টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঘরে নয়, বর্জ্যের ভ্যান নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা

এস এম ইব্রাহিম
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ২২ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: : ২০ দিন পার হলেও পুরোদমে চালু হয়নি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাব নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র সাতটি ওয়ার্ডে কর্মসূচি শুরু করা হলেও তা চলছে বিচ্ছিন্নভাবে।

এক্ষেত্রে বর্জ্যসংগ্রহকারীরা মানুষের সহযোগীতার না পাওয়ার কথা বললেও স্থানীয় লোকজন বলছেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে কিছু এলাকায় গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করছে। তারা ঘরে নয়, বর্জ্যের ভ্যান নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকে। মানুষকে বর্জ্য এনে ফেলার জন্য বলে। যা মানুষের জন্য আরও কঠিন বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

সূত্র জানায়, নগরীর পশ্চিম ষোলশহর, শুলকবহর, বাগমনিরাম, গোসাইলডাঙ্গা, উত্তর পাঠানটুলী, আলকরণ এবং এনায়েত বাজার ওয়ার্ডে নতুন বছরের শুরু থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু যেভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে তা নিয়ে মানুষের উৎকন্ঠা বাড়ছে।

নগরীর শুলকবহর এলাকার আবদুল হামিদ সড়কের বাসিন্দারা জানান, ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হলেও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দেখা যায় না। পরিচ্ছন্নকর্মীরা আবর্জনার ভ্যান নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে বর্জ্য ফেলার জন্য বলে। কিন্তু পরিচ্ছন্নকর্মী ঘরে যাবে এ আশায় অনেকের বিন ভর্তি আবর্জনা থেকে গেছে।

আবার বাগমনিরাম ওয়ার্ডের বেশ কিছু এলাকায় আবর্জনা সংগ্রহ শুরু হলেও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সহযোগিতা করছে না বলে জানান পরিচ্ছন্ন কর্মী আবু তাহের। তিনি বলেন, বর্জ্য সংগ্রহের সময়ে ঘরে অনেককে পাওয়া যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন নগরীর ৪১ ওয়ার্ড থেকে ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ঘরে ঘরে গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করার ঘোষনা দেন। পরবর্তীতে বিন পাওয়া এবং বিতরণে বিলম্বসহ নানা জটিলতার কারণে তা পিছিয়ে মার্চ মাস পর্যন্ত করেন।

তবে সাতটি ওয়ার্ডের প্রতিটি ঘর থেকে নতুন বছরের প্রথম দিন আবর্জনা সংগ্রহের জন্য পরিচ্ছন্ন বিভাগকে নির্দেশ দেন তিনি। এ লক্ষ্যে সাত ওয়ার্ডে বিন বিতরণ, লোকবল নিয়োগ এবং ভ্যান বিতরণ করা হয়। এরপরও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়নি বর্জ্য সংগ্রহ কর্মসূচি।

এ বিষয়ে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, কিছু সমস্যা, সমন্বয়হীনতা এবং সীমাবদ্ধতার কারণে ৪১ ওয়ার্ডে এখনো ডোর-টু-ডোর কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তবে এপ্রিলের মধ্যে পুরো শহর এই কার্যক্রমের আওতায় এসে যাবে।

যে সাতটি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে সেখানেও কিছু ভুল-ত্রæটি এবং সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করা হচ্ছে। ডোর-টু-ডোর কার্যক্রম শতভাগ বাস্তবায়ন হলে শহরের রাস্তায় আর কোন ডাস্টবিন চোখে পড়বে না।

চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রথম যে সাতটি ওয়ার্ডে বিন ও ভ্যান বিতরণ করা হয়েছে সেসব ওয়ার্ড দিয়েই সংগ্রহ কাজ শুরু করা হয়েছে। এসব ওয়ার্ডে শতভাগ বিন বিতরণ কাজ স¤পন্ন হয়েছে। আবর্জনা সংগ্রহের জন্য ১৮০ জন জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত আবর্জনা সংগ্রহের কাজ চলছে।

ঘরে ঘরে আবর্জনা সংগ্রহের জন্য পরিচ্ছন্ন বিভাগের ভ্যান না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিজ্ঞতার অভাবে প্রথমদিকে কিছু ভুল-ত্রæটি হচ্ছে। ভুলগুলি প্রতিনিয়ত চিহ্নিত করে তা সংশোধন করার চেষ্টা চলছে।

তবে নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া একাজে শতভাগ সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো এলাকায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের লোক আবর্জনা সংগ্রহ করতে না গেলে তা সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরকে জানাতে হবে।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী বলেন, কাজটি চট্টগ্রাম শহরে প্রথম। তাই কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তাই সাতটি ওয়ার্ডে এখনো শতভাগ ডোর-টু-ডোর আবর্জনা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে সমাধান করা হচ্ছে।

বাকি ওয়ার্ডগুলিতে ডোর-টু-ডোর কার্যক্রম কখন চালু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আরো দশটি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে। বাকি ওয়ার্ডগুলিও ক্রমান্বয়ে এই কার্যক্রমের আওতায় এসে যাবে।

মতামত