টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যেন মৃত্যুকূপ!

চট্টগ্রাম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: অদক্ষ চালক, সড়ক ও ট্রাফিক আইন অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ফলে মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এ সড়কে প্রায় প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় আকারের দুর্ঘটনা। যার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। সাধারণ যাত্রীরা মনে করেন, গাড়ি চালকদের অসর্তকতা ও অসচেতনতা হাইওয়েতে দুর্ঘটনা বাড়ার প্রধান কারণ।

হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৫ দিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ৪৫ প্রাণ। যা দিন দিন আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জেলার বিশিষ্টজনরা।

গত ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ দয়াপুর এলাকায় পিকআপ ও ট্রাকের সংঘর্ষে হাঁস ব্যবসায়ী দুই সহোদরসহ চারজন নিহত হন।তাদের সবার বাড়ি ছিল মৌলভীবাজার জেলায়। ১৪ জানুয়ারি শনিবার ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কের দাউদকান্দি জিংলাতলী খালে পড়ে একই পরিবারের ২ সহোদরসহ ৬ জন নিহত হন, এতে আহত হন ২৭ জন। নিহত সবার বাড়ি নীলফামারী জেলায় এবং ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকাগামী একটি ইজতেমা যাত্রীবাহী বাস দাউদকান্দি দৌলতপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৩০ আহত হন। এঘটনায় পরবর্তী সময়ে এক ইজতেমা যাত্রী নিহত হন। এছাড়াও ওই ২৫ দিনে বাবা-ছেলে, মা-ছেলে, দুই বোন, বাবার কোলে ছেলেসহ প্রায় ১৫টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন হওয়ার পর অদক্ষ চালকের বেপোরোয়া গতি, সড়ক ও ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ফোরলেনের উল্টোবাঁক না দেখে খেয়াল খুশিমতো ওভারটেক করাসহ বিপদজনক বাঁকে চালকদের অসর্তকতার কারণেই দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। এসব দুর্ঘটনার কারণেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কে এখনও যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রী মো. আমানউল্লাহ ও শাহাজান ভূঁইয়া জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে! এতে করে জনগণের মনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করি ড্রাইভিংয়ের সময় চালকদের ফোনে কথা বলা এবং সিগারেট খাওয়া রোধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জরুরি। এমনকি অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি, সড়ক ও ট্রাফিক আইন অমান্য করা চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক আইন করা উচিত। না হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে দিনের পর দিন প্রাণ ঝরতেই থাকবে।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা হাইওয়ে’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ জানান, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ জেলার বিভিন্ন মহাসড়কগুলোর দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে অবশ্যই চালককে সচেতন হতে হবে। কারণ, একটি গাড়ি চালাতে হলে চালককে যেসব বিধি-বিধান মেনে চলতে হয়, সেগুলো তারা মানছে না। এতে করে দুর্ঘটনার পরিমাণ বাড়ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দিনের পর দিন যেভাবে দুর্ঘটনা বাড়ছে এগুলো কমিয়ে আনতে হলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন পরিহার করতে হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত