টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ৪ লেন বাঁচিয়েছে অর্ধেক সময়’

চট্টগ্রাম, ২১ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চারলেন প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যানবাহন চলাচলে গতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় কম লাগছে। পাশাপাশি এই মহাসড়কে অতীতের যানজট কমেছে।

গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রামের ভ্রমণ সময় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এখন মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত সম্ভব । আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনও সহজ ও সাশ্রয়ী হয়েছে। অথচ আগে যানজটসহ নানা কারণে সময় লেগে যেতো ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা।

প্রায় ৩৮০০ কোটি টাকায় ১৫টি প্যাকেজে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণে ১০টি ও সেতু নির্মাণে ৩টি প্যাকেজ তথা পূর্ত কাজে ১৩টি প্যাকেজ, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিষয়ে একটি ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগে ছিল একটি প্যাকেজ।

প্রকল্পের আওতায় ২৩টি সেতু, ২৪২টি কালভার্ট, ৩টি রেলওয়ে ওভারপাস, ১৪টি সড়ক বাইপাস, ২টি আন্ডারপাস, ৩৪টি স্টিল ফুটওভার ব্রিজ এবং ৬১টি বাস-বে নির্মাণ করা হয়।

মহাসড়কে ভ্রমণ আনন্দদায়ক, পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন করতে ঋতুর সঙ্গে মিল রেখে সড়কের ৫ মিটার প্রশস্ত ডিভাইডারে নানান প্রজাতির গাছ এবং ঋতুভিত্তিক ফুলগাছ রোপণ করা হয়েছে।

এ মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রামের সিটি গেট পর্যন্ত ১৯৩ কিলোমিটার চারলেন প্রকল্পের ১৩৯ কিলোমিটার কাজ করেছে সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন। অবশিষ্ট ৩টি প্যাকেজের ৫৪ কিলোমিটার কাজ করেছে রেজা কনস্ট্রাকশন ও তাহের ব্রাদার্স।

সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের সিনিয়র প্রকৌশলী চাও জি বলেন, ২০১০-১৩ মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করার শর্তে ২০১০ সালের ৯ জানুয়ারি সিনোহাইড্রো প্রকল্পের চুক্তি সই করে। মাটি স্বল্পতা, ভূমি অধিগ্রহণ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ নানা জটিলতার কারণে ২০১৬ সালের ২৩ জুন কাজ শেষ হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ জুলাই তা উদ্বোধন করেন।

তিনি জানান, ৭টি প্যাকেজের চুক্তির পরিমান ছিল ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা; তবে চুড়ান্ত খরচ হয়েছে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। চুক্তির আওতায় ২৪টি ফুটওভারব্রিজ ও ১৭০টি কালভার্ট নির্মাণ এবং মহাসড়কের পাশে ২৮ হাজার গাছের চারাও তারা রোপন করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী তাদের কোম্পানি চলতি বছরের ১৭ জুন পর্যন্ত প্যাকেজের আওতাভূক্ত মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

তিনি বলেন, মহাসড়কের গতি বাড়াতে হলে ধীর গতির যানবাহন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়া বড় বড় ট্র্যাঙ্কলরি ও ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। অন্যথায় অনেক অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার চেন জেং সেন বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টিকে মাথায় রেখে আমাদের বিশেষজ্ঞরা আঁকাবাঁকা সড়ককে যতটুকু সম্ভব সোজা করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহন চালকসহ সড়ক ব্যবহারকারীদের ভ্রমণ নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সাইন সিগন্যাল স্থাপন করায় মহাসড়কটিতে দুর্ঘটনা বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

হানিফ পরিবহনের চালক আব্দুল মালেক বলেন, এই মহাসড়কটি চারলেন করার আগে চট্টগ্রাম যেতে যেখানে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা লাগতো এখন সেখানে ৪ থেকে ৫ ঘন্টায় যাওয়া যায়। দুর্ঘটনাও অনেক কমে গেছে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গুণবতী এলাকার ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, চারলেনের কারণে চট্টগ্রামের সাথে সড়ক পথে রাজধানীর যোগাযোগ আগের চেয়ে অনেক সহজ, দ্রত, যানজটমুক্ত ও উন্নততর হয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত