টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগে আটক ৫

চট্টগ্রাম, ২১ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: দুই তরুণীকে আটকে রেখে ‘যৌন ব্যবসায় বাধ্য’ করার অভিযোগে নগরীর রহমান নগর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া তরুণীর বরাত দিয়ে পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালী উদ্দিন আকবর বলেন, উদ্ধার হওয়া দুই তরুণীর একজন গত ১২ ডিসেম্বর চাকরির খোঁজে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে চট্টগ্রাম আসেন। কিছু চিনতে না পেরে ষোলশহর এলাকায় হাঁটাহাঁটি করার সময় দুলাল শীলের সাথে তার দেখা হয় এবং দুলাল তাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিজের বাসায় নিয়ে যায়।বাসায় কিছুদিন রাখার পর গত ১০ ডিসেম্বর দুলাল ওই তরুণীকে মোহাম্মদপুর এলাকার চৌধুরী টাওয়ারে মানিক দাশের বাসায় নিয়ে যায়। সে বাসায় উদ্ধার হওয়া অপর তরুণীকেও সে দেখতে পায়।উদ্ধার হওয়া তরুণীরা জানিয়েছে ওই বাসায় তাদের একটি রুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক যৌন ব্যবসায় বাধ্য করা হয় এবং অশ্লীল ছবি তুলে পরিবারের সদস্যদের ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের খোঁজ না পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে এসে মেয়েটির বাবা পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে রহমাননগরের মিন্টু তালুকদারের বাসায় অভিযান চালায় পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। পরে তারা সেখান থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

এসময় আটক করা হয় মিন্টু তালুকদারকেও। পরে মিন্টুর স্বীকারোক্তি অনুসারে বহদ্দারহাট, মোহাম্মদপুর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুলাল শীল (৫৯), সুমি শীল (৪৫), রতন দাশ মানিক (৫৫), বেবী দাশকে (৩৭) আটক করে। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয় আগে থেকে আটক থাকা মেয়েটিকেও। তার ওপরও একই রকম নির্যাতন চলে আসছিল এতদিন।

পরিদর্শক ওয়ালী বলেন, ‘এটি খুবই করুণ কাহিনী। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মেয়ে দুটিকে বাসায় নিয়ে আসে জড়িতরা। এরপর এই দুটি মেয়েকে গত দেড়মাস ধরে বাইরের আলো বাতাসও দেখতে দেওয়া হয়নি। অন্ধকার ঘরে আটকে রেখে প্রতিদিনই তাদের দিয়ে অসামাজিক কাজ করানো হতো। অবশেষে আমরা তাদের উদ্ধার করতে পেরেছি এবং জড়িতদের গ্রেফতার করতে পেরেছি। গ্রেফতার পাঁচজনের বিরুদ্ধে মানবপাচার দমন ও প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘উদ্ধার করার পর মেয়ে দুটিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এরপর পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হবে।’

মতামত