকে প্রতিটি উন্নয়ন কাজেই কউকের গেজেটে উল্লেখিত মহাপরিকল্পনা অনুসরণ করতে হবে।

২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)যাত্রা শুরু করে। আনুষ্ঠানিকভাবে নকশা অনুমোদনের মাধ্যমে আজ থেকে যাত্রা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

কউক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৫ সালের ৬ জুলাই কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অনুমোদনের জন্য সংসদে খসড়া পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল- ২০১৬’ চূড়ান্ত হয় এবং ১৩ মার্চ কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৬ অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। ওই মাসে বাংলাদেশ সরকারের গেজেটে ৬ষ্ঠ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হিসেবে অনুমোদন পায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)।

এই আইনে নতুন নকশা অনুমোদন, নতুন কর ধার্য, নির্মাণাধীন ইমারতের নির্মাণকাজ বন্ধ ও অপসারণ, জলাশয়ের খনন ও টিলা কাটার কাজ বন্ধের এখতিয়ার দিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিলে বলা হয়েছে, কক্সবাজার পৌরসভাসহ কর্তৃপক্ষের আওতাধীন অন্যান্য পৌরসভা কোনো নির্মাণকাজ বা খননকাজের অনুমতি দিলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে। এসব স্থানীয় প্রতিষ্ঠান কোনো নকশা, জলাধার খনন বা পুনঃখননের অনুমোদন দিতে পারবে না। এ আইন অমান্য করলে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সংগতি রেখে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ শর্ত সাপেক্ষে ইমারতের নকশা, ইমারত নির্মাণ, পুকুর বা জলাধার খননসংক্রান্ত বিষয়ে অনুমোদন দিতে পারবে।

সূত্র মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটিতে ৪ জন পূর্ণকালীন ও ১১ জন খণ্ডকালীন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও পৌর মেয়র কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য হিসেবে থাকবেন।

কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন থেকে কউকের নকশা ছাড়া কক্সবাজারের কোনো ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, এখন আমাদের জনবল সংকট আছে। সরকার থেকে ‘জনবল কাঠামো অনুমোদনের পর আমরা ভালো ভাবে কাজে নামতে পারবো। এখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে একজন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে একজন নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছি।

ফোরকান আহমেদ জানান, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের অনেক পরিকল্পনা আছে। এখানে কোনো ধরনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। কক্সবাজার জেলা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন থাকবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত