টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

লিটন হত্যায় সংসদে জামায়াতকে দুষলেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ২২ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে খুনিদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘লিটন গোলাম আযমকে তার এলাকায় যেতে দেয়নি। এছাড়া সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র লিটনকে হত্যার মধ্য দিয়ে এসব ঘটনার প্রতিশোধ নিয়েছে।’

সংসদে সরকারি দলের সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে শোনা যায়, সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা কোথায় কে একটু শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদেরকে শেষ করে দেয়া হচ্ছে, তাদেরকেই হত্যা করা হচ্ছে। এসব হত্যা পরিকল্পনাই বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন ও কর্মকাণ্ড। এ ধরনের ঘটনা মেনে নেয়া যায় না।

গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিন বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয় লিটনকে। এই ঘটনায় এরপর থেকেই জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে আসছে আওয়ামী লীগ এবং লিটনের স্বজনরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই ঘটনার জন্য জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন এর আগে। এবারই তিনি দলটির নাম বললেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেমন জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি তখন লিটনের হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদের ঠিকই খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং গাইবান্ধা থেকে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল। এটাই ছিল তার অপরাধ। এ জন্যই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। লিটনের মৃত্যুতে আমরা একটি সম্ভাবনাময় নেতৃত্বকে হারিয়েছি।’

শিশুর গায়ে গুলি করা হয়েছিল বলে লিটনের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সৌরভের বাবা আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। ওই পরিবারের সাথে লিটনের সুসম্পর্ক ছিল। তাকে সে কেন গুলি করতে যাবে? সেদিন সন্ত্রাসীরা লিটনকে হত্যা করার জন্য অতর্কিত হামলা চালায়। সে আত্মরক্ষার জন্য ফাঁকা গুলি চালায়। সৌরভের গায়ে যে আঘাত লেগেছিল সেটা নিয়েও অনেক সন্দেহ ছিল বা হতে পারে ফাঁকা গুলিও কারো গায়ে লাগতে পারে। কিন্তু শিশু হত্যা করতে গিয়েছিল বলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এমনভাবে লেখা হয়েছে যে সত্যিকারের ঘটনা কেউ তুলে ধরেনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই ঘটনার পর তার লাইসেন্স করা অস্ত্র জব্দ করা হয়। তার বাড়ির পুলিশ পাহারা সরিয়ে নেয়া হয়। যার ফলে তার বাড়িতে ঘরের ভেতরে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ থেকে রাজনীতি শুরু করে সে এ পর্যায়ে এসেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে বলেই তাকে সুন্দরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোনীত করা হয় এবং সেখানকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যতদিন তিনি বেঁচে ছিলেন ততদিন সুন্দরগঞ্জের মানুষের মনে একটা স্বস্তি ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, চৌকস পুলিশ সদস্যরা লিটনের হত্যার ব্যাপারে তদন্ত করছে। শিগগিরই হত্যাকার নেপথ্যের নায়কদের বিষয়ে তথ্য বেরিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, ‘লিটন সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তার নির্বাচনী এলাকাটি জামায়াত অধ্যুষিত, তিনি জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমকে ওই এলাকায় যেতে দেননি। সব সময় সত্য কথা বলার কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, হত্যা শুধু আজকেই নয়, ১৯৭৩-৭৪ সালে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র অনেক সংসদ সদস্যকে হত্যা করেছে। ওই চক্র এখন আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান।

আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, মীর শওকত আলী বাদশা, শামীম ওসমান, মাহবুব আরা বেগম গিনি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক।

মতামত