টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শতবর্ষ পূর্তির উল্লাসে মাতবে রোসাংগিরী উচ্চ বিদ্যালয়

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

চট্টগ্রাম, ১০  জানুয়ারি ২০১৭ (সিটিজি টাইমস)::  সেই ১৯১৭ সালের কথা। আজ থেকে এক শত বছর পূর্বে উপ-মহাদেশে যখন বিট্রিশ শাসনামল চলছিল; তখনই অজপাঁড়া গায়ে, হালদার পাড় ঘেষে প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে একদল সমাজ হিতৈষী রোসাংগিরী গ্রামে গড়ে তুলেন জ্ঞান বিতরণের ঘর রোসাংগিরী উচ্চ বিদ্যালয়। তখনকার সমাজ হিতৈষী গুরুদাশ শীল তারই কাকাতো ভাই কালীকুমার শীলের দান করা বিশাল জায়গায় এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। এ সময় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় আরো যারা ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম জগদদ্ধ মুহুরী, চন্দ্র কুমার দেব, শ্রীরোদচন্দ্র চৌধুরী, নবীন চন্দ্র দাস, রাজ চন্দ্র দেব, নহিন চন্দ্র দে, বরণা চরণ সরকার, শ্রীহীরেন্দ্র লাল দে, প্রাণহরি সেন, শ্রীযুক্ত জীতেন্দ্র নারায়ন চৌধুরী ও আরবান আলী সওদাগর।

প্রকৃতির অপার রূপের চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হালদা নদীর পাশ ঘেষে দাড়িয়ে থাকা শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটি এখন আলোকিত মানুষ তৈরীর প্রাণকোষ। রোসাংগিরী গ্রামের এ বিদ্যালয়টি কালের সাক্ষী হয়ে স্বগৌরবে জ্ঞানের আলো বিকিরণ করে যাচ্ছে অধ্যবদি। শতবর্ষ পূর্তির উল­াসে মাতবে রোসাংগিরী উচ্চ বিদ্যালয়। শতাব্দী পূর্তির এই শুভক্ষণে হাজির হবেন অতিত ছঁড়ানো হাজারো শিক্ষার্থী। তিনদিন ব্যাপী আায়োজন শুরু হবে বৃহস্পতিবার থেকে। রঙ্গিন সাজে সাঁজছে ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়। প্রাণের উচ্ছ¡াসে মিলবে এ মিলনমেলা।

শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের কার্যকরী সভাপতি ও রোসাংগিরী ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম শোয়াইব আল সালেহীন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হবে শতবর্ষ পূর্তির আনুষ্টানিকতা। ওই দিন শীতার্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ও পরিবেশ বান্ধব বৃক্ষরোপন কর্মসূচি করা হবে। দ্বিতীয় দিন বেলুন ও শান্তির প্রতিক পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন করবেন আলোচনা সভার উদ্বোধক সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। প্রধান অতিথি থাকবেন, পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রধান আলোচক থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, পিএইচপি গ্র“পের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও তরিকত ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ তৈয়বুল বশর মাইজভান্ডারী। সমাপনি অনুষ্ঠানের দিন আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন, চট্টগ্রাম ভেটেরনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য ড.গৌতমবুদ্ধ দাশ, মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সাহেদা ইসলাম।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সৈয়দ তৈয়বুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, শতবর্ষ উৎসবকে শতভাগ সফল করতে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সকলের সম্বিলিত প্রচেষ্টায় আশা করি অনুষ্ঠানটি অপরাপর শতবর্ষ অনুষ্ঠানের চেয়ে ব্যতিক্রম এবং অনেকদিন মনে রাখার মতো অনুষ্ঠান হবে।

বিদ্যালয়টির ১৯৮৪ ব্যাচের ছাত্র শম্ভু কুমার শীল বলেন, শতবর্ষী বিদ্যাপীঠটি বছর কাল পেরিয়ে মহীরুপ আকার ধারণ করেছে। আগামী তিনদিন হাজার প্রাণের মেলা বসবে এ প্রতিষ্ঠানে।

ফিরে যাব সেসব দিনে; যেখানে মিশে আছে শৈশবের স্মৃতিমাখা দিনগুলো। বহুদিন পর বন্ধুদের দেখা পাবো এ মিলনামেলায় । অধির অপেক্ষায় প্রহর গুনছি এ সময়টার জন্য বহু দিন ধরে । এভাবে নিজের শতবর্ষ পূর্তি উৎসবের অনুভূতি প্রকাশ করলেন রোসাংগিরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৮ ব্যাচের বেলাল উদ্দিন আকাশ।

কামরুল হাসান নামক অপর এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন, বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উৎসবকে কেন্দ্র করে নতুন উম্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে।’

মতামত