টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

স্কুলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ঠেকাতে মাঠে জেলা প্রশাসনের তদারকি টিম

এস এম ইব্রাহিম
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম, ১৯  জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যালয়ে সরকরি নির্দেশ অমান্য করে গলাকাটা ফি আদায় চলছেই। ভর্তি ফি, পূন:ভর্তি ফি, মাসকি বেতন, ছাড়পত্র ফিসহ নানা নামে এই ফি আদায় করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর সবকটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে বিরাজ করছে এই অবস্থা। এসব স্কুলের ফি নিয়ে অভিবাবকদের মাঝে চলছে অস্থিরতা। সবকটি বিদ্যালয়ে সরকারি বিধিমালার বাইরে পুনঃভর্তি, টিসি ফি, গাইড বই বা সহায়ক বই কেনার ফি দাবি করছেন বলে জানান শিক্ষার্থী ও তাদের অভিবাবকরা।

এ নিয়ে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায়ও এর কোনো প্রতিকার মেলেনি। এ বিষয়ে মতামত জানাতে গিয়ে শিক্ষাবিদ, শিক্ষা গবেষক, অর্থনীতিবিদ সবাই এক বাক্যে এই শিক্ষা বানিজ্যিকীকরণ বন্ধের কথা বলেছেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ঠেকাতে আজ বৃহ¯পতিবার থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের পাঁচটি টিম মাঠে নেমেছে। প্রতি টিমে ছয়জন করে সদস্য স্কুলে অভিযান চালাবে। অভিযানে যে সব স্কুল ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ফি আদায় করেছে সে অর্থ অভিভাবকদের ফেরত দিতে বাধ্য করার পাশাপাশি নতুন করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, টিমগুলোকে থানা ভিত্তিক এলাকা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি টিমের নেতৃত্বে থাকছেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ৬ সদস্যের টিমে অন্য সদস্যরা হলেন- থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একাডেমিক সুপারভাইজার, সহকারী ইনস্ট্রাকটর ও ক্যাবের একজন প্রতিনিধি।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান মুক্ত, শারমিন আক্তার, সাব্বির রহমান সানি, তৌহিদুল ইসলাম ও শেখ নুরুল আলম এ সব টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শুরু হওয়া এ অভিযান ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পাঁচটি বিষয়ে টিমগুলোকে তথ্য চাইতে বলা হয়েছে। ভর্তি ও পুনঃভর্তি, মাসিক বেতন, সেশন চার্জ, উন্নয়ন ফি ও ছাড়পত্র বাবদ প্রতিষ্ঠানগুলো কত টাকা আদায় করছে টিমগুলো এ সব তথ্য সংগ্রহ করবে। প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছে অর্থ আদায়ের রশিদ চাওয়া হবে। সন্দেহ হলে তা যাচাই-বাছাই করবে। শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সঙ্গেও কথা বলবে টিম। আর অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ফেরত দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনরা তাঁদের মতামতে বলেছেন, অনলাইনে ফি আদায় পদ্ধতি চালু করা হলে এ ধরনের আর্থিক নৈরাজ্য প্রতিরোধ হবে। এছাড়া সরকারি স্কুলের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও বলেছেন অনেকে। আবার কেউ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভাজন বন্ধ করে একে একীভ‚ত করার ওপর।

মতামত