টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পতেঙ্গায় বিনোদনে আসা দর্শনার্থীরা ভোগান্তির শিকার

আল-আমিন সিকদার
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস

চট্টগ্রাম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস):: : ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের জন্য বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন শহর হিসেবে চট্টগ্রামের পরিচিত রয়েছে ব্যাপক। আর তাই চট্টগ্রামের পাহাড়-পর্বত, নদী ও সমুদ্রকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অনেক পর্যটন কেন্দ্র। ভ্রমণ পিপাসুরা মনের হতাশা কাটাতে পরিবার পরিজনকে নিয়ে আসে প্রকৃতির রূপ বিনিময় করতে।

পর্যটকদের মূল আকাঙ্খা হল পর্যটন কেন্দ্র গুলোর সাথে নিজেদেরকে পরিচিয় করে নেওয়া, হোক তা যে কোনো কিছিুর বিনিময়ে। পর্যটকদের এমন দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পর্যটনকেন্দ্র গুলোর উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রির নামে প্রতারনার মধ্য দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মানিব্যাগের প্রায় শেষ পয়সাটিও।

তেমনি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এসে দেখা যায় প্রতারণার পূর্ণ রুপ। পর্যটশরা সারাদিনের ক্লান্তিকর ভ্রমণের মধ্যাহ্ন বিরতি নিয়ে যখন সু-স্বাদু খাবারের মধ্যমে নিজেকে আর একটু চাঙ্গা করে নিতে ব্যস্ত ঠিক একইভাবে ব্যস্ত দোকানের মালিক অধিক টাকার বিল তৈরীতে। সামান্য এক প্লেট ফুসকা, নুডুলস ও একটি ক্যান খেয়ে বিল দিতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০৫০ টাকা।

শুধু খাওয়ার দোকান নয় আনন্দের সময়টুকু ক্যামরাবন্দী করতে হাতে ছোট বড় ডিজিটাল ক্যামেরা নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায় কিছু অসাধু লোকদের। আর তাদের কাজ হল পর্যটকদের ১ কপি ছবি তোলার নাম করে ১৫-২০ কপি পর্যন্ত ছবি তোলা এবং নিতে বাধ্য করা।

ঘোড়ায় চড়তে কে না চায়। তা যদি হয় আবার বিশাল সমুদ্রকে সাক্ষী রেখে। তাই বীচে এসে ঘোড়ার পিঠে চড়ার শেষ পরিনাম হয় খালি পকেট নিয়ে ঘোড়ার পিঠ থেকে নামা। ঘোড়ার মালিক কে দিতে হয় ৪০০-৫০০ টাকা বলে জানান পর্যটকরা। পর্যটকরা পর্যটনে এসে এমন স্মৃতি নিয়ে ফিরে যায় যা কখনো আর মনেও করতে চায় না তারা।

সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসা দিদার নামক এক দর্শনার্থী প্রতিবেদককে জানায়, এখানে খাবার নিয়ে চরম নৈরাজ্যের সৃষ্টি রয়েছে। প্রতিটি প্যাকেট জাত খাবারের মোড়কে মূল্য নির্ধারন করে দেওয়া হলেও বিক্রি করা হচ্ছে অধিক দামে। এছাড়াও এক কপি ছবি তোলার নাম করে কয়েক কপি তোলার পর জোড় পূর্বক নিতেও বাধ্য করা হয়।
সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিয়ে এমন নৈরাজ্য চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই এটা দর্শক বিমুখ স্থানে পরিনত হবে।

কথায় আছে শখের তোলা ৮০ টাকা তাই বলে শখের ভ্রমণে এসে পর্যটকরা কার শখ পূরণে ব্যস্ত জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোকান মলিকরা জানান, আমরা নিরুপায় কেননা দোকান ভাড়া হতে শুরু করে প্রতিদিন বিভিন্ন সংস্থাকে যে পরিমান টাকা প্রদান করতে হয় তা যোগাড় করতেই এসব কাজ করা হয।সংস্থাগুলোর নাম জিজ্ঞাসা করলে বলতে অস্বীকৃতি জানান।

বীচ রোডের পাশে অবৈধ ভাবে অনেক গুলো সিএনজি এলোপাতাড়ি ভাবে পার্কিং করে রাখা হয়। সৃষ্টি হয় প্রতিনিয়ত লম্বা জ্যাম আর যার ফল ভোগ করতে হয় অসহায় পর্যটকদের পার্কিং নয় জানার পরেও পুলিশের নাকের ডগার উপর রাখা আছে শত শত সিএনজি।

প্রশাসন বিভাগকে এতটা তুচ্ছ করার মূল রহস্য হল সিএনজি প্রতি ১০ টাকা। ১০ টাকা দিয়ে এখানে তাদের অবৈধভাবে পার্কিং এর মূল লক্ষ্য হল ৫০-১০০ টাকার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা বলে জানান এক সিএনজি চালক।

বীচে ঘটতে থাকা এত গুলো অনিয়ম ও পর্যটকদের হয়রানি এবং পর্যটনকেন্দ্রের ভাবমূর্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কাশেমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সিটিজি টাইমসকে জানায়, এসব ব্যাপারে সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বীচে ঘটতে থাকা অনিয়ম গুলো হয়ত চলছে বলে স্বীকার করলেও সিএনজি পার্কিং নিয়ে উঠা ১০ টাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানান তিনি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত