টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চসিক নিয়ন্ত্রিত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই নীতিতে চলবে

চট্টগ্রাম, ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস): মানসম্মত শিক্ষার বিস্তারে বেশ কিছু স্কুল, কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক); রয়েছে চসিক নিয়ন্ত্রিত বিশ্ববিদ্যালয়ও। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোনো নীতিমালা ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। অবশেষে চসিক নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় জন্য  করা হল নীতিমালা। এখন থেকে চসিক নিয়ন্ত্রিত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই নীতিতে চলবে।

চসিকের শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৩ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্কুলগুলো কোনো ধরনের নীতিমালা ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছিল। সরকারি নীতিমালাও সিটি কর্পোরেশন সম্পূর্ণ অনুসরণ করতে পারে না। শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সুনির্দিষ্ট, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক নিয়মে রাখতে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে চসিক নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক শিক্ষানীতি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এক বছরেরও বেশি সময় পর গত রোববার সে খসড়া শিক্ষানীতির অনুমোদন দিয়েছে চসিক। সংস্থাটির ১৮তম সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এটি পাস হয়েছে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন নীতিমালা তৈরির জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছিল চসিক। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড পরিদর্শক সুমন বড়ুয়াকে আহ্বায়ক, চসিক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিনকে সদস্য সচিব করা হয়েছিল। এছাড়া চসিক শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি নাজমুল হক ডিউক, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড স্কুল পরিদর্শক নাজিমুল ইসলাম, বিজয়স্মরণী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে সদস্য হিসেবে ছিলেন।

চসিকের অধীনে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় চূড়ান্ত নীতিমালায় স্কুল-কলেজের শিক্ষক, কর্মচারীর নিয়োগের নিয়ম, পদোন্নতি, দায়িত্ব, কর্তব্য বেতন-ভাতাসহ ২৬টি অনুচ্ছেদের নীতিমালা তৈরির পর গত ডিসেম্বরে মেয়রের কাছে দেয় ওই কমিটি। এরপর ভুল সংশোধন, পরিমার্জন ও পর্যালোচনার কাজ শেষ আজকের সভায় তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

নতুন শিক্ষানীতি প্রসঙ্গে চসিক মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একই নিয়মের মধ্যে আনতে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এই নীতিমালা পাসের মাধ্যমে চসিকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক/শিক্ষিকা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেক দিনের দাবি পূরণ হল। এখন থেকে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলবে।

তিনি বলেন, নীতিমালার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল আরও ভালো হবে। বদলি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগও সহজে সমাধান হবে। এখন থেকে এই নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চলবে।

কমিটির আহ্বায়ক সুমন বড়ুয়া বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, চসিকের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন দিতে হয়। নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ মোট ২৬টি অনুচ্ছেদের নীতিমালায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের চাকরি স্থায়ী ও নিয়মিতকরণসহ শিক্ষার সামগ্রিক বিষয়গুলির সুপারিশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চসিকের শিক্ষার মান বাড়বে এবং সরকারি কিংবা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের থেকে ভালো ফলাফল আসবে।

চসিকের শিক্ষা বিভাগের তথ্য মতে, বর্তমানে চসিক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংখ্যা ৮৬। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৪৭টি (বালক ৮টি, বালিকা ২৫টি, সহশিক্ষা ১৪টি); উচ্চ মাধ্যমিক বা কলেজ রয়েছে ২১টি (ডিগ্রি কলেজ ৭টি, মাধ্যমিক কলেজ ১৪টি) এবং একটি ইংলিশ মিডিয়াম ও ৭টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে।

এছাড়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়, দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট, একটি কম্পিউটার কলেজ, একটি থিয়েটার ইনস্টিটিউট, একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চারটি বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে চসিকের।

চসিক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও কিন্ডারগার্টেনে কর্মরত আছেন প্রায় ৭০০ শিক্ষক-শিক্ষিকা। এদের পরিচালনার জন্য শিক্ষা বিভাগে আছেন প্রায় ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি।

মতামত