টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

লাখো ভক্তের পদচারণায় মুখর মাইজভাণ্ডার

চট্টগ্রাম, ২২ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  আশেক, ভক্ত, অনুরক্তরা আসছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। সাথে সবুজ পতাকা ও ব্যানারে তরিকতের বিভিন্ন বাণী। আল্লাহ, রাসুল (দ.) ও মাইজভাণ্ডারী তরিকতের শ্লোগান।

একই সঙ্গে স্বীয় পীর মুরশিদের দরবারে গরু, ছাগল, মহিষ, উট, গয়াল সহ আরো কত কি…..। “মাইজভাণ্ডারে উঠেছে ওই তৌহিদের নিশানা-ঘুমাইঘোনা মায়া ঘুমে আখেরি জমানা/ কেন চিনলি নারে মন-গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মাওলানা কেমন…./ চলরে মন ত্বরায় যাই বিলম্বের আর সময় নাই, গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী স্কুল খুলেছে, এ স্কুলের এমনই ধারা বিচার নাই জোয়ান বুড়া, সিনায় সিনায় লেখাপড়া শিক্ষা দিতেছে….।”

একতারা, দোতারা, হারমোনিয়াম, তবলার তালে তালে কনকনে শীত উপেক্ষা করে মাইজভাণ্ডারে আশেক-ভক্ত-মুরিদদের ঢল নেমেছে।

মাইজভাণ্ডারী দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক সরাপতের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর (ক.) ১১১তম বার্ষিক ওরশ শরীফ (১০ মাঘ) উপলক্ষে গতকাল শনিবার থেকে তিন দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

গত ২-৩ দিন আগে থেকে দেশ-বিদেশের লাখো ভক্তের আগমণে মুখরিত হয়ে উঠেছে মাইজভাণ্ডার শরীফে। আগামীকাল সোমবার রাত ১২.০১ মিনিটে স্ব-স্ব মঞ্জিলের শাজ্জাদানশীনেদের আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ওরশের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। এ উপলক্ষে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের প্রধান ওরশ ১০ মাঘ উপলক্ষে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল, দরবারে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল, গাউছিয়া হক মঞ্জিল, রহমানীয়া মঞ্জিল, মঈনীয়া মঞ্জিল কোরআন খতম, খতমে গাউছিয়া, খতমে খাজেগান, মিলাদ মাহফিল, হালকায়ে জিকির, ছেমা মাহফিল, বিশেষ মুনাজাদ ও সকল মাজারগুলোকে আলোক সজ্জার ব্যবস্থা করেছে। শাহান শাহ জিয়াউল হক মাইভাণ্ডারী ট্রাস্ট এককভাবে ১০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এর মধ্যে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সুফীবাদী শিক্ষা শীর্ষক শিক্ষক সমাবেশ, আধুনিক শিক্ষা ও ধর্মীয় রীতি-নীতি নিয়ে মহিলা সমাবেশ, ট্রাস্টের সকল কমিটির এলাকায় গরিব-দুস্থদের মাঝে সহায়তা প্রদান, র‌্যালি ও এতিম-দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ উল্লেখযোগ্য।

রবিবার (২২ জানুয়ারি) মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল, গাউছিয়া আহমদিয়া শাহ এমদাদীয়া মঞ্জিল, গাউছিয়া হক মঞ্জিলে সকালে কোরান খতম, বিকেলে মাজারে গোসল শরীফ ও রওজা শরীফে গিলাফ চড়ানোর মাধ্যমে ওরশ শরীফের মূল আনুষ্টানিকতা শুরু হবে।

প্রত্যেক মনজিলে খতমে কোরান, খতমে গাউছিয়া, খতমে খাজেগান, মিলাদ মাহফিল, হালকায়ে জিকির, ছেমা মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দরবারে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের শাহজাদা সৈয়দ নুরুল ইসলাম রুবাব জানান, গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর এ ওরশে বংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বার্মা, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও ধর্মপ্রাণ মুসলমান সহ লাখো সুফী ভক্ত-আশেকগণের সমাগম ঘটে। তাই আনজুমানে মোত্তাবেইনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম শহর থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত বিশেষ রেলের ব্যবস্থার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

শাহ এমদাদীয়ার নায়েবে শাজ্জাদানশীন সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী জানান, গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর ওরশে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লাখো ভক্তের সুবিধাত্বে থাকা-খাওয়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য লাইটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)র জীবনী, শান-মান সম্বলিত বিশেষ ক্রোড়পত্র বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশের ব্যবস্থা হয়েছে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু ইউছুপ বলেন, ‘১০ মাঘ ওরশ উপলক্ষে পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আইন-শৃংখলা রক্ষায় থানা পুলিশ-র‌্যাব-আনসার ও দুই সহস্রাধিক বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।’

ফটিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন, ‘গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর ওরশ উপলক্ষে ক্লোজ-সার্কিট ক্যামরা ও ভিডিও চিত্র ধারণের মাধ্যমে সার্বক্ষণেক নজরদারি করা হচ্ছে।’

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সব সময় টহলরত আছে। যানবাহন পার্কিং এর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে নাজিরহাট নতুন রাস্তার মাতায়, ফটিকছড়ি সদরে ও নানুপুর লায়লা-কবির কলেজ মাঠে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে লাইটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুকুর আবর্জনামুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্রাম্যমাণ স্যানিটেশন ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকল প্রকার যোগাযোগের জন্য একটি তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এদিকে প্রতি বছরের ন্যায় ১০ মাঘ মাইজভাণ্ডার শরীফের ওরশ উপলক্ষে মাইজভাণ্ডারের ৩/৪ মাইল এলাকায় বিশাল মেলা বসেছে। এতে কৃষি ব্যবহার্য পণ্য, কুঁটির শিল্প উৎপাদিত পণ্য, গ্রামীণ গৃহস্থালি সামগ্রী, ডালা, কুলা দা, বটি, বেলুন, কাঠের পিড়া, মোড়া, পিটা তৈরির বিভিন্ন চাচ, চুড়ি, বাশি খেলনা, মোলা-ওড়া ইত্যাদি বেশ বিকিনিকি হচ্ছে।

মতামত