টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানিকছড়িতে পে-অর্ডার জালিয়াতির ঘটনায় তোলপাড়!

দীর্ঘদিন পর টেন্ডার উন্মুক্ত হওয়ায় ৩লক্ষাধিক টাকার সিডিউল বিক্রি

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরাধীন অর্থায়নে মানিকছড়ির তৃণমূলে সেতু ও কালর্ভাট নির্মাণের ৮৭ লক্ষ টাকার ৪ প্রকল্পে দাখিলকৃত টেন্ডার সিডিউলে পে-অর্ডার জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে! বিষয়টি জানাজানির ফলে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ দিন পর দরপত্র বিক্রি ও জমা‘ওপেন’ হওয়ায় কয়েক লক্ষ টাকার সিডিউল বিক্রি হয়েছে। এতে সরকারের কোষাগারে বিপুল পরিমান টাকা আয় হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরাধীন অর্থায়নে মানিকছড়ির তৃণমূলে সেতু ও কালর্ভাট নির্মাণে উপজেলা ‘গিলাতলী পাড়া-শান্তিরহাট বাজার যাওয়ার রাস্তার খালের ওপর সেতু’নির্মাণে ৩২ লক্ষ ৫২হাজার ৬শত ৫৩ টাকা। ‘দশবিল-আছারতলী যাওয়ার রাস্তার ছড়ার ওপর সেতু’নির্মাণে ২৫লক্ষ ৭৪ হাজার ৭শত ২২ টাকা। চেঙ্গুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-বড়বিল রাস্তায় সেতু’নির্মাণে ১৪লক্ষ ৫০ হাজার ৬শত ০৫ টাকা।‘তিনটহরী বাজার-চেঙ্গুছড়া যাওয়ার রাস্তায় মোনাবের দোকানের পাশ্বে সেতু’নির্মাণে ১৪লক্ষ ৫০ হাজার ৬শত ০৫ টাকা। উক্ত ৪টি প্রকল্পে মোট ৮৭লক্ষ ২৮ হাজার ৫শত ৮৫ টাকা ব্যয়ে সম্প্রতি দরপত্র আহবান  করেন সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ দিন ধরে মানিকছড়িতে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পগুলো দলীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলেও প্রশাসনের কারণে এবার সেটি সম্ভব হয়নি! ফলে গত ২৯ ডিসেম্বর-২০১৬ তারিখে দাখিলকৃত দরপত্রগুলো কোন বাঁধা বিপত্তি ছাড়াই জমা দিয়েছে ঠিকাদাররা। যার কারণে ৪টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩১৫টি সিডিউল দাখিল হয়েছে। আর এতে সরকারের কয়েক লক্ষ টাকা আয় হয়েছে। দাখিলকৃত সিডিউলগুলো গত ১ সপ্তাহ ধরে বাছাইকালে সিডিউলের সাথে দাখিলকৃত একই ক্রমিক নাম্বার একাধিক পে-অর্ডারে থাকায় বিষয়টি বাছাই কমিটির সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে পে-অর্ডার যাছাই করার জন্য ইউএনও লিখিত নির্দেশ দেয়। ফলে সোনালী ব্যাংক মানিকছড়ি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে পে-অর্ডার যাছাই শুরু করেন। এতে বেড়িয়ে আসে পে-অর্ডার জালিয়াতির ঘটনা! এতে দেখা যায় ৪২ লক্ষ ৭ হাজার ৬শত টাকার বিপরীতে ৪৩টি পে-অর্ডার জাল বলে সনাক্ত করা হয়। এ ব্যাপারে মানিকছড়ি সোনালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক বিমলেন্দু বিকাশ চাকমা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, টেন্ডার বাছাই কমিটির সর্তকতার কারণে এ জালিয়াতি উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। অন্যথায় ব্যাংক বিশাল একটি ঝামেলায় পড়তে হতো। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আবদুল জব্বার বলেন, দাখিলকৃত সিডিউলে যাছাই-বাছাইয়ের সময় একই নাম্বারে একাধিক পে-অর্ডার থাকায় বিষয়টি সন্দেহ হয়। ফলে স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে বিষয়টি যাছাই করার জন্য প্রেরণ করা হয়। এতে এ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এখন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে পে-অর্ডার জালিয়াতির ঘটনা আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. আতিউল ইসলাম লিখিতভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক, রাঙ্গামাটিকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিনিতা রানী এ প্রসঙ্গে বলেন, পে-অর্ডার জাতিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত