টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নির্বাচনমুখী আ.লীগ-বিএনপি, চলছে ইশতেহার তৈরির কাজ

চট্টগ্রাম, ২০ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভেতরে-বাইরে নানা প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারিভাবে চালানো হচ্ছে জরিপ। দলটির সম্মেলন ঘিরেও নির্বাচনী পরিকল্পনার ছক পরিলক্ষিত হয়েছে।

বিএনপিরও প্রধান লক্ষ্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তারা দ্রুতই শুরু করছে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ও ইশতেহার তৈরির কাজ। তবে তারা নির্বাচন চান নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলটির সাধারণ সম্পাদক তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত করার কথা বলেছেন। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে এবিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কথা না বলা হলেও ভিতরে ভিতরে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হোম ওয়ার্ক শুরু করেছে। এর সঙ্গে নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির কাজে হাত দিয়েছে দলটি।

বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে ঘোষিত ভিশন টোয়েন্টি থার্টি রূপরেখা থেকে অনেক উপাদান নির্বাচনি ইশতেহারে সংযুক্ত হবে এবং এর সঙ্গে আরো নতুন নতুন বিষয় আসবে।

যেগুলো রয়েছে, যেমন দেশি-বিদেশি, আঞ্চলিক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে, আইটি সেক্টরে উন্নয়ন, অর্থনীতি, রাজনীতি, পরাষ্ট্রনীতি, গণতন্ত্রের র্পূর্ণাঙ্গরূপ দেয়াসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।

নির্বাচন কমিশন গঠনে স্থায়ী আইন করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলেছেন বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। দলটির এক নীতি নির্ধারক বলেন, বড় দল হিসেবে বিএনপির যেকোনো সময়ে নির্বাচন করার মতো সক্ষমতা রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাওয়ার মতো প্রস্তুতি রয়েছে। ফলে কখন নির্বাচন হবে সেটা যেমন বিষয় ঠিক এর বিপরীতে নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর যাতে বড় ধরনের কোনো সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয় কিংবা তাড়াহুড়ো করে যেন কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়া লাগে এজন্য আগেভাগেই ইশতেহার তৈরির কাজে হাত দেয়া হয়েছে।

দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনি ইশতেহার তৈরি হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হবে এবং নির্বাচন কমিশনে কারা আসছেন সেটার ওপর নির্ভর করছে ইশতেহারে প্রকাশের বিষয়টি। আমাদের প্রস্তুতি আছে এবং প্রস্তুতি আরো জোরেশোরে চলছে এটাকে পূর্ণাঙ্গ রুপরেখা দেয়ার জন্য। দলের কাউন্সিলে দেয়া ২০৩০ ভিশন সেটার আলোকপাত ও সংমিশ্রণ থাকবে ইশতেহারে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনের সময়ের ওপর নির্ভর করে ইশতেহার প্রকাশের বিষয়টি। কারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে নির্বাচনের আগেভাগে এটা দেয়া হয়। তাই সুনিদির্ষ্ট টাইম ফ্রেম বলা সম্ভব না।

ইশতেহার নিয়ে কাজ করছেন এমন এক নেতা জানান, যেসব বিষয়কে নির্বাচনি ইশতেহারে অগ্রাধিকার দেয়া হতে পারে তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ, খনিজ সম্পদ, পানি সম্পদ, আইন ও বিচার, স্থানীয় সরকার, প্রতিরক্ষা, নারী উন্নয়ন, শিশু কল্যাণ, যোগাযোগ ও গণপরিবহন, পরিবেশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান, শ্রমকল্যাণ, সমবায়, মানবাধিকার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সন্ত্রাস দমনের বিষয়গুলো।

জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহণে অভিজ্ঞ দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞগণের মতামত ও পরামর্শ নেয়ার বিষয়টিও নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ থাকতে পারে। ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে বিএনপি ৩৩ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার তিন মাসের মধ্যেই
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের ইশতেহার আগামী তিন মাসের মধ্যেই তৈরি হবে বলে জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

গত ১৫ জানুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

এর আগের দিন একই তথ্য জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ১৪ জানুয়ারি শনিবার বিকালে ধানমন্ডিতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সূচনা বক্তব্যে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন বলেন, ‘এখন সামনে ইলেকশন। তার জন্য ইশতেহার ঠিক করব। সেটা এখনই ঠিক করতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন থেকে সারাদেশে নির্বাচনের জন্য কাজ করবে দলের নেতাকর্মীরা। যদি কোথাও কোনো নেতাকর্মীর মধ্যে মতবিরোধ বা দলীয় কোন্দল তৈরি হয়, তাহলে এই কার্যালয়ে এনে এর সমাধান করা হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত