টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নির্বাচনে অংশ নিতে ছয় শর্ত বিএনপির

চট্টগ্রাম, ১৩  জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  আগামী নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন প্রত্যাশার জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম মোট ছয়টি শর্তের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তো নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা হতে পারে।’

শুক্রবার বিকালে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপি নেতা। বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের তিন বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের জবাব দিতেই এই সংবাদ সম্মেলন করেন ফখরুল।

দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত জোট বর্জন করলেও আগামী নির্বাচনে সব দল আসবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী। আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবেন।’

এর জবাবে বিএনপি নেতা ফখরুল, একটি ‘নিরপেক্ষ, সাহসী, যোগ্য নির্বাচন কমিশন’ গঠনের পাশাপাশি ছয়টি শর্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি বাকি যেসব শর্তের কথা বলেছেন, সেগুলো হলো- ‘১. বিরোধী দল নির্মূল করার যে প্রক্রিয়া চলছে তা বন্ধ করতে হবে। ২. সকল রাজনৈতিক নেতাকে মুক্তি দিতে হবে। ৩.মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ৪. সভা, মিছিল, সমাবেশ করার সমান সুযোগ দিতে হবে। ৫. গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিতে হবে।

ফখরুল বলেন, ‘এক কথায় একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ, রাজনীতিকে তার স্বাভাবিক চলার পথে চলতে দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সংকট উত্তরণে কোনো দিক নির্দেশনা নেই বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতে দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিলো প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে এই সংকট চিহ্নিত করবেন এবং তা নিরসনের পথের সন্ধান দেবেন। সেটাই ছিলো তাঁর জন্য রাষ্ট্রনায়কোচিত কাজ।’

সরকারের কঠোর সমালোচনা

বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে বলেও দাবি করেন ফলরুল। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষিত, জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতৃাদেরকে মিথ্যা মামলায় জালে জড়িয়ে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া,গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, বিচার বিভাগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘ক্রসফায়ার, বিচার বহির্ভূত হত্যা,গুম, খুন, পুলিশি হেফাজতে হত্যা, মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হয়রানী,দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অসহনীয় করে ফেলেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে উন্নয়নের নামে বর্তমান সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত। আইনের শাসন অনুপস্থিত। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। দেশে এখন স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই।

দেশের ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তার কারণে রাজনৈতিক সংকট ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে দাবি করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। বিরোধী দল কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে না। রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। ডেমোক্রেটিক স্পেস ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘সরকারের রথি মহারথিরা গণতন্ত্রের চাইতে উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়ার নামে সকল সামাজিক চুক্তি ভঙ্গ করে জনগণকে শৃংখলিত করছে। উন্নয়নের নামে চলছে বল্গাহীন লুন্ঠন। দেশে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী অলিগার্কি।’

‘জঙ্গিবাদ প্রকৃত পক্ষেই বাংলাদেশের স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করছে’- বলে মনে করেন ফখরুল। বলেন ‘দলীয় সংকীর্ণতার উদ্ধে ওঠে এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছিলো সময়ের প্রয়োজন। অথচ তা না করে বিরোধী দলকে দায়ী করে বিভক্তি সৃষ্টি জঙ্গিবাদকে আরো প্রশ্রয় দিচ্ছে।’

জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে প্রকৃত সত্য অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে বলেও মনে করেন ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত