টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলো সরকার

চট্টগ্রাম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: দ্বিতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ থেকে পিছু হটেছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়াই এর কারণ বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। এ কারণে এখনই তেলের দাম কমানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।’

ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গৃহীত ‘ইনস্টেলেশন অব ইআরএল ইউনিট-২’ নিয়ে চুক্তি সই উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী জানান, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি এই তেল পরিশোধন কোম্পানির প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা ১৫ লক্ষ মেট্রিক টন। এই ক্ষমতা দ্বিগুণ করতেই প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিপিসির নিজ অর্থায়নে ১৬ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ ২০১৮ সালের জানুয়ারি হতে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বছরে সরকারের দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

গত বছর ২৫ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম কমায় সরকার। এর মধ্যে অকটেন ও পেট্রল প্রতি লিটারে ১০ টাকা এবং ডিজেল ও কেরোসিন প্রতি লিটারে তিন টাকা করে কমায়। এই দাম কমলেও জনগণ এর সুফল পায়নি। কারণ, পরিবহন ভাড়া কমেনি এতটুকু।

এরপরও ২৯ সেপ্টেম্বর জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অক্টোবরের মধ্যেই আরেক দফা দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১৭ নভেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ঘোষণা দিয়েছিলেন, খুব শিগগির জ্বালানি তেলের দাম কমবে। ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হবে বলেও জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। তবে ওই বৈঠক আর হয়নি। আর গত ২৮ ডিসেম্বর মুহিত জানান, নানা কারণে এই বৈঠক করা যায়নি। জানুয়ারিতে এই বৈঠক হবে।

সেদিন মুহিত বলেন, জানুয়ারিতে এই বৈঠকটি হবে। তখন তার সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগ নেয়া হবে। কবে থেকে এবং কী হারে দাম কমবে-সেটি ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তিন সপ্তাহ পরে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত। এর কারণ হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কথা জানান। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মোর্চা ওপেক সম্প্রতি তেলের উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। আর এর পর থেকে তেলের দাম বাড়ছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেল ব্যারেল প্রতি বিক্রি হয়েছে ৫২ থেকে ৫৫ ডলার করে। গত দুই সপ্তাহে দাম বেড়েছে ২৭ থেকে ৪১ সেন্ট।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম দুই ধাপে কমানোর কথা ছিল। আমরা অনুমতির জন্য পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে সারাবিশ্বে তেলের দাম বেড়ে গেছে। বিশ্বব্যাংক আভাস দিয়েছে যে আগামী বছরেও তেলের দাম বাড়তে পারে। সে কারণে যে এ মুহূর্তে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দামের সমন্বয়ে না যাওয়ার।’

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা বাড়লেও এখনও সরকারের বেশ লাভ হচ্ছে। গত তিন বছরে বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশন লাভ করেছে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে সংস্থাটির পুঞ্জিভুত দেনা রয়ে গেছে অনেক। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনও ১৬/১৭ হাজার কোটি টাকা পাবে সরকার। এ টাকা শোধ করতে হবে।’-ঢাকাটাইমস

মতামত