টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিষিক্ত : বিশ্ব শঙ্কিত!

মিনহাজুল ইসলাম মোহাম্মদ মাছুম

চট্টগ্রাম, ২২ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিষিক্ত হয়েছেন ২০ জানুয়ারি। শুরু হলো ট্রাম্প যুগের। শংকার মধ্যেও রাজনৈতিক বোদ্ধারা ট্রাম্পের শাসনে বিশ্বে কী পরিবর্তন আসে তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেণ। প্রথমদিনেই “ওবামা কেয়ার” বাতিল করেছেন নির্বাহী আদেশে। ফলে উৎকন্ঠা আরো বেড়েছে, কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ লাখ অভিবাসীকে বের করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে নিন্দিত হয়েছিলেন (বৃটেনে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এ বক্তব্যে), ইরানের সাথে সম্পাদিত ওবামার চুক্তি বাতিল করে দেয়ার কথা বলেছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জেলে নেয়ার হুমকিসহ আরো অনেক বিতর্কিতবক্তব্য দিয়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন। যদিও অভিবাসী এবং মুসলিম বিরোধী বক্তব্য বাস্তবায়ন তার জন্যে অসম্ভব বৈকি! ভোটের রাজনীতিতে প্রভাবিত হয়ে এ ধরনের বালখিল্য আচরণ করেছিলেন হয়তোবা। রিপাবলিকানদের ইতিহাস বরাবরই নিষ্ঠুরতার, দুই যুদ্ধবাজ বুশ বিশ্বকে যে হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন, তা থেকে উত্তরণের কোন নির্দেশনা তার কাছ থেকে এখনও আসেনি। ফলে ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে সবদিকে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ কঠোর নিরাপত্তার চাদরে পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে ডেকে ফেলা হয়েছে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য। নিকট অতীতে এ ধরনের কোন বিক্ষোভ অন্য কোন প্রেসিডেন্টের জন্য হয়নি। তার শপথ নেয়ার সময়ও বিক্ষোভ চলছিল, শতশত লোককে গ্রেফতারও করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। থেমে নেই ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভ, নির্বাচনের পরও কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভে উত্তাল ছিল পুরো যুক্তরাষ্ট্র।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ডোনাল্ড ট্রাস্প বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। ফিলিফাইন, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর, লন্ডন, এডিনবার্গ, ম্যানচেষ্টার সিটিসহ বিক্ষোভ হয়েছে। আরো বিক্ষোভের প্রস্তুতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। শপথ নেয়অর পরপরই ক্যাপিটল হিলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে উপস্থিত লক্ষ লক্ষ ভক্ত দেশবাসীর উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত একটি ভাষণ দিয়েছেন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অত্যন্ত প্রাণবন্ত, সাবলীল ও হাস্যোজ্বল সেই ভাষণে জনগণের উদ্দেশ্যে তার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। ট্রাম্প উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, “এটি আপনাদের দিন, এটি আপনাদের উদযাপন। আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। আমেরিকা আজ থেকে আবার বিজয়ী হতে শুরু করবে। সকল বিভেদ ভুলে সামনে চলুন, ঐক্য গড়ে তুলুন, আমরা এক আত্মা ও এক দেশ। আমরা জনগনের কাছেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছি।” ট্রাম্প জনতার উদ্দেশ্যে আরো বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে কেউ আমেরিকাকে থামাতে পারবে না। আমরাই বিশ্বের গতিপথ ঠিক করবো’”। বক্তৃতার শেষে ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার শ্লোগানকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমরা আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলবো’। আর পুরো বক্তৃতা জুড়ে বেশ কয়েকবার উচ্চারণ করেছেন, তার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল, আমেরিকা ফার্স্ট’- বা সবার আগে আমেরিকা।

অস্থিতিশীল তামাম বিশ্ব! জ্বলছে অশান্তির দাবানল। সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের পর সমগ্র বিশ্বের একচ্ছত্র মালিক বনে যায় দাম্ভিক একক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় জায়নিষ্টরা লেলিয়ে দেয় পুরো মুসলিম বিশ্বে। পাগলা কুকুরে ন্যায় আচরণ শুরু করে ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়াসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে মুসলিম বিশ্বকে গ্রাস করতে উদ্যত। একের পর এক ইসলামী জঙ্গির তৈরি করে মদদ দেয়া অভিযোগ আছে। ‘আইএস’ নামক দানব তৈরি করেছে বলে অভিযোগ আছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানরা পরস্পর পরস্পরকে দায়ী করেছে ‘আইএস’ তৈরি করার জন্য। সিরিয়া, তুরস্ক, ইরাকসহ কয়েক দেশে বিষফোঁড়ার ন্যায় ঝেঁকে বসেছে ‘আইএস’ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। একের পর এক নতুন নতুন সঙ্কট দানা বাঁধছে বিশ্বে, ট্রাম্পের উপর অনেকটাই নির্ভর করছে বিশ্বে স্থিতিশীলতা। শান্তির আশায় উন্মুখ বিশ্বাসী। ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসা নাটকীয়ই বলা যায়। তিনি ক্ষমতায় আসবেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবেন এমন প্রত্যাশা খুব কম লোকই করেছিলেন। যা-ই হোক না কেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এটাই বাস্তবতা। তিনি বিশ্বের এক নম্বর ক্ষমতাধর ব্যক্তি, এই আসমানের নিচে, জমিনের উপরে আর কেউ তার প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এটম বোমার নিক্ষেপের সমস্ত কলা-কৌশল তাকে রপ্ত করানো হয়েছে ইতিমধ্যে। ফলে তার উগ্রতা, দাম্ভিকতা এবং ক্ষমতাউন্মত্ততা কতটুকু বজায় থাকে তা বলা মুশকিল! তার উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বজ্রকন্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন, “আমেরিকা আজ থেকে আবার বিজয়ী হতে শুরু করবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে কেউ আমেরিকাকে থামাতে পারবে না। আমরাই বিশ্বের গতিপথ ঠিক করবো’”। এর মধ্যে দাম্ভিকতা ও যুদ্ধের গন্ধ পাওয়া যায়।

বহুল বিতর্কিত ডোনাল্ড ট্রাম্পই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। সকল জল্পনা-কল্পনা অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ¦ন্দ্বী হিলারী ক্লিন্টনকে অপ্রত্যাশিতভাবে হারিয়ে যিনি ক্ষমতায় আরোহন করেছেন, তার কাছে বিশ্ববাসীর “শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পৃথিবী’’ ছাড়া আর কোন প্রত্যাশা নেই। বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে পোশাক শিল্পে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা তুলে নেয়ার প্রত্যাশা করতে পারি। বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের ব্যাপক ভুমিকা চাই। বিশ্বের দেশে দেশে হস্তক্ষেপ বন্ধ, জাতিসংঘকে কার্যকর করা, স্বাধীনতা-সাবভৌমত্ব বিরোধী পদক্ষেপ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন, কাশ্মীর সমস্যা, রোহিঙ্গা সমস্যা, ইউক্রেন ক্রিমিয়া সমস্যা নিরসন এবং ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইত্যাদি। আশাকরি তিনি পজিটিভ যুক্তরাষ্ট্র গড়ে তুলতে সচেষ্ট হবেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশে দেশে, জনমনে নেতিবাচক সকল ধারণার অবসান চাই। তার নেতৃত্ব বিশ্বকে কতটা স্বস্তি ও শান্তি এনে দিতে পারেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা নিরাপদ করে তুলতে পারেন তা দেখার জন্য আরো চার বৎসর অপেক্ষা করতে হবে। যেহেতু সমগ্র বিশ্বের ‘ট্রাম্প কার্ড’ এখন তার হাতে!

লেখক : কলামিস্ট ও সম্পাদক, ইদানীং লিটল ম্যাগাজিন, চট্টগ্রাম।

*** সময়ের কথা বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। সিটিজি টাইমস-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সিটিজি টাইমস কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

মতামত